ইসলামী খগোলক: পিতলের পাতে তারামণ্ডলীর মানচিত্র

ইসলামী খগোলক: পিতলের পাতে তারামণ্ডলীর মানচিত্র

Muslim Post Editorial Desk@muslimpost

পিতলের তৈরি ইসলামী সেলেস্টিয়াল গ্লোব বা খগোলকের গঠন, তারার অবস্থান এবং এর জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ব্যবহার।

ইসলামী খগোলক (celestial globe) হলো মহাবিশ্বের একটি ত্রিমাত্রিক বাহ্যিক মডেল, যা পিতলের গোলকের ওপর তারামণ্ডলীর অবস্থান প্রদর্শন করে। যেহেতু এই গোলকটিকে বাইরে থেকে দেখা হয়, তাই পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান তারামণ্ডলীর চিত্রগুলো এই গোলকের পৃষ্ঠে উল্টো বা বিপরীত দেখায়। এই যন্ত্রগুলো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ এবং শিক্ষাদানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

প্রচ্ছদের ছবিটি এআই-সহায়তায় নির্মিত মৌলিক ঐতিহাসিক পুনর্গঠন; এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা, কর্মশালা বা বস্তুর আলোকচিত্র নয়।

উপাদান, নির্মাণ ও ব্যবহার

এই গোলকগুলো তৈরিতে পিতল ব্যবহার করা হতো এর স্থায়িত্ব এবং সূক্ষ্ম খোদাইকাজের সুবিধার জন্য। গোলকের গায়ে তারার অবস্থানগুলো তৎকালীন বিখ্যাত তারকা তালিকা (যেমন আল-সুফির ক্যাটালগ) অনুযায়ী বিন্দু বা ক্রসের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হতো। গোলকটি একটি মধ্যাহ্নবৃত্ত বা মেরিডিয়ান রিংয়ের ভেতরে ঘুরতে পারত, যা আকাশের দৈনিক আবর্তনকে অনুকরণ করত এবং এর গায়ে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক স্থানাঙ্ক খোদাই করা থাকত।

সঠিকভাবে কীভাবে চিনবেন

অনেকে মনে করেন যে এই খগোলকগুলো পৃথিবীর মানচিত্রের মতো কাজ করত অথবা প্রতিটি গোলক হুবহু একই পাণ্ডুলিপি অনুসরণ করে তৈরি হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, এগুলো পার্থিব মানচিত্র নয়, বরং আকাশের তারার মানচিত্র। প্রতিটি গোলকই এক একটি অনন্য শিল্পকর্ম ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ছিল, যা কেবল আলংকারিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং জটিল গাণিতিক ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের জন্য ব্যবহৃত হতো।

তথ্যসূত্র