
খিলাফতের অনুসরণ: এই শক্তির উত্থানের প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এর ক্রমাগত প্রভাবের গভীর বিশ্লেষণ
এই নিবন্ধটি মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমসাময়িক চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা 'খিলাফত' ধারণার বিকৃতির বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে। এটি আফ্রিকা মহাদেশের সাহেল অঞ্চল এবং আফগানিস্তানে এর সাম্প্রতিক বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে।
নিবন্ধের তথ্যসূত্র
এই নিবন্ধটি মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমসাময়িক চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা 'খিলাফত' ধারণার বিকৃতির বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে। এটি আফ্রিকা মহাদেশের সাহেল অঞ্চল এবং আফগানিস্তানে এর সাম্প্রতিক বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে।
- এই নিবন্ধটি মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমসাময়িক চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা 'খিলাফত' ধারণার বিকৃতির বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে। এটি আফ্রিকা মহাদেশের সাহেল অঞ্চল এবং আফগানিস্তানে এর সাম্প্রতিক বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে।
- বিভাগ
- বিবৃতি
- লেখক
- Nguyễn Tuấn Nghĩa (@nguyntunngha)
- প্রকাশিত
- ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ ১১:৩৩ PM
- হালনাগাদ করা হয়েছে
- ১ মে, ২০২৬ এ ০৯:২৮ PM
- প্রবেশাধিকার
- সর্বজনীন নিবন্ধ
ভূমিকা: খিলাফত ধারণার জটিলতা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ (Ummah) এক অভূতপূর্ব জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন। যদিও সিরিয়া ও ইরাকে তথাকথিত 'ইসলামিক স্টেট' (ISIS)-এর আঞ্চলিক অস্তিত্ব কয়েক বছর আগেই ভেঙে পড়েছে, তবুও 'খিলাফত'—যা একটি গভীর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ ধারণা—চরমপন্থীদের বিকৃতি এবং ভূ-রাজনৈতিক খেলার মধ্যে এখনও আন্দোলিত হচ্ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ ব্রিফিং অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে বেশ কয়েকটি অঞ্চলে আইএসআইএস এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হুমকি কেবল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে [Source](https://amu.tv)।
বিশ্বের বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে 'খিলাফত' মূলত ন্যায়বিচার, ঐক্য এবং বিশ্বাসের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সমসাময়িক আখ্যানে এটি একদল চরমপন্থীর দ্বারা অপহৃত হয়েছে এবং সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই 'খিলাফত' শক্তির উত্থান কেবল একটি নিরাপত্তা হুমকি নয়, বরং এটি ইসলামের মূল মূল্যবোধের বিরুদ্ধে একটি 'অভ্যন্তরীণ সংকট' এবং একই সাথে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ও আঞ্চলিক শাসনের ব্যর্থতার ফলে সৃষ্ট একটি 'বাহ্যিক আপদ'।
ঐতিহাসিক প্রতিধ্বনি: বিলুপ্তি থেকে 'পুনর্জাগরণের' বিভ্রম
১৯২৪ সালে অটোমান তুর্কি খিলাফত ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে মুসলিম বিশ্ব রাজনৈতিক ঐক্য ও আত্মপরিচয় খোঁজার এক দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার এই শূন্যতা এবং ঔপনিবেশিক যুগের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর সীমানা চরমপন্থার বিস্তারের জন্য উর্বর ভূমি তৈরি করেছে। ২০১৪ সালে আইএসআইএস যখন 'খিলাফত' প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়, তখন তারা মূলত ঐক্যের এই আকাঙ্ক্ষাকেই কাজে লাগিয়েছিল এবং একে একটি বর্জনীয় ও সহিংস রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করেছিল।
যাইহোক, প্রকৃত ইসলামি পণ্ডিতরা অনেক আগেই স্পষ্ট করেছেন যে, খিলাফত প্রতিষ্ঠা অবশ্যই মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐকমত্যের (শুরা) ভিত্তিতে হতে হবে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়। বিশ্বের ১২০ জনেরও বেশি প্রখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত আইএসআইএস-এর বৈধতাকে নিন্দা জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। তারা উল্লেখ করেছিলেন যে, তাদের কর্মকাণ্ড শান্তি, করুণা এবং ন্যায়বিচার সম্পর্কিত ইসলামের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী [Source](https://by.gov.sg)। তা সত্ত্বেও, যুদ্ধবিধ্বস্ত, শাসনব্যবস্থায় ব্যর্থ এবং বাহ্যিক আধিপত্যের শিকার অঞ্চলগুলোতে এই বিকৃত 'পুনর্জাগরণের' বিভ্রম এখনও সেইসব তরুণদের আকৃষ্ট করে যারা বর্তমান বাস্তবতায় হতাশ।
ভৌগোলিক কেন্দ্রের পরিবর্তন: আফ্রিকা মহাদেশের সাহেল অঞ্চলের 'নতুন ফ্রন্ট'
২০২৫ এবং ২০২৬ সালে পদার্পণ করে দেখা যাচ্ছে যে, আইএসআইএস-এর বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু ঐতিহ্যবাহী মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকার দিকে, বিশেষ করে সাহেল (Sahel) অঞ্চলে সরে গেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একটি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রভিন্স (ISSP) মালি, বুর্কিনা ফাসো এবং নাইজারের সীমান্ত এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য বিস্তার ঘটিয়েছে [Source](https://icct.nl)।
এই ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে: ১. **শাসনের শূন্যতা ও দারিদ্র্য**: প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় সরকারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো মৌলিক 'নিরাপত্তা' ও 'বিচার' প্রদানের মাধ্যমে ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ করছে। ২. **বাহ্যিক শক্তির প্রত্যাহার ও পরিবর্তন**: ফ্রান্সসহ পশ্চিমা সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার এবং রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপ (বর্তমানে আফ্রিকা লিজিয়ন)-এর হস্তক্ষেপে অঞ্চলের সামরিক গতিশীলতায় আমূল পরিবর্তন এসেছে, যা চরমপন্থীদের বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে [Source](https://acleddata.com)। ৩. **স্থানীয় দ্বন্দ্বের তীব্রতা**: চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো চতুরতার সাথে জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পদের প্রতিযোগিতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দুর্বলদের রক্ষাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে।
মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের এই অস্থিরতা উম্মাহর জন্য একটি বড় বেদনার জায়গা। এটি কেবল বিপুল সংখ্যক মুসলিম বেসামরিক নাগরিকের হতাহত ও বাস্তুচ্যুতির কারণ হচ্ছে না, বরং আফ্রিকার এই সম্ভাবনাময় ভূমিকে অন্তহীন 'প্রক্সি ওয়ার' এবং চরমপন্থার চক্রে ফেলে দিচ্ছে।
খোরাসান প্রদেশ (IS-K): মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিরতার উৎস
আফগানিস্তানে তালেবান সরকার তাদের শাসন সুসংহত করার চেষ্টা করলেও, ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ (IS-K) এখনও তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি কাবুলে বেসামরিক নাগরিক ও বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো একটি হামলা আবারও আইএস-কে-এর অনমনীয়তার প্রমাণ দিয়েছে [Source](https://amu.tv)।
আইএস-কে কেবল আফগানিস্তানের ভেতরেই হামলা চালাচ্ছে না, তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখন আন্তঃদেশীয় পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে ইরানের কেরমান, রাশিয়ার মস্কো এবং তুরস্কে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার সাথে এই গোষ্ঠীটির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে [Source](https://thesoufancenter.org)। আইএস-কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (AI) উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বহুভাষায় প্রচারণা ও সদস্য সংগ্রহ করছে এবং তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের মতো মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করছে [Source](https://thesoufancenter.org)।
এই আন্তঃদেশীয় হুমকি মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোকে বিশাল ভূ-রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে। এই দেশগুলোর জন্য সার্বভৌম নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত এবং প্রায়শই পক্ষপাতদুষ্ট 'সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আখ্যান' এড়িয়ে চলা একটি বড় পরীক্ষা।
লেভান্টের নতুন বাস্তবতা: আসাদ-পরবর্তী সিরিয়া ও ইরাক
আইএসআইএস-এর উৎপত্তিস্থল সিরিয়া ও ইরাকে ২০২৫ সালের পর পরিস্থিতি এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতন এবং 'হায়াত তাহরির আল-শাম' (HTS) এর নেতৃত্বে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে [Source](https://providencemag.com)।
যদিও সিরিয়া ও ইরাকে আইএসআইএস-এর সক্রিয় যোদ্ধার সংখ্যা কমে ১,৫০০ থেকে ৩,০০০-এর কাছাকাছি নেমে এসেছে, তবুও তাদের গোপন সেলগুলো এখনও সক্রিয় [Source](https://icct.nl)। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার পালমিরা অঞ্চলে টহল দলের ওপর চালানো হামলায় মার্কিন ও সিরীয় বাহিনীর হতাহতের ঘটনা প্রমাণ করে যে, এই গোষ্ঠীটি এখনও নিরাপত্তার ফাঁকফোকর দিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে [Source](https://ine.org.pl)।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সিরিয়ার শাসন পরিবর্তনের সাথে সাথে আল-হোল ক্যাম্পের মতো শিবিরগুলো—যেখানে হাজার হাজার আইএসআইএস সদস্য ও তাদের পরিবার বন্দি ছিল—ব্যবস্থাপনা সংকটের মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশৃঙ্খলার সুযোগে আইএসআইএস সংশ্লিষ্ট শত শত বন্দি পালিয়ে গেছে, যা এই গোষ্ঠীটির 'পুনরুত্থানের' ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে [Source](https://rojavainformationcenter.org)।
ভূ-রাজনৈতিক খেলা: বৃহৎ শক্তির হস্তক্ষেপ ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সংকট
'খিলাফত' শক্তির ক্রমাগত অস্তিত্ব অনেকাংশেই বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক খেলার উপজাত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকে তাদের সামরিক মিশন শেষ করার ঘোষণা দিলেও, সিরিয়ায় তাদের অবস্থান এবং ইরানের ওপর ক্রমাগত চাপ অঞ্চলের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে রেখেছে [Source](https://parliament.uk) [Source](https://hawarnews.com)।
মুসলিম স্বার্থের দিক থেকে দেখলে, বাইরের বৃহৎ শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ প্রায়শই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তারা কখনও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে, আবার কখনও দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। এই হস্তক্ষেপ কেবল চরমপন্থা নির্মূল করতে ব্যর্থই হয়নি, বরং মুসলিম দেশগুলোর স্বাধীনভাবে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে ইসরায়েল ও ইরানের সরাসরি সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর টিকে থাকার জন্য আরও সুযোগ তৈরি করেছে [Source](https://specialeurasia.com)।
মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন: আখ্যানের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়া
'খিলাফত' শক্তির ক্রমাগত আঘাতের মুখে মুসলিম সমাজের ভেতরে গভীর প্রতিফলন ঘটছে। চরমপন্থীদের হাত থেকে 'খিলাফত', 'জিহাদ' এবং 'শরিয়া'র মতো মূল ধারণাগুলোর ব্যাখ্যার অধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই 'আখ্যানের প্রতিরোধ' কেবল একাডেমিক মহলেই নয়, সাধারণ মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রতিফলিত হচ্ছে [Source](https://oup.com)।
প্রকৃত ঐক্য (উম্মাহ) রক্তক্ষয়ী বিজয়ের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং অভিন্ন বিশ্বাস, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা উচিত। মুসলিম দেশগুলোর প্রয়োজন আরও ন্যায়সঙ্গত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, দারিদ্র্য ও অন্যায় দূর করা, যাতে চরমপন্থার মূল কারণগুলো উপড়ে ফেলা যায়। একই সাথে, 'সন্ত্রাসবাদ দমনের' নামে যারা নিপীড়ন চালায়, সেইসব অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
উপসংহার: প্রকৃত ঐক্য ও শান্তির পথে
'খিলাফতের অনুসরণ' মানে কোনো সহিংস বিভ্রমের পেছনে ছোটা নয়, বরং ইসলামের শিক্ষায় বর্ণিত ন্যায়বিচার, শান্তি ও ঐক্যের প্রকৃত নির্যাস অনুসন্ধান করা। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব মুসলিম সমাজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অবশিষ্টাংশ এবং তাদের বিস্তার এখনও একটি বাস্তব হুমকি, তবে গভীরতর চ্যালেঞ্জ হলো ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কীভাবে মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠন করা যায়।
যখন মুসলিম দেশগুলো স্বাধীনভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে সক্ষম হবে, যখন উম্মাহর সদস্যরা চরমপন্থার মিথ্যাচার চিনতে পারবে এবং যখন বাহ্যিক হস্তক্ষেপ আর আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণ হবে না, তখনই এই পবিত্র ভূমিতে প্রকৃত শান্তি ও সমৃদ্ধি আসবে। এর জন্য কেবল সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন বিশ্বাস ও প্রজ্ঞার এক নতুন জাগরণ।
মন্তব্য
comments.comments (0)
Please login first
Sign in