
আল-বিরুনির পর্বত থেকে পৃথিবী পরিমাপের জ্যামিতিক পদ্ধতি
একাদশ শতকের বহুশাস্ত্রবিদ আল-বিরুনি কীভাবে ত্রিকোণমিতি ব্যবহার করে পাহাড়ের চূড়া থেকে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ পরিমাপ করেছিলেন, তা জানুন।
একাদশ শতকের প্রখ্যাত বহুশাস্ত্রবিদ আবু রায়হান আল-বিরুনি সমতল মরুভূমির ওপর দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য পরিমাপের পরিবর্তে একটি পাহাড়ের চূড়া থেকে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ নির্ণয়ের এক চমৎকার জ্যামিতিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তাঁর এই কাজ গাণিতিক ভূগোলের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রচ্ছদের ছবিটি এআই-সহায়তায় নির্মিত মৌলিক ঐতিহাসিক পুনর্গঠন; এটি কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা, কর্মশালা বা বস্তুর আলোকচিত্র নয়।
উপাদান, নির্মাণ ও ব্যবহার
এই পদ্ধতিতে একটি জানা উচ্চতার পাহাড়ের চূড়া থেকে দিগন্তের অবনতি কোণ (dip angle) পরিমাপ করা হতো। আল-বিরুনি একটি কোণ পরিমাপক যন্ত্রের সাহায্যে অনুভূমিক রেখা ও দিগন্ত রেখার মধ্যবর্তী কোণ নির্ণয় করেন এবং ত্রিকোণমিতিক অনুপাত প্রয়োগ করে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে পৃষ্ঠের দূরত্ব বা ব্যাসার্ধ হিসাব করেন।
সঠিকভাবে কীভাবে চিনবেন
যদিও তাঁর তাত্ত্বিক মডেলটি নিখুঁত ছিল, তবে আধুনিক পরিমাপের সাথে এর হুবহু মিল নিয়ে অতি-উত্সাহী দাবি করার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ঐতিহাসিক পরিমাপের এককগুলোর আধুনিক সমতুল্য মান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং কোণ বা উচ্চতা পরিমাপের সামান্যতম ত্রুটিও চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারত।
তথ্যসূত্র
- Encyclopaedia Iranica: Al-Biruni and Geography — geodesy, coordinates and mathematical geography.
- The Met: Court and Cosmos — scientific instruments and al-Biruni's intellectual setting.
- University of Edinburgh: Al-Biruni Manuscript — surviving manuscript context and material transmission.





