সামাররা স্টুকো: আব্বাসীয় অলঙ্করণ শৈলীর বিস্তার

সামাররা স্টুকো: আব্বাসীয় অলঙ্করণ শৈলীর বিস্তার

Muslim Post Editorial Desk@muslimpost
0

ইরাকের সামাররায় জিপসাম প্লাস্টারের ছাঁচ ও খোদাই শৈলী কীভাবে আব্বাসীয় সাম্রাজ্য এবং তার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সামাররা স্টুকো বলতে ইরাকের আব্বাসীয় রাজধানী সামাররায় (৮৩৬-৮৯২ খ্রিষ্টাব্দ) বিকশিত জিপসাম প্লাস্টারের বিশিষ্ট দেয়াল অলঙ্করণ শৈলীকে বোঝায়। প্রত্নতাত্ত্বিকগণ এই আলঙ্কারিক ধারাকে স্টাইল এ, বি এবং সি—এই তিন ভাগে ভাগ করেছেন। এই শৈলীটি খোদাই করা উদ্ভিজ্জ নকশা থেকে ছাঁচে ঢালা বিমূর্ত জ্যামিতিক প্যাটার্নে রূপান্তরের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

প্রচ্ছদের ছবিটি এআই-সহায়তায় নির্মিত মৌলিক ঐতিহাসিক পুনর্গঠন; এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা, কর্মশালা বা বস্তুর আলোকচিত্র নয়।

উপাদান, নির্মাণ ও ব্যবহার

দ্রুত বর্ধনশীল আব্বাসীয় রাজধানী সামাররার বিশাল ইটের প্রাসাদগুলো দ্রুত সাজানোর জন্য ব্যয়বহুল পাথরের বিকল্প হিসেবে সস্তা ও সহজলভ্য জিপসাম প্লাস্টার বা স্টুকো ব্যবহৃত হতো। বিশেষ করে 'স্টাইল সি' বা বেভেলড (Beveled) শৈলীতে ঢালু কাটিং পদ্ধতি এবং ছাঁচের ব্যবহারের ফলে কারিগররা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিশাল দেয়ালে অভিন্ন ও জটিল বিমূর্ত নকশা ফুটিয়ে তুলতে পারতেন।

সঠিকভাবে কীভাবে চিনবেন

এই ছাঁচভিত্তিক উৎপাদন পদ্ধতিটি কেবল সামাররাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আব্বাসীয় কারিগরদের মাধ্যমে কাঠ, সিরামিক ও অন্যান্য অঞ্চলের স্থাপত্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বিংশ শতকের শুরুতে আর্নস্ট হার্জফেল্ডের খননকার্যের মাধ্যমে এই শৈলীটি আবিষ্কৃত হয়। বর্তমানে মূল স্থাপত্যগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় জাদুঘরে সংরক্ষিত খণ্ডাংশ এবং হার্জফেল্ডের আর্কাইভাল নকশাই এর প্রধান উৎস।

তথ্যসূত্র