ইলহাম তোহতি একজন বিশিষ্ট উইঘুর অর্থনীতিবিদ, প্রাবন্ধিক এবং মানবাধিকার কর্মী, যিনি বর্তমানে চীনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি বেইজিংয়ের মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ফর ন্যাশনালিটিস) অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন, যেখানে তিনি উইঘুর-হান সম্পর্কের ওপর গবেষণা করতেন এবং চীনে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন আইন বাস্তবায়নের পক্ষে কথা বলতেন।
তোহতি ধারাবাহিকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে উইঘুর এবং হান চীনা জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সংলাপ, পুনর্মিলন ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রচার চালিয়েছেন। ২০০৬ সালে তিনি 'উইঘুর অনলাইন' (Uighurbiz.net) নামে একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল একটি দ্বিভাষিক প্ল্যাটফর্ম। এটি উইঘুর সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে এমন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনার সুযোগ করে দিত। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে সরকারের নীতি, বিশেষ করে কর্মসংস্থান, ভাষাগত অধিকার এবং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের বিষয়ে সমালোচনা করতেন।
২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তোহতিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েক মাস তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে, দুই দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার বিচারের পর তাকে 'বিচ্ছিন্নতাবাদ'-এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চীনা সরকার তার বিরুদ্ধে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে চরমপন্থা উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও তার সমর্থকরা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা এই বিচারকে একজন মধ্যপন্থী ও শান্তিপূর্ণ কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।
কারাবন্দী হওয়া সত্ত্বেও, জাতিগত বিভেদ দূর করার জন্য তার অহিংস প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ ইলহাম তোহতি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। উইঘুর ও অন্যান্য চীনা জনগণের মধ্যে সংলাপ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধির জন্য তার অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাকে শাখারভ পুরস্কার প্রদান করে। এছাড়া তিনি পেন/বারবারা গোল্ডস্মিথ ফ্রিডম টু রাইট অ্যাওয়ার্ড (২০১৪), মার্টিন এনালস অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস (২০১৬), লিবারেল ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর ফ্রিডম (২০১৭) এবং ওয়েইমার হিউম্যান রাইটস প্রাইজ (২০১৭) পেয়েছেন। তিনি একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
তার মামলাটি জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর বুদ্ধিজীবী এবং মধ্যপন্থী কণ্ঠস্বর দমনের একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।