জামি আল-তাওয়ারিখ: তাবরিজে বিশ্ব ইতিহাস রচনা

জামি আল-তাওয়ারিখ: তাবরিজে বিশ্ব ইতিহাস রচনা

Muslim Post Editorial Desk@muslimpost
0

কীভাবে রশিদ আল-দিনের দল মঙ্গোল ও দূরবর্তী জাতিদের ইতিহাস সংগ্রহ করে ইলখানিদ দরবারের জন্য একটি সচিত্র ইতিহাস গ্রন্থ তৈরি করেছিল।

জামি আল-তাওয়ারিখ (Compendium of Chronicles) হলো চতুর্দশ শতকের শুরুতে পারস্যের ইলখানিদ দরবারের নির্দেশে এবং উজির রশিদ আল-দিনের তত্ত্বাবধানে সংকলিত একটি স্মৃতিস্তম্ভসম ঐতিহাসিক গ্রন্থ। তাবরিজের রাব-ই রশিদি কমপ্লেক্সের বিশেষায়িত কর্মশালায় তৈরি এই গ্রন্থটি বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাসকে একটি একক ও সুসংহত আখ্যানে রূপ দেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস ছিল।

প্রচ্ছদের ছবিটি এআই-সহায়তায় নির্মিত মৌলিক ঐতিহাসিক পুনর্গঠন; এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা, কর্মশালা বা বস্তুর আলোকচিত্র নয়।

উপাদান, নির্মাণ ও ব্যবহার

এই গ্রন্থটি তৈরির জন্য রশিদ আল-দিন মঙ্গোল বংশানুক্রমিক বিশেষজ্ঞ, চীনা পণ্ডিত, কাশ্মীরি বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের মতো বৈচিত্র্যময় উৎসের সাহায্য নিয়েছিলেন। ১৩১৪ সালের বিখ্যাত আরবি পাণ্ডুলিপিটির চিত্রগুলোতে চীনা, পারস্য, আরবি এবং বাইজেন্টাইন শৈলীর এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়, যা ইলখানিদ দরবারের বিশ্বজনীন সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।

সঠিকভাবে কীভাবে চিনবেন

যদিও এই গ্রন্থটি অত্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে রচিত হয়েছিল, তবুও এটিকে আধুনিক অর্থে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বা প্রথম বিশ্ব ইতিহাস বলা ভুল হবে। জামি আল-তাওয়ারিখ ছিল মূলত একটি রাজকীয় প্রকল্প, যা ইলখানিদ শাসকদের রাজনৈতিক বৈধতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিকল্পিত ও রচিত হয়েছিল।

তথ্যসূত্র