ইসলামিক স্টেট (আইএস), যা ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস), ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট (আইএসআইএল) বা তাদের আরবি সংক্ষিপ্ত নাম 'দায়েশ' নামেও পরিচিত, একটি আন্তঃদেশীয় সালাফি-জিহাদি জঙ্গি সংগঠন। চরম নৃশংসতা, ইরাক ও সিরিয়ায় ভূখণ্ড দখল এবং ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী খিলাফত ঘোষণার মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে কুখ্যাতি অর্জন করে।
২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরবর্তী বিশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মধ্য থেকে আইএসআইএস-এর উৎপত্তি। ১৯৯৯ সালে আবু মুসাব আল-জারকাউয়ি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'জামায়াত আল-তাওহিদ ওয়াল-জিহাদ' থেকে এই গোষ্ঠীর শিকড় খুঁজে পাওয়া যায়। ২০০৪ সালে জারকাউয়ি আল-কায়েদার প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে 'আল-কায়েদা ইন ইরাক' (একিউআই) গঠন করেন, যা ইরাকি সরকার ও বিদেশি বাহিনীর বিরুদ্ধে সুন্নি বিদ্রোহের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
২০০৬ সালে জারকাউয়ির মৃত্যুর পর, গোষ্ঠীটি অন্যান্য জঙ্গিদের সাথে মিশে গিয়ে 'ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক' (আইএসআই) নামে নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে। সুন্নি উপজাতিদের বিরোধিতার কারণে প্রভাব কমে যাওয়ার পর, আবু বকর আল-বাগদাদির নেতৃত্বে গোষ্ঠীটি পুনর্গঠিত হয়। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং ইরাকের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে ২০১৩ সালে তারা সিরিয়ায় বিস্তার লাভ করে এবং শেষ পর্যন্ত আল-কায়েদা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২০১৪ সালের জুন মাসে আল-বাগদাদি বিশ্বব্যাপী খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন এবং সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে কেবল 'ইসলামিক স্টেট' রাখেন।
ইসলামিক স্টেটের আদর্শ সালাফিবাদ, ওয়াহাবিবাদ এবং কুতুববাদের সংমিশ্রণে গঠিত এক চরমপন্থী ও রক্ষণশীল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। গোষ্ঠীটি শরিয়া আইনের কঠোর ব্যাখ্যার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চায় এবং বিশ্বব্যাপী খিলাফত ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বের সকল মুসলিমের ওপর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দাবি করে—যে দাবি বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম প্রত্যাখ্যান করেছে।
গোষ্ঠীটি বিশ্বজুড়ে সদস্য নিয়োগ এবং উগ্রবাদ ছড়ানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কার্যকর প্রচার কৌশল ব্যবহার করে কুখ্যাতি অর্জন করে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক জোট গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালায়, যার ফলে ২০১৭ সালের শেষের দিকে ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের দখলকৃত ভূখণ্ড হাতছাড়া হয়ে যায়। যদিও তারা তাদের ভূখণ্ডভিত্তিক 'খিলাফত' হারিয়েছে, তবুও তারা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক শাখার মাধ্যমে একটি বিকেন্দ্রীভূত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।