রিসোর্স
ইসলামি বিশ্বের মানচিত্র: ২০২০ সালের মুসলিম জনসংখ্যা ও দেশভিত্তিক হার
২০২০ সালের হিসাবে দেশভিত্তিক মুসলিম জনসংখ্যা, অনুপাত ও ওআইসি সদস্যপদ বুঝুন। দশ দেশের সারণি, উৎস ও অনুমানের সীমা একসঙ্গে।

বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা, ২০২০
প্রায় ২০০ কোটি
বিশ্বের মোট জনসংখ্যায় অংশ, ২০২০
২৫.৬%
বৈশ্বিক মুসলিমদের এশিয়া-প্যাসিফিক অংশ, ২০২০
প্রায় ৫৯%
ওআইসির আনুষ্ঠানিক সদস্য রাষ্ট্র
৫৭টি
সরাসরি উত্তর: ইসলামি বিশ্বের মানচিত্রে মুসলিমদের মোট সংখ্যা, দেশের জনসংখ্যায় তাদের অংশ, সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ও অঞ্চল এবং ওআইসির সদস্যপদ আলাদা করে পড়তে হয়। পিউয়ের হিসাবে ২০২০ সালে বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম ছিলেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৫.৬%; প্রায় ৫৯% বাস করতেন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে। সংখ্যায় ইন্দোনেশিয়া প্রথম, আর ভারতে মুসলিমরা সংখ্যালঘু হলেও মোট সংখ্যায় দেশটি তৃতীয়।
নিচের দশ দেশের সারণি একই ২০২০ সালের অনুমান ব্যবহার করে। সঙ্গে আছে উৎস, অঞ্চলের সংজ্ঞা, ধর্মীয় পরিচয় মাপার সীমা ও গোল করা মানের ব্যাখ্যা। গবেষণা প্রকাশ, নতুন সূচক যোগ করা ও এই পাতার সম্পাদনার তারিখ বৈশ্বিক জনসংখ্যার নতুন তাৎক্ষণিক গণনা নয়।
চার ধরনের মানচিত্র, চারটি প্রশ্ন
ইসলামি বিশ্বের মানচিত্র বলতে সব সময় একই সীমানা বা একই ধরনের তথ্য বোঝায় না। একটি মানচিত্র দেশে দেশে মুসলিমদের মোট সংখ্যা দেখায়। আরেকটি দেখায় দেশের বাসিন্দাদের মধ্যে মুসলিমদের শতকরা অংশ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার মানচিত্র একটি সীমা ধরে দেশ ও অঞ্চলকে ভাগ করে। ওআইসির সদস্য মানচিত্রে আবার একটি আন্তঃসরকারি সংস্থার আনুষ্ঠানিক তালিকা ব্যবহৃত হয়। একই রং ব্যবহার করলেই এই চারটি প্রশ্ন এক হয়ে যায় না। মানুষ কোথায় বাস করে জানতে চাইলে সংখ্যার মানচিত্র দরকার। স্থানীয় জনসংখ্যায় তাদের অংশ কত জানতে চাইলে অনুপাত দেখতে হবে। কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ রাঙানো থাকলে ভারতের মতো বিশাল মুসলিম সংখ্যালঘু জনসংখ্যা চোখ এড়াতে পারে। কোনো রাষ্ট্র ওআইসির সদস্য কি না, সেই তথ্য দিয়েও তার মুসলিম বাসিন্দার সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। ইতিহাসের কোনো সাম্রাজ্যের মানচিত্র এই আধুনিক শ্রেণিগুলোর আরেকটি বিকল্প নয়। এখানে আধুনিক জনসংখ্যার জন্য পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২০ সালের তুলনাযোগ্য অনুমান ব্যবহার করা হয়েছে। আগে মানচিত্রের বিষয়, সাল, ভৌগোলিক একক ও উৎস মিলিয়ে দেখুন, তারপর রঙের অর্থ ব্যাখ্যা করুন। ধর্মীয় পরিচয়ের হিসাব থেকে প্রত্যেক মানুষের ধার্মিকতা, জাতিগত পরিচয়, আইন সম্পর্কে মতামত বা রাজনৈতিক সমর্থন জানা যায় না। দেশের অনুপাত দিয়েও প্রতিটি শহর বা পাড়ার চিত্র বর্ণনা করা চলে না।
- মোট সংখ্যা: একটি দেশে আনুমানিক কত মুসলিম বাস করেন।
- দেশীয় অনুপাত: সেই দেশের মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ মুসলিম।
- সংখ্যাগরিষ্ঠতা: উৎসের হিসাবে মুসলিমরা স্থানটির অর্ধেকের বেশি কি না।
- সদস্যপদ ও ঐতিহাসিক সীমানা: যথাক্রমে সংস্থার তালিকা ও নির্দিষ্ট সময়ের প্রমাণ দেখুন।
কোন সালটি জনসংখ্যার, কোনটি প্রকাশনার
এই পাতার দেশভিত্তিক সংখ্যার তথ্যবর্ষ ২০২০। পিউ ২০১০ থেকে ২০২০ সালের বৈশ্বিক ধর্মীয় গঠন নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ৯ জুন। দেশ তুলনা করার সরঞ্জাম ও ডেটাসেটের ব্যাখ্যায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সূচক যোগ করার কথা আছে। গবেষণা প্রকাশ, সূচক সংযোজন ও জনসংখ্যার তথ্যবর্ষ তিনটি আলাদা বিষয়। একটি নতুন সূচক যোগ হওয়া মানে সেদিন সব দেশের মুসলিমদের সংখ্যা আবার মাপা হয়েছে, এমন নয়। গবেষণায় ২০১টি দেশ ও অঞ্চল এবং ২,৭০০টির বেশি আদমশুমারি, জরিপ ও অন্যান্য তথ্যসূত্র ব্যবহৃত হয়েছে। মোট জনসংখ্যা ও সাধারণ জনমিতির ভিত্তি এসেছে জাতিসংঘের বিশ্ব জনসংখ্যা সম্ভাবনা সংক্রান্ত ২০২৪ সালের সংশোধিত সংস্করণ থেকে। ২০২৪ এখানে সংস্করণের বছর। সেই সংস্করণেও ২০২০ সালের মোট জনসংখ্যার অনুমান আছে; তাই সংস্করণের সাল ও হিসাবের সাল এক হতে হবে না। কোনো সারণি উদ্ধৃত করলে “২০২০ সালের অনুমান” এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নাম রাখুন। গবেষণাটি কখন প্রকাশিত হয়েছে বা আপনি কখন দেখেছেন, সেগুলো প্রয়োজনে আলাদা করে লিখুন। এই পাতার সম্পাদনার সময়ও নতুন তথ্যবর্ষ তৈরি করে না। পুরোনো ধর্মীয় অনুপাতকে ২০২৬ সালের মোট জনসংখ্যা দিয়ে গুণ করলে আরেকটি অনুমান তৈরি হতে পারে, কিন্তু সেটিকে পিউয়ের ২০২০ সালের হিসাব বা ২০২৬ সালের নতুন ধর্মীয় আদমশুমারি বলা যাবে না।
জনসংখ্যার কেন্দ্র বুঝতে এশিয়া ও আফ্রিকাকে দেখুন
পিউয়ের হিসাবে ২০২০ সালে বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম ছিলেন, অর্থাৎ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫.৬%। বৈশ্বিক মুসলিমদের প্রায় ৫৯% বাস করতেন গবেষণায় ব্যবহৃত এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে; সংখ্যায় প্রায় ১২০ কোটি। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় প্রায় ৪১.৪ কোটি, যা বৈশ্বিক মুসলিমদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সাহারার দক্ষিণের আফ্রিকায় প্রায় ৩৬.৯ কোটি, বা প্রায় ১৮%। এগুলো একই তথ্যবর্ষের আনুমানিক মান, বর্তমান মুহূর্তের গণনা নয়। এশিয়া-প্যাসিফিকের ৫৯% বলতে ওই অঞ্চলের সব বাসিন্দার মধ্যে মুসলিমদের অংশ বোঝানো হয়নি। এখানে ভাগের ভিত্তি বিশ্বের সব মুসলিম। ভারতের ১৫.২% সংখ্যাটির ভিত্তি আবার ভারতের মোট জনসংখ্যা। দুটি শতাংশকে পাশাপাশি রাখলে এই ভিন্ন ভিত্তি স্পষ্ট করতে হবে। একইভাবে বিশ্ব জনসংখ্যায় মুসলিমদের অংশ আর কোনো অঞ্চলে বৈশ্বিক মুসলিমদের অবস্থান এক ধরনের অনুপাত নয়। উৎসের আঞ্চলিক শ্রেণিবিভাগ পরিচিত ভূগোলের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। পিউয়ের এই গবেষণায় ইরান ও তুরস্ক এশিয়া-প্যাসিফিকের অন্তর্ভুক্ত। সুদান ভৌগোলিকভাবে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায়, কিন্তু এই পরিসংখ্যানে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দলে রয়েছে। সুদানকে সাহারার দক্ষিণের আফ্রিকায় সরিয়ে দিয়ে পিউয়ের পুরোনো আঞ্চলিক মোট ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কোনো দেশের অবস্থান ও গবেষকের হিসাবের দলে তার অন্তর্ভুক্তি আলাদা করে জানালে তুলনাটি বোঝা সহজ হয়।
প্রথম দশ দেশের তালিকা কী জানায়
নিচের সারণি ২০২০ সালের অনুমান অনুযায়ী মুসলিমদের মোট সংখ্যা বড় থেকে ছোট ক্রমে সাজায়। ইন্দোনেশিয়ায় ছিল প্রায় ২৩ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার মুসলিম। পাকিস্তানে প্রায় ২২ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার এবং ভারতে প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার। বাংলাদেশের মান প্রায় ১৫ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার। নাইজেরিয়া, মিসর, ইরান, তুরস্ক, সুদান ও আলজেরিয়া নিয়ে প্রথম দশের তালিকাটি সম্পূর্ণ হয়। এই দশ দেশে বৈশ্বিক মুসলিমদের প্রায় ৬৫% বাস করতেন। এর মধ্যে ছয়টি দেশ পিউয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে। তাই মুসলিম জনসংখ্যার কেন্দ্র বোঝাতে কেবল মধ্যপ্রাচ্য দেখালে গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পড়ে। তবে এই তালিকা কোনো দেশের ধর্মীয় একরূপতা, শাসনব্যবস্থা বা মানুষের বিশ্বাসের তীব্রতার ক্রমতালিকা নয়। এটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় অনুমান করা বাসিন্দাদের সংখ্যার তুলনা। প্রকাশিত সংখ্যাগুলো উৎসের নির্ধারিত নির্ভুলতার স্তরে দেখানো হয়েছে। ২৩,৮৯,৯০,০০০ লেখা মানে প্রত্যেক ব্যক্তিকে আলাদা করে নিশ্চিত করা হয়েছে, এমন নয়। সংখ্যা, শতকরা অংশ ও মোট জনসংখ্যা আলাদাভাবে গোল করা হতে পারে। অন্য কোনো বছরের তালিকা দেখে পার্থক্যকে সরাসরি অভিবাসন বা ধর্মান্তরের ফল বলার আগে তথ্যবর্ষ, মাপার পদ্ধতি ও সংশোধিত উৎস মিলিয়ে নিতে হবে। দেশের মোট হিসাব কোনো ছোট এলাকার সমানুপাতিক ছবি দেয় না।
সংখ্যালঘু হয়েও বড় জনসংখ্যা: ভারতের উদাহরণ
২০২০ সালের হিসাবে ভারতের বাসিন্দাদের প্রায় ১৫.২% মুসলিম, কিন্তু সংখ্যায় তা প্রায় ২১.৩ কোটি মানুষ। এই সারণিতে ভারত তৃতীয় স্থানে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার মানচিত্রে দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত না হলেও বিশাল এই জনগোষ্ঠী জনসংখ্যার মানচিত্র থেকে বাদ দেওয়া যায় না। একটি অনুপাত আর একটি মোট সংখ্যা মানুষের অবস্থান সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য দেয়। একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক উদাহরণে বিষয়টি আরও পরিষ্কার। ক দেশে মোট ১ কোটি মানুষ এবং মুসলিমদের অংশ ৮০% হলে মুসলিমের সংখ্যা ৮০ লাখ। খ দেশে মোট ১০ কোটি মানুষ এবং মুসলিমদের অংশ ১০% হলে মুসলিমের সংখ্যা ১ কোটি। খ দেশে মুসলিমরা সংখ্যালঘু, তবু তাদের মোট সংখ্যা বেশি। এই মানগুলো শুধু হিসাব বোঝানোর জন্য; কোনো বাস্তব দেশের পর্যবেক্ষণ বা নিচের সারণির নতুন তথ্য নয়। দেশীয় অনুপাত থেকে স্থানীয় অনুপাতও জানা যায় না। নাইজেরিয়ার ৫৬.১% জাতীয় অনুমান দিয়ে প্রতিটি প্রদেশ বা শহরের ধর্মীয় গঠন বোঝানো যায় না। কোনো পাড়া, শরণার্থী বসতি বা অভিবাসী সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করলে সেই ভৌগোলিক মাত্রার তথ্য খুঁজতে হবে। নমুনা, সংজ্ঞা ও তথ্যবর্ষও দেখতে হবে। দেশের সীমানা বড় করে আঁকা এবং তার মধ্যে একই রং ভরাট করা বাস্তব মানুষের সমান বণ্টনের প্রমাণ নয়।
৫৩টি সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থান ও ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্র
পিউ ২০২০ সালের জনসংখ্যার অনুমান থেকে ৫৩টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ও অঞ্চল গণনা করেছে। অন্যদিকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, সংক্ষেপে ওআইসি, আনুষ্ঠানিক তালিকায় ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্র দেখায়। প্রথম সংখ্যাটি স্থানটির অর্ধেকের বেশি বাসিন্দা মুসলিম কি না, সেই জনমিতিক শ্রেণির হিসাব। দ্বিতীয়টি একটি আন্তঃসরকারি সংস্থার সদস্যপদের হিসাব। ভিন্ন নিয়ম ও ভিন্ন এককের এই দুই মোটকে একই সীমানা ধরে পড়া ঠিক নয়। ওআইসি সনদের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর অংশ নতুন আবেদনকারীর শর্ত নির্ধারণ করে। আবেদনকারী রাষ্ট্রকে জাতিসংঘের সদস্য হতে হবে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা থাকতে হবে এবং সনদ মেনে চলতে হবে। সদস্যপদ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদে ঐকমত্যের ভিত্তিতে। একই অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর অংশ বিদ্যমান সদস্যদের সদস্যপদের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখে। নতুন আবেদনের শর্তকে সব পুরোনো সদস্যের জন্য নতুন জনসংখ্যা যাচাইয়ের নিয়ম হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না। সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে সার্বভৌমত্ব, সমতা, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার নীতিও আছে। ওআইসি ৫৭টি দেশকে একটি রাষ্ট্রে রূপান্তর করে না এবং বৈশ্বিক ধর্মীয় আদমশুমারিও পরিচালনা করে না। কোনো দেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্য হয় না। কূটনৈতিক সহযোগিতা জানতে সদস্য তালিকা, আর মানুষ কোথায় কতজন বাস করেন জানতে জনসংখ্যার তথ্য ব্যবহার করুন। সংস্থার বর্তমান তালিকা ও ২০২০ সালের জনসংখ্যার সারণি একই তারিখের দাবি নয়।
বৃদ্ধি, ধর্মান্তর ও অভিবাসনের ভিন্ন হিসাব
পিউয়ের অনুমানে ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা নিট প্রায় ৩৪.৭ কোটি বেড়েছে, বৃদ্ধির হার প্রায় ২১%। গবেষণায় তুলনা করা প্রধান ধর্মীয় জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি। ব্যাখ্যায় কম বয়সী জনসংখ্যা এবং তুলনামূলক বেশি প্রজননহারের ভূমিকা বড়। বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মোট সংখ্যায় ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের নিট প্রভাব তুলনামূলক ছোট। তাই নিট বৃদ্ধিকে নতুন ধর্মান্তরিত মানুষের সংখ্যা হিসেবে লেখা ভুল। জন্ম, মৃত্যু, বয়সের গঠন ও ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তন আলাদা প্রক্রিয়া। দেশ বা অঞ্চলের হিসাবে অভিবাসনও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। একজন মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে গেলে গন্তব্যে মুসলিমের সংখ্যা বাড়তে এবং উৎসস্থানে কমতে পারে। কিন্তু শুধু স্থান বদলানোর ফলে পৃথিবীতে একজন অতিরিক্ত মুসলিম তৈরি হন না। অভিবাসন জনসংখ্যার অবস্থান বদলায়; বিশ্ব মোটের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্থানীয় বৃদ্ধির সম্পর্কের মতো নয়। সুতরাং দেশ, অঞ্চল ও বিশ্ব—এই তিন মাত্রায় “বৃদ্ধি” কথাটির কারণ একই ধরে নেবেন না। একটি দেশের পরিবর্তন বুঝতে জন্ম-মৃত্যু, আগমন-প্রস্থান এবং তথ্যের সংজ্ঞা বা সংশোধন একসঙ্গে দেখতে হয়। বিশ্ব মোট বুঝতে বিভিন্ন দেশের আগমন যোগ করে প্রস্থানের অংশ বাদ দিলে একই মানুষকে বাড়তি হিসেবে গণনা করা হতে পারে। এখানে প্রায় ২১% দশ বছরের পরিবর্তন; এটি বার্ষিক হার বা পরের দশকেও একই ফল হবেই, এমন পূর্বাভাস নয়।
ইরানের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় কীভাবে মাপা হয়েছে
সারণিতে ইরানের মুসলিম জনসংখ্যার অংশ ৯৯.৮% রাখা হয়েছে, যা পিউয়ের ২০২০ সালের অনুমানের মান। এই সংখ্যা পড়তে গবেষণাটির ইরানবিষয়ক পদ্ধতি দেখা জরুরি। আনুষ্ঠানিক আদমশুমারিতে নথিবদ্ধ ধর্মীয় পরিচয়, ব্যক্তির নিজের পরিচয় সম্পর্কে গোপন জরিপের উত্তর এবং ধর্মচর্চার আচরণ একই বিষয় নয়। খুব উঁচু অনুপাত দেখে প্রত্যেক মানুষ একইভাবে বিশ্বাস বা ধর্মচর্চা করেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পিউ আনুষ্ঠানিক তথ্যের সঙ্গে গামান বা GAMAAN-এর পরিচয় গোপন রাখা অনলাইন জরিপের বড় পার্থক্য আলোচনা করেছে। ওই অনলাইন গবেষণা সম্ভাবনাভিত্তিক নমুনা নয়। স্বাধীনভাবে ফল পুনরুৎপাদনের সীমা আছে এবং ২০১০ থেকে ২০২০ তুলনার জন্য একই পদ্ধতির ২০১০ সালের ভিত্তিও নেই। এই তুলনাযোগ্য অনুমানের ধারায় পিউ তাই আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় পরিচয়ের তথ্য ব্যবহার করেছে। অন্য সংজ্ঞার জরিপ থেকে একটি শতাংশ এনে এই সারণিতে বসালে একই তথ্যধারার ছোট সংশোধন হবে না। এই সীমা দিয়ে সব গোপন জরিপকে অর্থহীন বলা হচ্ছে না, আবার আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ব্যক্তির বিশ্বাসের সম্পূর্ণ ছবি দেয়, এমনও নয়। গবেষণার প্রশ্ন, নমুনা ও সময়ের ভিত্তি আলাদা করে মূল্যায়ন করতে হয়। এখানে ৯৯.৮% দিয়ে নিয়মিত উপাসনা, ধার্মিকতার মাত্রা, রাজনৈতিক মত বা ধর্মীয় আইন সম্পর্কে পছন্দ মাপা হয়নি। সেসব প্রশ্নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় মাপে এমন গবেষণা এবং তার নিজস্ব সীমা উল্লেখ করা দরকার।
একই জনসংখ্যার উৎসকে দুবার স্বাধীন প্রমাণ ভাববেন না
পিউ বিভিন্ন আদমশুমারি, জরিপ ও অন্যান্য তথ্য থেকে ধর্মীয় গঠনের তুলনাযোগ্য অনুমান তৈরি করে। জাতিসংঘের বিশ্ব জনসংখ্যা সম্ভাবনা সংক্রান্ত ২০২৪ সালের সংশোধিত সংস্করণ মোট জনসংখ্যার একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ভিত্তি দেয়। মোট বাসিন্দার সংখ্যা ও তাদের ধর্মীয় অনুপাত গবেষণায় একসঙ্গে ব্যবহৃত হলেও ভূমিকা আলাদা। জাতিসংঘের মোট জনসংখ্যা নিজে বলে না তাদের মধ্যে কতজন মুসলিম। এই পাতার ধর্মীয় জনসংখ্যার হিসাব তাই পিউয়ের সংশ্লিষ্ট অনুমান হিসেবেই উদ্ধৃত করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের মোট জনসংখ্যার সূচক কোনো দেশের আকার, একক ও ব্যবহৃত সংস্করণ যাচাইয়ে সহায়ক। এর উৎসে জাতিসংঘের জনসংখ্যার তথ্য, জাতীয় পরিসংখ্যান, ইউরোস্ট্যাট এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা ও জীবনঘটনার পরিসংখ্যানের মতো উপাদান আছে। অন্য প্রকাশকের সঙ্গে এসব তথ্যের ভিত্তি মিলে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘে কাছাকাছি মোট দেখা তাই দুটি স্বাধীন ধর্মীয় পরিচয় জরিপ নয়। কোনো দাবির জন্য উৎসটি ঠিক কী দেয়, সেটি লিখুন: মোট মানুষ, ধর্মীয় অংশ, মাপার পদ্ধতি, নাকি রাজনৈতিক সদস্যপদ। দুই ওয়েবসাইট একই আদমশুমারি ব্যবহার করলে তাদের একই সীমাও থাকতে পারে। তুলনা করে ভুল সাল, একক বা অনুপাত শনাক্ত করা যায়; কিন্তু প্রকাশকের নাম বাড়ালেই অনিশ্চয়তা কমে না। সংঘাতের স্থান, শরণার্থী বা খুব ছোট জনগোষ্ঠীর তথ্যের ঘাটতিও অন্য সাইটে একই সংখ্যা প্রকাশ করলে দূর হয় না।
গোল করা মান, সীমানা ও অনিশ্চয়তা কীভাবে পড়বেন
প্রকাশিত জনসংখ্যা, ধর্মীয় অনুপাত ও মোট বাসিন্দার সংখ্যা আলাদা নির্ভুলতার স্তরে গোল করা হতে পারে। তাই দেখানো মোট জনসংখ্যা দিয়ে দেখানো শতাংশ গুণ করলে প্রকাশিত মুসলিম সংখ্যার সঙ্গে ছোট পার্থক্য আসতে পারে। এমন পার্থক্য নিজে থেকেই ভুলের প্রমাণ নয়। আগে অগোলকৃত মান, দশমিকের ঘর ও উৎসের সংস্করণ মিলিয়ে দেখুন। এই পাতায় উৎসের প্রকাশিত পূর্ণসংখ্যা এবং এক দশমিকের শতাংশ রাখা হয়েছে; প্রদর্শিত মান থেকে আরও দশমিক তৈরি করা হয়নি। দেশ ও অঞ্চল এখানে তথ্যের একক, সার্বভৌমত্বের রায় নয়। একটি উৎস কোনো স্থান আলাদা করে দেখাতে পারে, অন্যটি বৃহত্তর এককের মধ্যে রাখতে পারে। এতে এককের সংখ্যা, ক্রমতালিকা বা আঞ্চলিক মোট বদলাতে পারে, যদিও বাস্তবে কেউ ধর্ম বদলাননি। দুটি মানচিত্র তুলনা করার সময় অন্তর্ভুক্ত স্থানগুলোর তালিকা, আঞ্চলিক দল এবং অভিবাসী বা শরণার্থীদের বাসস্থান গণনার নিয়মও মিলতে হবে। অজানা মানকে শূন্য এবং অনুমানকে সরাসরি গণনা হিসেবে দেখানো উচিত নয়। জাতীয় হিসাব ও শহরের হিসাবও আলাদা রাখুন। বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ডের ক্ষেত্রে উৎসের তথ্য একক বজায় রেখে তার অর্থ জানানো সম্ভব; জনসংখ্যার অনুপাত দিয়ে সীমান্তের বৈধতা নির্ধারণ করা সেই তথ্যের কাজ নয়। একইভাবে কোনো দেশের আঞ্চলিক দল বদলালে পুরোনো মোট রেখে নতুন শ্রেণিবিভাগের দাবি করা চলে না।
ভবিষ্যতের মানচিত্রে অনুমানগুলোও দেখতে হয়
ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার মানচিত্র একটি ভিত্তিবর্ষের মানুষকে জন্ম, মৃত্যু, বয়স, অভিবাসন ও ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন সম্পর্কে কিছু অনুমানের মধ্যে রেখে গণনা করে। এতে নির্দিষ্ট শর্ত চলতে থাকলে জনসংখ্যা কীভাবে বদলাতে পারে, সেই পরিস্থিতি দেখা যায়। ২০৫০ সালের একটি পূর্বাভাস ওই বছর আগেভাগে করা আদমশুমারি নয়। মানচিত্রে ভবিষ্যতের সাল থাকলে ভিত্তিবর্ষ, মূল অনুমান ও অনিশ্চয়তার ব্যাখ্যাও খুঁজতে হবে। মহামারি, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, নীতি ও নতুন অভিবাসনপথ বাস্তব পরিবর্তনকে মডেলের পথ থেকে সরিয়ে দিতে পারে। ভিত্তির তথ্য নির্ভরযোগ্য হলেও প্রতিটি অনুমান অনির্দিষ্টকাল একই থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই উদ্ধৃতির সময় “পূর্বাভাস” বা “সম্ভাব্য পরিস্থিতি” শব্দ বাদ দিয়ে ভবিষ্যতের সংখ্যা নিশ্চিত বর্তমান তথ্যের মতো লেখা ঠিক নয়। ২০২০ সালের ধর্মীয় অংশ নতুন বছরের মোট জনসংখ্যা দিয়ে গুণ করার ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা দরকার। এতে অনুপাত অপরিবর্তিত থাকে বলে ধরে নেওয়া হয়। এমন হিসাব শিক্ষামূলক উদাহরণ বা স্পষ্ট শর্তের পরিস্থিতি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা নতুন ধর্মীয় পরিচয় পরিমাপ নয়। এই পাতার দেশ সারণিতে সে ধরনের বহির্প্রক্ষেপ করা হয়নি। কোনো ওয়েবপাতা হালনাগাদের তারিখকে বর্তমান মুহূর্তের নির্ভুল গণনা বললে সংখ্যার আগে তার তথ্যবর্ষ ও পদ্ধতি পরীক্ষা করুন।
কর্দোবার সীমানা একটি নির্দিষ্ট সময়ের ইতিহাস
ঐতিহাসিক শাসনের মানচিত্রে কোন সময়টি আঁকা হয়েছে, সেটি অপরিহার্য। কর্দোবাকেন্দ্রিক উমাইয়া আমিরাতের সাধারণ পর্যায় ৭৫৬ থেকে ৯২৯ সাল। খিলাফতের পর্যায় ৯২৯ থেকে ১০৩১। ১০০৯ সালে গৃহযুদ্ধের সূচনা, ১০৩১ সালে খিলাফত প্রতিষ্ঠানের অবসান এবং ১২৩৬ সালে কাস্তিলের কর্দোবা নগর দখল পৃথক ঘটনা। এগুলোকে একটিমাত্র সমাপ্তির সাল বানালে রাজবংশ, শাসকের উপাধি ও নগরের নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস মিশে যায়। এই সাইটের বাংলা কর্দোবা নিবন্ধ জাদুঘর, প্রত্নস্থান ও ঐতিহাসিক সময়রেখার ব্যাখ্যা দিয়ে পার্থক্যগুলো অনুসরণ করে। কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান শেষ হলেও ভবন ব্যবহার, শিল্পবস্তুর পুনর্ব্যবহার ও নগরজীবন পরে চলতে পারে। টিকে থাকা দরবারি বস্তু অভিজাত পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ দেয়, কিন্তু সবার জীবনযাত্রার সমান প্রতিনিধিত্ব করে না। শাসনের মানচিত্র দিয়ে তখনকার প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয়ও নির্ধারণ করা যায় না। পুরোনো শাসনসীমা ও আধুনিক জনসংখ্যা পাশাপাশি দেখালে সময়, বিষয় ও সীমানার ধরন আলাদা করে লিখুন। অতীতের একটি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত শহর আজ একই ধর্মীয় গঠন বজায় রেখেছে, এমন ধারণা করা যাবে না। ঐতিহাসিক নিবন্ধটি এই ভিন্নতা শেখার জন্য সম্পর্কিত পাঠ। এটি ২০২০ সালের স্পেন বা অন্য দেশের মুসলিম জনসংখ্যার স্বাধীন উৎস নয়; আধুনিক দেশের সংখ্যা এখানে পিউয়ের তথ্য থেকেই নেওয়া হয়েছে।
রিহলার পথ থেকে জনসংখ্যা গণনা করা যায় না
ইবন বতুতার ভ্রমণবর্ণনা উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, ভারত মহাসাগর ও পশ্চিম আফ্রিকার যোগাযোগ সম্পর্কে জানার পথ খুলে দেয়। কিন্তু কারও সফর, দীর্ঘ অবস্থান বা আবার ফিরে আসার নথি জাতীয় ধর্মীয় জনসংখ্যার পরিমাপ নয়। একজন মুসলিম ভ্রমণকারীর উপস্থিতি থেকে কোনো স্থানের সব বাসিন্দা একই ধর্মের ছিলেন বলা যায় না। মানচিত্রে বেশি পথ থাকাও আজ সেখানে বেশি মুসলিম আছেন, এমন প্রমাণ নয়। চতুর্দশ শতকের সফর এবং রিহলার লিখিত রূপ তৈরির সময় আলাদা রাখতে হয়। সংশ্লিষ্ট গবেষণা ১৩৫৫ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্তির নথি ও ১৩৫৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ কাজের কথা পৃথক করে। এগুলো অতিরিক্ত দুই বছরের ভ্রমণের প্রমাণ নয়। কোনো কোনো পথ ইতিহাসবিদদের পুনর্গঠন, আবার কিছু দাবিকৃত সফর নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আধুনিক দেশের সংখ্যা গণনাও ব্যবহৃত সীমান্তচিত্র ও বিতর্কিত স্থান গ্রহণের নিয়মের ওপর নির্ভর করে। রিহলার “পশ্চিম সুদান” ঐতিহাসিক অঞ্চলের নাম; তা বর্তমান সুদান রাষ্ট্রের সমার্থক নয়। পথের মানচিত্রে অপেক্ষাকৃত নিশ্চিত তারিখ, পুনর্গঠিত যোগাযোগপথ ও বিতর্কিত প্রসার আলাদা চিহ্নে দেখানো হয়েছে কি না দেখুন। জনসংখ্যার মানচিত্রে তার বদলে তথ্যবর্ষ, মানুষ নাকি শতাংশ, ভৌগোলিক একক ও পদ্ধতি পরীক্ষা করুন। দুটি ক্ষেত্রেই প্রমাণ যে মাত্রায় কথা বলে, সিদ্ধান্ত সেই মাত্রায় রাখতে হয়। এই পাতার ঐতিহাসিক সম্পর্কিত পাঠ সেই অভ্যাস তৈরি করতে সাহায্য করে; সেগুলোকে ২০২০ সালের নতুন জনসংখ্যা জরিপ হিসেবে গণনা করা হয়নি।
- আধুনিক সংখ্যা উদ্ধৃত করলে তথ্যবর্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সারণি উল্লেখ করুন।
- সংস্থার মানচিত্রে সদস্য তালিকা এবং তালিকা দেখার সময় আলাদা করে জানান।
- ঐতিহাসিক পথে সময়কাল, সংস্করণ ও পুনর্গঠিত অংশগুলো শনাক্ত করুন।
- দুটি মানচিত্রের রং তুলনা করার আগে বিষয়, ভাগের ভিত্তি, স্থান ও সাল তুলনা করুন।
২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যার দশ দেশ
পিউয়ের প্রকাশিত ২০২০ সালের অনুমান বড় থেকে ছোট ক্রমে সাজানো। সংখ্যা মানুষের, শতাংশের ভিত্তি সংশ্লিষ্ট দেশের মোট জনসংখ্যা। বাংলা অঙ্কে কোটি-লাখের কমা বিন্যাস ব্যবহৃত হয়েছে। উৎসের গোল করা মান আলাদা ব্যক্তির নির্ভুল গণনা নয়।
| দেশ | ভৌগোলিক অবস্থান ও পিউয়ের অঞ্চল | আনুমানিক মুসলিম জনসংখ্যা (জন) | দেশের মোট জনসংখ্যায় অংশ | পড়ার সময় মনে রাখুন |
|---|---|---|---|---|
| ইন্দোনেশিয়া | দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া; পিউয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক | ২৩,৮৯,৯০,০০০ | ৮৭.০% | মোট মুসলিম সংখ্যায় প্রথম; এই শতাংশ বৈশ্বিক মুসলিমদের অংশ নয়। |
| পাকিস্তান | দক্ষিণ এশিয়া; পিউয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক | ২২,৬৮,৮০,০০০ | ৯৬.৫% | মোট সংখ্যায় দ্বিতীয়; এটি এক বছরের বৃদ্ধির সংখ্যা নয়। |
| ভারত | দক্ষিণ এশিয়া; পিউয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক | ২১,৩০,৬০,০০০ | ১৫.২% | দেশে সংখ্যালঘু হলেও এই জাতীয় ক্রমতালিকায় তৃতীয়। |
| বাংলাদেশ | দক্ষিণ এশিয়া; পিউয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক | ১৫,১৪,৪০,০০০ | ৯১.১% | জাতীয় অনুমান; প্রতিটি এলাকার অনুপাত নয়। |
| নাইজেরিয়া | পিউয়ের সাহারার দক্ষিণের আফ্রিকা | ১১,৯৯,৮০,০০০ | ৫৬.১% | দেশের মোট অনুপাত দিয়ে প্রতিটি প্রদেশ বোঝানো যায় না। |
| মিসর | পিউয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা | ১০,৪০,৪০,০০০ | ৯৫.২% | উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ; উৎসের আঞ্চলিক দল বজায় আছে। |
| ইরান | পশ্চিম এশিয়া; পিউয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক | ৮,৭৫,২০,০০০ | ৯৯.৮% | আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় পরিচয়ের অনুমান; ধার্মিকতার পরিমাপ নয়। |
| তুরস্ক | ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগ; পিউয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক | ৮,৩৬,০০,০০০ | ৯৭.১% | পরিসংখ্যানের আঞ্চলিক দল দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান বদলায় না। |
| সুদান | উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা; পিউয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা | ৪,৬২,৫০,০০০ | ৯৮.৯% | পিউয়ের সাহারার দক্ষিণের আফ্রিকার মোটে যোগ করবেন না। |
| আলজেরিয়া | পিউয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা | ৪,৩৩,৩০,০০০ | ৯৮.৪% | অন্য নয় দেশের মতোই ২০২০ সালের তথ্যবর্ষ। |
পাঁচটি অনুপাত ও শ্রেণি: হিসাবের ভিত্তি আলাদা
শতাংশের ভিত্তি এবং শ্রেণিবিভাগের নিয়ম স্পষ্ট না হলে ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এক হয়ে যায়। ৫৩টি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ও অঞ্চল এবং ৫৭টি সংগঠনের সদস্য রাষ্ট্রও একই ধরনের একক নয়।
| অনুপাত বা শ্রেণি | ভাগের ভিত্তি বা নিয়ম | সঠিক অর্থ |
|---|---|---|
| বিশ্বে মুসলিমদের অংশ ২৫.৬% | বিশ্বের মোট জনসংখ্যা; ২০২০ | প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম বিশ্বের বাসিন্দাদের এই অংশ। |
| এশিয়া-প্যাসিফিকে ৫৯% | বিশ্বের মোট মুসলিম জনসংখ্যা; ২০২০ | প্রায় ৫৯% বৈশ্বিক মুসলিম পিউয়ের এই অঞ্চলে বাস করতেন। |
| ভারতে ১৫.২% | ভারতের মোট জনসংখ্যা; ২০২০ | দেশে সংখ্যালঘু অনুপাত, কিন্তু সংখ্যায় প্রায় ২১.৩ কোটি। |
| ৫৩টি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ও অঞ্চল | ২০২০ সালে স্থানটির অর্ধেকের বেশি বাসিন্দা মুসলিম | পিউয়ের দেশ ও অঞ্চল একক ধরে জনমিতিক শ্রেণিবিভাগ। |
| ওআইসির ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্র | সংস্থার আনুষ্ঠানিক তালিকা ও সনদের নিয়ম | সদস্যপদের শ্রেণি; বৈশ্বিক মুসলিম বা সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানের মোট নয়। |
FAQ
বিশ্বে কত মুসলিম, আর এই হিসাব কোন সালের?
পিউয়ের তুলনাযোগ্য অনুমানে ২০২০ সালে প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম ছিলেন, বা বিশ্বের জনসংখ্যার ২৫.৬%। গবেষণা ২০২৫ সালে প্রকাশ এবং ২০২৬ সালে সূচক বা পাতার হালনাগাদ হওয়া জনসংখ্যার তথ্যবর্ষ বদলায় না।
কোন দেশে মুসলিমদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
এই ২০২০ সালের সারণিতে ইন্দোনেশিয়ায় ২৩,৮৯,৯০,০০০, পাকিস্তানে ২২,৬৮,৮০,০০০ এবং ভারতে ২১,৩০,৬০,০০০ মুসলিমের অনুমান আছে। মোট মানুষের ক্রমতালিকা ও দেশের শতকরা অংশের ক্রমতালিকা আলাদা।
বেশিরভাগ মুসলিম কি মধ্যপ্রাচ্যে বাস করেন?
না। পিউয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈশ্বিক মুসলিমদের প্রায় ৫৯% বাস করতেন। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ছিলেন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এই আঞ্চলিক শতাংশগুলোর ভিত্তি বিশ্বের মোট মুসলিম জনসংখ্যা।
সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও ভারত মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন?
ভারতে মুসলিমদের জাতীয় অংশ প্রায় ১৫.২%, কিন্তু মোট সংখ্যা প্রায় ২১.৩ কোটি এবং এই তালিকায় তৃতীয়। কেবল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ রাঙানো মানচিত্রে এই বিশাল জনগোষ্ঠী আড়াল হয়ে যায়।
ওআইসির সদস্য ৫৭ হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থান ৫৩ কেন?
এগুলো ভিন্ন নিয়মের হিসাব। পিউয়ের ৫৩ হলো ২০২০ সালের অনুমান অনুযায়ী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ও অঞ্চল। ওআইসির ৫৭টি হলো আনুষ্ঠানিক সদস্য রাষ্ট্র। সনদ নতুন আবেদনের শর্ত ও বিদ্যমান সদস্যের অধিকার পৃথক করে।
এই শতাংশ দিয়ে ২০২৬ সালের নির্ভুল জনসংখ্যা পাওয়া যাবে?
সরাসরি তা দাবি করা যাবে না। পুরোনো অনুপাতকে নতুন মোট জনসংখ্যা দিয়ে গুণ করলে অনুপাত অপরিবর্তিত থাকার শর্তে একটি বহির্প্রক্ষেপ হয়, নতুন ধর্মীয় পরিচয় পরিমাপ নয়। এখানে ২০২০ সালের প্রকাশিত অনুমান রাখা হয়েছে।
সম্পর্কিত পাঠ
- কর্দোবার খিলাফত: সূচনা, গৃহযুদ্ধ ও ১০৩১ সালের সমাপ্তি
রাজনৈতিক শাসনের সীমানা ও নগরের ইতিহাসকে আধুনিক ধর্মীয় জনসংখ্যা থেকে পৃথক করতে সহায়ক।
- ইবন বতুতার রিহলা: পথ, সময় ও প্রমাণের সীমা
চতুর্দশ শতকের ভ্রমণ, ১৩৫৫–১৩৫৬ সালের লিখিত রূপ এবং আধুনিক পথ পুনর্গঠনের পার্থক্য পড়ুন।
- মুসলিম জনসংখ্যা তথ্য এবং ইসলামিক বিশ্ব ভূগোলের সীমাবদ্ধতা
মুসলিম জনসংখ্যা তথ্য, ইসলামিক বিশ্ব ভূগোল, মানচিত্র লেবেল এবং দায়িত্বশীল উদ্ধৃতি সম্পর্কিত একটি সহায়ক ব্যাখ্যাকারী।
Connected by মুসলিম জনসংখ্যা.
- ইসলামিক বিশ্ব মানচিত্র কীভাবে পড়বেন মুসলিম জনসংখ্যার তথ্য ভুলভাবে না পড়ে
ইসলামিক বিশ্ব মানচিত্র, মুসলিম জনসংখ্যার অনুমান, আঞ্চলিক ভূগোল এবং জনতাত্ত্বিক তথ্যের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে উৎস-ভিত্তিক ব্যাখ্যা।
Connected by মুসলিম জনসংখ্যা.
উৎস
- পিউ রিসার্চ সেন্টার: ২০১০–২০২০ সালে মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তন
২০২০ সালের বৈশ্বিক মোট, ২৫.৬%, আঞ্চলিক বণ্টন, সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থান ও প্রথম দশ দেশের অনুমানের ভিত্তি। পাতার হালনাগাদকে নতুন জনসংখ্যার তথ্যবর্ষ ধরা হয়নি।
- পিউ রিসার্চ সেন্টার: দেশভিত্তিক ধর্মীয় গঠন, ২০১০ ও ২০২০
২০১টি দেশ ও অঞ্চলের ধর্মীয় গঠন এবং প্রদর্শিত মানের তুলনা। ২০২৬ সালে বৈচিত্র্যের সূচক যোগ হওয়া ২০২০ সালের মানুষকে ২০২৬ সালের নতুন গণনায় পরিণত করে না।
- পিউ রিসার্চ সেন্টার: বৈশ্বিক ধর্মীয় গঠনের ডেটাসেট ব্যাখ্যা
২,৭০০টির বেশি উৎস, ২০১০ ও ২০২০ সালের অনুমান, জাতিসংঘের ২০২৪ সংশোধিত সংস্করণ ও গোল করা মানের ব্যাখ্যা। এখানে উন্মুক্ত পদ্ধতির বিবরণ ব্যবহার করা হয়েছে, পুরো ডেটাসেট পুনরায় গণনা করা হয়নি।
- পিউ রিসার্চ সেন্টার: বৈশ্বিক ধর্মীয় পরিবর্তন গবেষণার পদ্ধতি
আদমশুমারি, জরিপ ও অনুমানের পদ্ধতি; বিশেষ করে ইরানের আনুষ্ঠানিক পরিচয় এবং গামানের অনলাইন অ-সম্ভাবনাভিত্তিক নমুনার তুলনার সীমা বোঝায়।
- পিউ রিসার্চ সেন্টার: ২০১০–২০২০ সালে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাখ্যা
নিট প্রায় ৩৪.৭ কোটি বা ২১% বৃদ্ধি, বয়সের গঠন, প্রজননহার ও ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের ভূমিকা পৃথক করতে ব্যবহৃত। নিট বৃদ্ধি ধর্মান্তরের মোট নয়।
- ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা: আনুষ্ঠানিক সদস্য তালিকা
২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর দেখা আনুষ্ঠানিক বিবরণে ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্র। এই তালিকা কূটনৈতিক সংস্থার সদস্যপদ বোঝায়, ২০২০ সালের ধর্মীয় জনসংখ্যা মাপে না।
- ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা: বর্তমান আনুষ্ঠানিক সনদ
৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর অংশে নতুন আবেদন ও ঐকমত্য, ৩ নম্বর অংশে বিদ্যমান সদস্যদের অধিকার এবং ২ নম্বর অনুচ্ছেদে সার্বভৌমত্ব ও সমতার নীতির ভিত্তি।
- জাতিসংঘ: বিশ্ব জনসংখ্যা সম্ভাবনা ২০২৪, সংক্ষিপ্ত ফলাফলের প্রকাশনা
২০২৪ সালের সংশোধিত জনসংখ্যা সংস্করণের প্রকাশনা ও ব্যবহার নিশ্চিত করে। সংস্করণের বছর ২০২৪ হলেও সেই সংস্করণে ২০২০ সালের জনসংখ্যার ভিত্তি থাকতে পারে।
- বিশ্বব্যাংক: মোট জনসংখ্যার সূচক ও তথ্যসূত্র
মোট জনসংখ্যা এবং জাতিসংঘ, জাতীয় পরিসংখ্যান ও ইউরোস্ট্যাটের মতো তথ্যের ভিত্তি বোঝায়। উৎস মিলে গেলে তাকে স্বাধীন ধর্মীয় জরিপের পুনর্নিশ্চিতকরণ ধরা হয়নি।
- মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম: স্পেনে উমাইয়া যুগের শিল্প, ৭১১–১০৩১
৭৫৬–৯২৯ সালের আমিরাত ও ৯২৯–১০৩১ সালের খিলাফতের ঐতিহাসিক পর্যায় এবং শিল্পের প্রেক্ষাপট। এটি ২০২০ সালের মুসলিম জনসংখ্যার উৎস নয়।
ভাষা
- خريطة العالم الإسلامي وتقديرات السكان المسلمين لعام 2020
- ইসলামি বিশ্বের মানচিত্র: ২০২০ সালের মুসলিম জনসংখ্যা ও দেশভিত্তিক হার
- Mapa del món islàmic: població musulmana per país el 2020
- Mapa islámského světa: Muslimská populace podle zemí a regionů
- Islamisk verdenskort: Muslimsk befolkning efter land og region
- Karte der islamischen Welt: muslimische Bevölkerung 2020
- Ισλαμικός Παγκόσμιος Χάρτης: Μουσουλμανικός πληθυσμός ανά χώρα και περιοχή
- Islamic World Map and Muslim Population Estimates for 2020
- Mapa del mundo islámico y población musulmana estimada en 2020
- Islamilainen maailmankartta: Muslimiväestö maittain ja alueittain
- Carte du monde islamique et populations musulmanes en 2020
- Peta dunia Islam dan populasi Muslim pada 2020
- Mappa del mondo islamico e popolazione musulmana nel 2020
- イスラム世界地図と2020年のムスリム人口
- 이슬람 세계 지도와 2020년 무슬림 인구
- Peta dunia Islam dan penduduk Muslim pada 2020
- Islamitische wereldkaart en moslimbevolking in 2020
- Islamsk verdenskart: Muslimsk befolkning etter land og region
- Mapa świata islamu: populacja muzułmanów w 2020 roku
- Mapa do mundo islâmico e população muçulmana em 2020
- Карта исламского мира и численность мусульман в 2020 году
- Mapa islamského sveta: moslimská populácia podľa krajiny a regiónu
- Karta över den muslimska världen och muslimsk befolkning 2020
- แผนที่โลกอิสลาม: ประชากรมุสลิมแบ่งตามประเทศและภูมิภาค
- İslam dünyası haritası ve 2020 Müslüman nüfusu
- ئىسلام دۇنياسى خەرىتىسى: دۆلەت ۋە رايونلار بويىچە مۇسۇلمانلار نوپۇسى
- Bản đồ thế giới Hồi giáo và dân số Hồi giáo năm 2020
- 伊斯兰世界地图:2020年穆斯林人口、国家人数与占比
- 2020年穆斯林人口地圖:國家排名、比例與OIC會員
- 伊斯蘭世界地圖與2020年穆斯林人口估計