সুইডিশ উইঘুর কমিটি ইউরোপে উইঘুরদের অধিকার রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে

সুইডিশ উইঘুর কমিটি ইউরোপে উইঘুরদের অধিকার রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে

wow player@wowplayer
3
0

২০২৬ সাল থেকে সুইডিশ উইঘুর কমিটির নতুন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, চীনের আন্তঃদেশীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা এবং ইসলামি উম্মাহর অংশ হিসেবে উইঘুরদের পরিচয় রক্ষার সংগ্রাম সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন।

নিবন্ধের তথ্যসূত্র

২০২৬ সাল থেকে সুইডিশ উইঘুর কমিটির নতুন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, চীনের আন্তঃদেশীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা এবং ইসলামি উম্মাহর অংশ হিসেবে উইঘুরদের পরিচয় রক্ষার সংগ্রাম সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন।

  • ২০২৬ সাল থেকে সুইডিশ উইঘুর কমিটির নতুন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, চীনের আন্তঃদেশীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা এবং ইসলামি উম্মাহর অংশ হিসেবে উইঘুরদের পরিচয় রক্ষার সংগ্রাম সম্পর্কে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন।
বিভাগ
প্রতিরোধের ঐতিহ্য
লেখক
wow player (@wowplayer)
প্রকাশিত
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ ০৫:৫২ PM
হালনাগাদ করা হয়েছে
২ মে, ২০২৬ এ ০৮:২১ AM
প্রবেশাধিকার
সর্বজনীন নিবন্ধ

ভূমিকা: নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং উম্মাহর দায়িত্ব

আজ পূর্ব তুর্কিস্তানের উইঘুর মুসলিমরা যে চরম নিপীড়ন ও পরিচয়গত গণহত্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়কে ব্যথিত করছে। চীন কমিউনিস্ট পার্টির ইসলাম ধর্মকে 'চীনাপকরণ' করার নামে মসজিদ ধ্বংস করা, পবিত্র কুরআন নিষিদ্ধ করা এবং ধর্মীয় আলেমদের বন্দি করার নীতির বিরুদ্ধে প্রবাসে থাকা উইঘুর সংগঠনগুলো তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, সুইডিশ উইঘুর কমিটি (Svenska Uyghur Kommittén) ইউরোপের অন্যতম সক্রিয় সংগঠন হিসেবে ২০২৬ সাল থেকে উইঘুরদের অধিকার রক্ষা এবং ইসলামি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে একগুচ্ছ নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে [Scandasia](https://scandasia.com/tag/the-swedish-uyghur-committee-suc/)।

রাজনৈতিক প্রচারণা এবং সুইডিশ সরকারের কাছে আবেদন

সুইডিশ উইঘুর কমিটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সুইডিশ পার্লামেন্ট (Riksdag) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ডের চীনা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের প্রাক্কালে, সুইডিশ উইঘুর কমিটি এবং পূর্ব তুর্কিস্তান নির্বাসিত সরকার যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে তারা সুইডিশ সরকারকে উইঘুরদের ওপর চীনের চালানো গণহত্যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানায় [East-Turkistan.net](https://east-turkistan.net/east-turkistan-government-in-exile-urges-sweden-to-condemn-chinas-genocide-during-upcoming-meetings/)।

এই আহ্বানে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে: ১. **জোরপূর্বক শ্রমের বিরোধিতা:** চীনের জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য সুইডিশ বাজারে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা। ২. **পারিবারিক ঐক্য রক্ষা:** দশ লক্ষাধিক উইঘুর শিশুকে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে চীনা ক্যাম্পে আত্তীকরণের প্রক্রিয়া বন্ধ করা। ৩. **ধর্মীয় স্বাধীনতা:** উইঘুরদের ইসলামি বিশ্বাস ও ধর্মীয় কার্যক্রমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা [Muslim Network TV](https://muslimnetwork.tv/exiled-east-turkistan-leaders-urge-sweden-to-confront-china-over-uyghur-genocide/)।

আন্তঃদেশীয় দমন-পীড়ন এবং গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই

সুইডেনের উইঘুর সম্প্রদায় কেবল রাজনৈতিক প্রচারণায় সীমাবদ্ধ নয়, তারা সুইডিশ মাটিতে চীন সরকারের আন্তঃদেশীয় দমন-পীড়নের (Transnational Repression) বিরুদ্ধেও সক্রিয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে, সুইডিশ পুলিশ উইঘুর কমিটির সদস্যদের ওপর চীনা গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করে [Scandasia](https://scandasia.com/tag/the-swedish-uyghur-committee-suc/)। এই ঘটনা সুইডেনে বসবাসরত উইঘুরদের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিজাত তুরগুনের মতো কর্মীদের নেতৃত্বে, কমিটির সদস্যরা সুইডিশ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে সহযোগিতা করে চীনের হুমকি থেকে আত্মরক্ষার জন্য নতুন নির্দেশিকা তৈরি করেছেন [Tibet Office](https://tibetoffice.ch/nijat-turghun-geneva-forum-2023/)। এই কার্যক্রমগুলো প্রবাসে থাকা মুসলিমদের নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং অত্যাচারী শক্তির অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করে।

সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ঐতিহ্য রক্ষা: 'মাতৃভাষা' স্কুল

পূর্ব তুর্কিস্তানে শিক্ষা ও সামাজিক জীবন থেকে উইঘুর ভাষাকে মুছে ফেলার চীনা প্রচেষ্টার মোকাবিলায় সুইডিশ উইঘুর কমিটি তাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে। সুইডিশ পেন (Swedish PEN) ক্লাব ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, চীন পদ্ধতিগতভাবে উইঘুর ভাষা ও সাহিত্য ধ্বংস করছে [PEN International](https://www.pen-international.org/news/swedish-pen-releases-new-report-on-systematic-human-rights-violations-in-xinjiang-china)।

এর জবাবে, সুইডিশ উইঘুর কমিটি স্টকহোম এবং অন্যান্য শহরে উইঘুর মাতৃভাষা স্কুলগুলোকে আরও গতিশীল করেছে। এই স্কুলগুলোতে কেবল ভাষাই শেখানো হয় না, বরং উইঘুরদের ইসলামি নৈতিকতা, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। উম্মাহর ভবিষ্যৎ এই তরুণরা যাতে নিজেদের পরিচয় ভুলে না যায়, সেজন্য এই কার্যক্রমগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভূমিকা পালন করছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মুসলিম বিশ্বের নীরবতাকে চ্যালেঞ্জ

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, উইঘুর স্টাডিজ সেন্টার (CUS) এবং ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্মেলনে (IRF Summit 2026) অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তারা উইঘুর মুসলিমদের ওপর ধর্মীয় নিপীড়নের বিষয়টি আবারও বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেন [Uyghur Study](https://uyghurstudy.org/cus-participation-at-the-irf-summit-2026-elevating-uyghur-religious-freedom/)। সুইডিশ উইঘুর কমিটি ইউরোপে এই আন্তর্জাতিক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে, চীনের সাথে অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে মুসলিম দেশগুলোর নীরবতার কঠোর সমালোচনা করে আসছে তারা।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে, একজন মুসলিমের ওপর অত্যাচার মানে পুরো উম্মাহর ওপর অত্যাচার। সুইডিশ উইঘুর কমিটি তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোর মুসলিম সম্প্রদায়কে সংগঠিত করছে এবং পূর্ব তুর্কিস্তান ইস্যুটিকে কেবল একটি রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে নয়, বরং একটি বিশ্বাস ও মানবিকতার সংকট হিসেবে তুলে ধরছে [Justice For All](https://www.justiceforall.org/save-uyghur/justice-for-alls-save-uyghur-campaign-responds-to-un-experts-alarm-on-forced-labor-in-china-occupied-east-turkistan/)।

যুব কংগ্রেস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস ২০২৬ সালের মে মাসে মিউনিখে অনুষ্ঠিতব্য 'তৃতীয় উইঘুর যুব কংগ্রেস'-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে [Uyghur News](https://uygurnews.com/february-2026-uygur-news/)। সুইডিশ উইঘুর কমিটি এই কংগ্রেসে সুইডেন থেকে একদল সক্রিয় তরুণকে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় উইঘুর তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই নতুন কার্যক্রমগুলোর মূলমন্ত্র হলো—'আশা না হারানো' এবং 'সত্য বলা'। চীনের বিশাল অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও, সুইডেনের একদল মুসলিমের নিজেদের পরিচয় ও বিশ্বাসের জন্য এই সংগ্রাম সারা বিশ্বের মজলুম মানুষের জন্য একটি উদাহরণ।

উপসংহার

২০২৬ সালে সুইডিশ উইঘুর কমিটির নতুন কার্যক্রম উইঘুরদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চীনের আন্তঃদেশীয় গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মকে ইসলামি ও জাতীয় পরিচয়ে শিক্ষিত করা এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। ইসলামি উম্মাহর অবিচ্ছেদ্য অংশ উইঘুরদের এই ন্যায়সঙ্গত সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত অবশ্যই জয়ী হবে, কারণ জুলুম চিরকাল স্থায়ী হয় না [Fair Observer](https://www.fairobserver.com/region/asia_pacific/sweden-leads-the-way-on-uighur-rights/)।

মন্তব্য

comments.comments (0)

Please login first

Sign in