পূর্ব তুর্কিস্তান স্বাধীনতা আন্দোলন চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের অনেক উইঘুর এবং অন্যান্য তুর্কি জনগণের মধ্যে এক শতাব্দী ধরে চলে আসা একটি বহুমুখী রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এই আন্দোলনের সমর্থকরা পূর্ব তুর্কিস্তান বা উইঘুরস্তান নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
স্বাধীনতার এই প্রচেষ্টা অঞ্চলটির ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে জড়িত এবং এটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ও চীনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে বারবার সৃষ্ট উত্তেজনার দ্বারা চিহ্নিত। কিং রাজবংশের পতনের পর, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে স্বাধীনতার সাময়িক ঘোষণা এসেছিল। ১৯৩৩ সালে কাশগড়ে প্যান-তুর্কি ও ইসলামি আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথম পূর্ব তুর্কিস্তান প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও এক বছরের মধ্যেই চীনা প্রাদেশিক বাহিনী তা দমন করে।
১৯৪৪ সালে ইলি বিদ্রোহের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের গোপন সমর্থনে উত্তর জিনজিয়াংয়ে (ইলি অঞ্চল) দ্বিতীয় পূর্ব তুর্কিস্তান প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়। ১৯৪৯ সালে পিপলস লিবারেশন আর্মি অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করলে এবং এটিকে নবগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলে এই প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়।
১৯৪৯ সাল থেকে এই স্বাধীনতা আন্দোলন বিভিন্ন রূপে টিকে আছে। এর সমর্থকরা এই সংগ্রামকে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষা এবং মানবাধিকারের লড়াই হিসেবে তুলে ধরেন। এই আন্দোলনটি চীনের ভেতরে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসনের দাবি থেকে শুরু করে পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি পর্যন্ত বিস্তৃত রাজনৈতিক অবস্থানের সমন্বয়ে গঠিত। ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের মতো প্রবাসে থাকা অধিকাংশ সংগঠন শান্তিপূর্ণ, অহিংস এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পক্ষে স্পষ্টভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
চীনা সরকার এই স্বাধীনতা আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে এবং প্রায়শই একে সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থার সাথে যুক্ত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি জিনজিয়াংয়ে চীনের নিরাপত্তা নীতির একটি কেন্দ্রীয় উপাদান, যা ব্যাপক নজরদারি, আটক এবং পুনঃশিক্ষা কর্মসূচিকে বৈধতা দিতে ব্যবহৃত হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উইঘুর অধিকারের শান্তিপূর্ণ প্রচার এবং জঙ্গি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, কারণ এই দুটিকে গুলিয়ে ফেললে তা বৈধ মানবাধিকার আলোচনার পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।