রায় শহরে আল-খুজান্দির বিশাল সেক্সট্যান্টের রহস্য

রায় শহরে আল-খুজান্দির বিশাল সেক্সট্যান্টের রহস্য

Muslim Post Editorial Desk@muslimpost

কীভাবে রায় শহরের একটি বিশাল মধ্যাহ্নরেখা যন্ত্র সূর্যের উচ্চতা পরিমাপ করত এবং এর সীমাবদ্ধতা কী ছিল।

দশম শতাব্দীর শেষের দিকে রায় শহরে আবু মাহমুদ আল-খুজান্দি কর্তৃক নির্মিত বিশাল প্রাচীর-সেক্সট্যান্ট (giant mural sextant) ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি অনন্য প্রকৌশল কীর্তি। সূর্যের ক্রান্তিবৃত্তের তির্যকতা পরিমাপের জন্য এটি স্থানীয় মধ্যাহ্নরেখা বরাবর স্থাপন করা হয়েছিল। এর বিশাল ব্যাসার্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল কোণ পরিমাপের স্কেলকে দৃশ্যত প্রসারিত করা।

প্রচ্ছদের ছবিটি এআই-সহায়তায় নির্মিত মৌলিক ঐতিহাসিক পুনর্গঠন; এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা, কর্মশালা বা বস্তুর আলোকচিত্র নয়।

উপাদান, নির্মাণ ও ব্যবহার

এই যন্ত্রটির ব্যাসার্ধ প্রায় বিশ মিটার ছিল, যার ফলে প্রতিটি ডিগ্রির ব্যবধান অনেক বড় আকারে প্রদর্শিত হতো এবং ছায়ার প্রান্তভাগের সূক্ষ্মতম ভগ্নাংশও পরিমাপ করা যেত। গ্রীষ্ম ও শীতকালীন অয়নকালে সূর্যের সর্বোচ্চ উচ্চতা পরিমাপ করে তিনি পৃথিবীর অক্ষীয় ঢাল গণনা করেছিলেন। তবে এই বিশাল কাঠামোটি সম্পূর্ণভাবে একটি নির্দিষ্ট দেয়ালের সাথে যুক্ত ছিল।

সঠিকভাবে কীভাবে চিনবেন

একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো যে যন্ত্রের আকার যত বড় হতো, তার পরিমাপ তত নিখুঁত হতো। বাস্তবে, বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণ, বিশাল কাঠামোর তাপীয় প্রসারণ এবং সূর্যের কৌণিক আকারের কারণে সৃষ্ট অস্পষ্ট ছায়া (penumbra) পরিমাপের নির্ভুলতাকে সীমাবদ্ধ করেছিল। আল-খুজান্দির পরিমাপের ত্রুটি মূলত এই প্রাকৃতিক ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণেই ঘটেছিল, যা কেবল আকার বাড়িয়ে দূর করা সম্ভব ছিল না।

তথ্যসূত্র