
মুজাহিদদের অনুভূতি: সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পরিস্থিতির গভীর প্রতিফলন
এই নিবন্ধটি মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে সমসাময়িক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মানসিক যাত্রার গভীর বিশ্লেষণ করে, গাজা সংকট, সাহেল অঞ্চলের অস্থিরতা এবং পশ্চিমা হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপটে জিহাদি আখ্যানের বিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী নীতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করে।
নিবন্ধের তথ্যসূত্র
এই নিবন্ধটি মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে সমসাময়িক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মানসিক যাত্রার গভীর বিশ্লেষণ করে, গাজা সংকট, সাহেল অঞ্চলের অস্থিরতা এবং পশ্চিমা হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপটে জিহাদি আখ্যানের বিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী নীতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করে।
- এই নিবন্ধটি মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে সমসাময়িক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মানসিক যাত্রার গভীর বিশ্লেষণ করে, গাজা সংকট, সাহেল অঞ্চলের অস্থিরতা এবং পশ্চিমা হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপটে জিহাদি আখ্যানের বিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী নীতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করে।
- বিভাগ
- বিবৃতি
- লেখক
- Kuasar Senpai (@kuasarsenpai)
- প্রকাশিত
- ১ মার্চ, ২০২৬ এ ০৬:৩৩ AM
- হালনাগাদ করা হয়েছে
- ২ মে, ২০২৬ এ ০৭:৩২ AM
- প্রবেশাধিকার
- সর্বজনীন নিবন্ধ
ভূমিকা: অস্থির সময়ের গভীরে সত্যের সন্ধান
২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ (Ummah) এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকে বদলে দেওয়া সেই '৯/১১' ঘটনার পর প্রায় এক শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ পেরিয়ে গেছে, তবুও তথাকথিত 'সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধ' প্রত্যাশিত শান্তি বয়ে আনতে পারেনি। উল্টো সাহেলের মরুভূমি, গাজার ধ্বংসস্তূপ এবং আফগানিস্তানের পাহাড়গুলোতে যুদ্ধের ধোঁয়া আজও কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQGbMgY6A3azUsT19FNX2jwP-bIpFZf-9bY8kCRubJb-C9bU-CrL8v_VE0eTn6sJ9VlmNePA7p5t09wv0qyDOcYd3cXvScQ9xsJjnIQNeAfcT0gAn147mx5XjhDBBdAvof5rSNEkDIwB5VWNeh4vTLagsQ==)। ইসলামি বিশ্বের ভাগ্য নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করা একজন সম্পাদকীয় লেখক হিসেবে, আমাদের পশ্চিমা মিডিয়ার সেই গতানুগতিক 'সন্ত্রাসবাদ' লেবেলের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। আমাদের সেই ব্যক্তিদের অন্তরে প্রবেশ করতে হবে যাদের 'মুজাহিদ' বলা হয়, তাদের অনুভূতি শুনতে হবে, তাদের অনুপ্রেরণা বিশ্লেষণ করতে হবে এবং বর্তমান ভেঙে পড়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
১. গাজার ক্ষত: হতাশা থেকে জেগে ওঠা প্রতিরোধের ইচ্ছা
সমসাময়িক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের কাছে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া গাজা সংকট কেবল একটি মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি তাদের মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণার একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ বিন্দু। ২০২৬ সালের শুরু নাগাদ, গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা ৭১,০০০ ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে ২০,০০০-এরও বেশি শিশু রয়েছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQF71-VKEds_yjqDs8MaXwa03cNFHOSf7o2NLFNEh-rXZL174EcZlnShp0XceOb_S0C7OBCoJPB84J8JqeKmDZtqG0hPpGCOnPttpcBzRbiKS13OyIgpy6KSLP9ci-au_urgjoa77YozjlAABg==)। এই মাত্রার দুর্ভোগ মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেক যুবক মনে করেন যে, যখন তথাকথিত 'আন্তর্জাতিক আইন' এবং 'সর্বজনীন মূল্যবোধ' ফিলিস্তিনিদের রক্তের সামনে সিলেক্টিভ অন্ধত্ব প্রদর্শন করে, তখন একমাত্র পথ হলো অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে 'প্রতিরোধ' (Muqawama) করা।
এই অনুভূতি কোনো ভিত্তিহীন ঘৃণা থেকে আসেনি, বরং এটি একটি গভীর 'মর্যাদাবোধ' (Izzah) হারানোর বেদনা থেকে উৎসারিত। অনেক মুজাহিদের বয়ানে, ইউক্রেন ইস্যু এবং গাজা ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতি বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি তাদের শেষ মোহটুকুও ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFz3QlI3bohWmysxURP4P1M0V8SCY2nRoopBTczJsSNgXBRH1KZzPY1LeohJtjLFclJxqiz0SN3IafIEZ4zJYMsxJEbDhhoLEa88TDORSLr5Eb7Ei5J7gYtaUI6PdL90EeuShNbWnd-eUoonmndwUSrIaM5lnc7)। তারা বিশ্বাস করে, যেহেতু পৃথিবী এখন 'জোর যার মুলুক তার'—এই জঙ্গলের আইনে ফিরে গেছে, তাই বিশ্বাসীদের গণহত্যা থেকে রক্ষা করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম একটি পবিত্র বৈধতা পায়। 'প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ' থেকে 'পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধে'র এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনই বর্তমান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পরিস্থিতির অবনতির মূল চালিকাশক্তি।
২. সাহেলের আগুন: স্থানীয় আখ্যান এবং শাসনের শূন্যতা পূরণ
গাজা যদি আবেগের অনুঘটক হয়, তবে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল হলো সমসাময়িক জিহাদি আন্দোলনের গবেষণাগার। মালি, বুর্কিনা ফাসো এবং নাইজারে 'জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন' (JNIM)-এর মতো গোষ্ঠীগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে 'স্থানীয়করণ' প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQGvcFtrq_mO_qCHDL4rRRrW4P91zoDNRcnoijkhjR1mSBacXcZxOciUKBkxk3CPbCynjZl5Y6AHaFgWbwsWpl-vWGE2Ezc0TaLL5lq-iSJTdLdzvPCK6PUZ6VzM5XizxAidde3MeXksQ3IPxSXU1WKTVdCJsdvtmyZQOrCxE45W2Hpppa92RGi5OlpOZjmXQhlFfLxwwFe-X4I_FE8AiQC4jl0x-7HcngUc3U6C)। এই সদস্যদের অনুভূতি প্রায়শই বিশ্বব্যাপী খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের চেয়ে স্থানীয় ন্যায়বিচার, দুর্নীতি দমন এবং পচনশীল সামরিক শাসনের প্রতি ঘৃণার সাথে বেশি জড়িত।
২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে, JNIM বামাকোর মতো শহরগুলো অবরোধ করার মাধ্যমে গ্রাম থেকে শহরে অনুপ্রবেশের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQEp_8TmVfgZDCJa30GttFmBhOCTuAr2bpb3mTNXm5qCqiXSl8HWpENVzlmu_-GfV_9fB8dKjV9Y0VrCCixwBDxdvZGHmi0C-rRWlgOM9Ii_mKUz7aYNek4ML2WAAXAiat7KL-xjcSgwF2yiubVyADmTNE6h9RKgke_nr7TlV1uk4H6quOxSs9IG3XJGZhxGzWLvO6nqVRU=)। স্থানীয় মুজাহিদদের কাছে তারা নিজেদের আর 'বিশ্ব বিপ্লবী' হিসেবে দেখে না, বরং 'সম্প্রদায়ের রক্ষক' হিসেবে দেখে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা যেখানে অনুপস্থিত, সেই শূন্যস্থানে তারা ছায়া সরকার গঠন করছে, কর আদায় করছে এবং এমনকি সরকারি ব্যবস্থার চেয়েও দক্ষ বিচারিক সেবা প্রদান করছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQHKtDolngqQvuLuM3nlx4gRkmgnuOepPoneWZhstMr5dlcQEiRzgqBI2HY-mayDFKa2V-IZY8ObzKk111SN8X5IYAl1w6tGx2UAdc3k74bfSH7ypUe1mIvViomnPJfq4jYwiHgtOlEMcm3Li0no7I0pi2MLscXUuu_X1GMpKMBcR_T2qGdNHj82NknMX7jsRfa81CXc2C-H0ZaxOyf79Y-wN7Zp20UGliivtNJIkIoHWvjlcNVG3I9nyZTNaNdO8rn9iQ==)। এই 'আধা-রাষ্ট্রীয়' অনুভূতি সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে: যখন মুজাহিদরা স্থানীয় জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থের সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে, তখন কেবল সামরিক হামলা হিতে বিপরীত ফল দেয়।
৩. আফগানিস্তানের শিক্ষা: ক্ষমতা সুসংহতকরণ ও আদর্শিক লড়াই
আফগান তালেবানের পুনরায় ক্ষমতায় আসার প্রায় পাঁচ বছর হতে চলল। বিশ্বব্যাপী জিহাদি আন্দোলনের জন্য তালেবানের বিজয় ছিল একটি বিশাল মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা, যা প্রমাণ করেছে যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পরাশক্তিকেও হারানো সম্ভব [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFRfF3x4MhLNl9Z3YbsQH9N7jYfRc5_ewXcQ0AIlFldILvfQ4oK4PLshtUCT0qTXq5neD2dfFPks0bfYBs0FJTd1xYJ-5SftJd1GrUfaGNSwhRx6gMJIgor4pcQszZus3xOz1RRRhOOo-9RBLAGGUH22UdaPBwEMpsyPkpCm4IuG1ucEP0YJZAFUQRITFJr6mBTKcSCJpx8vuvlYjNj57DSurv8zltuKqHnSRjcRj38wG52WA==)। তবে ক্ষমতায় আসার পরের অনুভূতিগুলো দ্বন্দ্বে ভরা। একদিকে তালেবান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং আদর্শিক বিশুদ্ধতা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার চেষ্টা করছে; অন্যদিকে তারা 'ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স' (ISKP)-এর কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFRVw4KKUqd8pdVF4rYOUfIhAZtTMDKP1-h5VNJtefvZbmtDGcrwBWOsMguYfMEcvsa3JjZH48tOlyE3cugpwrML0zxBdqgVp9rSZ97CnaghogE8LifpSxKHdLKkOqKSD3X9MxIatCrWdXVwMgFPD1-B1iFCR4p9Xk8fZ65bQ==)।
এই অভ্যন্তরীণ লড়াই মুজাহিদদের মনস্তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে: 'বৈধতা'র প্রতি একগুঁয়ে অন্বেষণ। ISKP তালেবানকে জিহাদি আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে আপস করার দায়ে অভিযুক্ত করে; অন্যদিকে তালেবান তাদের 'ইসলামিক আমিরাত' হিসেবে বৈধ শাসনের অবস্থানের ওপর জোর দেয়। এই আখ্যানের লড়াই ২০২৫ সালে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একাধিক হামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQH9DFLlatVNlt_0cSBJHZDc5AEl5LKiw9eZqa32lyd_bz5wgESncA1GIHNXtrKkK4bcG2JtUcB9YgYkNtRJXBBeKaj-zdNx1Y-5h5clkVk-5A7k_nMNJKpJnvdA8rf_ynv-RHtsA7hPpHKRPf0Ih_29uaRlberx4HApY76tMGigL2Ogl6xkTsRxsjZwR3F0TiRPQ-TpMzSdOCpx8V3-AUBV7gglu4D01pYXYOqSOMjiAfwz9Q==)। পর্যবেক্ষকদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা যে, জিহাদি আন্দোলন কোনো একক সত্তা নয়, তাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই প্রায়শই বাইরের যুদ্ধের চেয়েও বেশি নিষ্ঠুর হয়।
৪. মনস্তাত্ত্বিক অনুপ্রেরণার গভীর বিশ্লেষণ: 'বিদেশী যোদ্ধা' থেকে 'ডিজিটাল নোম্যাড'
২০২৬ সালে এসে মুজাহিদদের মনস্তাত্ত্বিক চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অতীতে আন্তঃদেশীয় সীমানা পেরিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার সেই 'বিদেশী যোদ্ধা' মডেল কমে আসছে, তার বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগ ব্যবহার করে সক্রিয় 'ডিজিটাল মুজাহিদ'দের উত্থান ঘটছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQHvONSlxEBeeW0pNlgGS2_5rj3xlaPOA3FXxYJtA8Q4XFGWxamFQLia1tsKLMZBTYaSA_CVZV3H8r8IClsq2t-jRYRNJa4N38wOoef4L9b9OF4HBmG5i4Uhyaa_ue3MeR7bRT0FDB9h)।
- প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অনুভূতি: আধুনিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ড্রোন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং এআই-জেনারেটেড প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করছে। প্রযুক্তির এই 'সমতা' তাদের মনস্তাত্ত্বিক আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, যা তাদের বিশ্বাস করতে সাহায্য করে যে সীমিত সম্পদ নিয়েও তারা শক্তিশালী শত্রুর বড় ধরনের ক্ষতি করতে সক্ষম [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQHKtDolngqQvuLuM3nlx4gRkmgnuOepPoneWZhstMr5dlcQEiRzgqBI2HY-mayDFKa2V-IZY8ObzKk111SN8X5IYAl1w6tGx2UAdc3k74bfSH7ypUe1mIvViomnPJfq4jYwiHgtOlEMcm3Li0no7I0pi2MLscXUuu_X1GMpKMBcR_T2qGdNHj82NknMX7jsRfa81CXc2C-H0ZaxOyf79Y-wN7Zp20UGliivtNJIkIoHWvjlcNVG3I9nyZTNaNdO8rn9iQ==)।
- পরকালতত্ত্ব ও শূন্যতাবাদের সংমিশ্রণ: কিছু চরমপন্থী উপদলের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং দারিদ্র্যের কারণে এক ধরনের শূন্যতাবাদী পরকালতত্ত্ব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তারা আর ইহজাগতিক রাজনৈতিক বিজয় চায় না, বরং মৃত্যুকে শাশ্বত ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ হিসেবে দেখে। এই মানসিক অবস্থা প্রথাগত দমনমূলক ব্যবস্থাকে প্রায় অকার্যকর করে তোলে।
- পরিচয় সংকট: পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাসকারী মুসলিম যুবকদের মধ্যে উগ্র ডানপন্থীদের উত্থান এবং ইসলামোফোবিয়ার বিস্তারের কারণে অনেকে মূলধারার সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করছেন। এই প্রান্তিকীকরণ তাদের অনলাইন জিহাদি আখ্যানের মধ্যে এক ধরনের বীরত্ব এবং আপনজন খুঁজে পাওয়ার বিভ্রম তৈরি করে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQHFu4zcVvoYLZWko6NP7A0T6YdcEk93OOfL7n2Is0V9sCvra6uI16bddYITXCIGh2WwZe5-PpMsxTcIahlTaufQNFEylYAKRkqFDidMQnSSO968292kwRpqw6FAe_z0XrvfyaLTeeN6UBk2ys3XiUU2PRKaver4pSO5QHwhIfs7OwY9WLQcbXatqJFru1i-_sZW52JjxjDRGdh4EA3U4ZUW1l7ls4BAsweQ6tZXEQDiEUxK5hau6MefAkZtEiy2_2_TuydT-c0K1yQvbfc453AU06rJFy_QbLvveoR6011xPqCJd9s=)।
৫. আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পরিস্থিতির গভীর প্রতিফলন: যখন ওষুধই বিষ হয়ে দাঁড়ায়
বর্তমান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পরিস্থিতি এক ধরনের 'কৌশলগত বিচ্যুতি'র মধ্যে রয়েছে। বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা (যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব) সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্যবহৃত সম্পদকে অন্যদিকে সরিয়ে নিয়েছে, যার ফলে অনেক অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পাচ্ছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQGbMgY6A3azUsT19FNX2jwP-bIpFZf-9bY8kCRubJb-C9bU-CrL8v_VE0eTn6sJ9VlmNePA7p5t09wv0qyDOcYd3cXvScQ9xsJjnIQNeAfcT0gAn147mx5XjhDBBdAvof5rSNEkDIwB5VWNeh4vTLagsQ==)।
আরও গভীর প্রতিফলন হলো: সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধ কি নিজেই সন্ত্রাসবাদের প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে? সাহেল অঞ্চলে রাশিয়ার ভাড়াটে সৈন্য (যেমন Africa Corps) যে কঠোর পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, তা সাময়িকভাবে সশস্ত্র যোদ্ধাদের দমনে সাহায্য করলেও সাধারণ মানুষের ওপর তাদের নির্যাতন আরও বেশি মানুষকে মুজাহিদদের দলে ভিড়তে বাধ্য করছে [Source](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQGbMgY6A3azUsT19FNX2jwP-bIpFZf-9bY8kCRubJb-C9bU-CrL8v_VE0eTn6sJ9VlmNePA7p5t09wv0qyDOcYd3cXvScQ9xsJjnIQNeAfcT0gAn147mx5XjhDBBdAvof5rSNEkDIwB5VWNeh4vTLagsQ==)। এই 'সহিংসতা দিয়ে সহিংসতা দমন' করার যুক্তি সশস্ত্র সংঘাতের পেছনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোকে উপেক্ষা করে। যদি সন্ত্রাসবাদ বিরোধী নীতি কেবল শারীরিক নির্মূলেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং দখলদারিত্ব, দারিদ্র্য ও সার্বভৌমত্বের অভাবের মতো মূল সমস্যাগুলো সমাধান না করে, তবে মুজাহিদদের অনুভূতি ঘৃণার মাটিতে চিরকাল বেড়ে উঠবে।
৬. উপসংহার: ন্যায়বিচারই শান্তির একমাত্র পথ
মুজাহিদদের অনুভূতি হলো একটি আয়না, যা এই বিশ্বের অন্যায় এবং ভেঙে পড়া অবস্থাকে প্রতিফলিত করে। মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রকৃত শান্তি ড্রোনের গর্জনের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, বরং তা প্রতিষ্ঠিত হতে হবে মুসলিম ভূমির সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন এবং বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে।
২০২৬ সালের বিশ্বের একটি নতুন নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন—এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা 'সন্ত্রাসবাদ বিরোধী'র নামে 'হস্তক্ষেপ' করবে না। যখন ন্যায়বিচার আর শক্তিশালী শক্তির হাতের পুতুল হবে না, যখন প্রতিটি মুসলিম যুবক নিজের মাটিতে আশা ও মর্যাদা দেখতে পাবে, তখনই জিহাদ সংক্রান্ত সেই উগ্র অনুভূতিগুলো তাদের টিকে থাকার মাটি হারাবে। ইতিহাস প্রমাণ করবে যে, শক্তি দিয়ে দুর্গ ধ্বংস করা যায়, কিন্তু কেবল ন্যায়বিচারই মানুষের মনকে শান্ত করতে পারে।
মন্তব্য
comments.comments (0)
Please login first
Sign in