আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টার উইঘুর ভাষা ও সাহিত্য রক্ষা এবং সৃজনশীল স্বাধীনতা প্রচারের জন্য নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে

আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টার উইঘুর ভাষা ও সাহিত্য রক্ষা এবং সৃজনশীল স্বাধীনতা প্রচারের জন্য নতুন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে

Jaap Tiemens@jaaptiemens
2
0

আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টার সাংস্কৃতিক গণহত্যা মোকাবিলা, উইঘুর ভাষা সংরক্ষণ এবং বন্দী বুদ্ধিজীবীদের উদ্ধারের জন্য নতুন কৌশলগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

নিবন্ধের তথ্যসূত্র

আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টার সাংস্কৃতিক গণহত্যা মোকাবিলা, উইঘুর ভাষা সংরক্ষণ এবং বন্দী বুদ্ধিজীবীদের উদ্ধারের জন্য নতুন কৌশলগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

  • আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টার সাংস্কৃতিক গণহত্যা মোকাবিলা, উইঘুর ভাষা সংরক্ষণ এবং বন্দী বুদ্ধিজীবীদের উদ্ধারের জন্য নতুন কৌশলগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।
বিভাগ
প্রতিরোধের ঐতিহ্য
লেখক
Jaap Tiemens (@jaaptiemens)
প্রকাশিত
৩ মার্চ, ২০২৬ এ ০২:০৯ AM
হালনাগাদ করা হয়েছে
৫ মে, ২০২৬ এ ০৬:৩০ AM
প্রবেশাধিকার
সর্বজনীন নিবন্ধ

ভূমিকা: পরিচয় ও বিশ্বাসের দুর্গ হিসেবে ভাষা

আজকের বিশ্বে, একটি জাতির অস্তিত্ব তার ভাষা ও সাহিত্যের প্রাণশক্তির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টার (International Uyghur PEN Centre) সম্প্রতি তাদের বার্ষিক সাধারণ সভায় পূর্ব তুর্কিস্তানে উইঘুর ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর পদ্ধতিগত ধ্বংসাত্মক নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার লক্ষ্যে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তগুলো কেবল একটি সাহিত্য সংগঠনের কর্মপরিকল্পনা নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর অবিচ্ছেদ্য অংশ উইঘুর জনগণের নিজস্ব পরিচয়, বিশ্বাস এবং স্বাধীনতা রক্ষার আধ্যাত্মিক প্রতিরোধের ইশতেহার। International Uyghur PEN Centre

নতুন সিদ্ধান্তসমূহের বিষয়বস্তু ও কৌশলগত গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টার কর্তৃক গৃহীত নতুন সিদ্ধান্তগুলো মূলত চারটি প্রধান ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে:

১. **উইঘুর ভাষার ডিজিটালাইজেশন এবং বৈশ্বিক আর্কাইভ তৈরি:** উইঘুর ভাষার বই পোড়ানো এবং স্কুলগুলোতে এই ভাষা নিষিদ্ধ করার চীনা নীতির বিপরীতে, সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা উইঘুর ভাষার সাহিত্যকর্মগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের প্রকল্প শুরু করেছে। PEN International

২. **অনুবাদ ও বৈশ্বিক প্রচারণা:** উইঘুর সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাজগুলো, বিশেষ করে ইসলামি মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার থিম সম্বলিত রচনাগুলো আরবি, ইংরেজি এবং তুর্কি ভাষায় অনুবাদ ও প্রচারের মাধ্যমে উইঘুর ইস্যুটিকে বিশ্ব সাহিত্যের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা।

৩. **বন্দী লেখকদের উদ্ধারের আন্দোলন:** বর্তমানে চীনা কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দী থাকা রাহিলে দাওয়াত, পারহাত তুনসুন এবং ইয়ালকুন রোজির মতো শত শত বুদ্ধিজীবীর মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করা। Uyghur Human Rights Project

৪. **নির্বাসিত তরুণ লেখকদের দিকনির্দেশনা:** প্রবাসে বেড়ে ওঠা উইঘুর সন্তানদের মধ্যে মাতৃভাষায় সৃজনশীল কাজ করার আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে বিশেষ পুরস্কার ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা।

ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি: ভাষা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য" (সূরা রুম, আয়াত ২২)। তাই উইঘুর ভাষা রক্ষা করা কেবল একটি জাতীয় ইস্যু নয়, বরং আল্লাহর একটি নিদর্শন (চিহ্ন) মুছে ফেলার চেষ্টাকারী জালিম শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, যা একটি ইবাদত স্বরূপ।

উইঘুর সাহিত্য শতাব্দীকাল ধরে ইসলামি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। 'কুতাদগু বিলিগ' এবং 'দিওয়ানু লুগাতিত তুর্ক'-এর মতো কালজয়ী কাজগুলো তুর্কি ভাষা এবং ইসলামি চিন্তাধারার অমূল্য সম্পদ। আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টারের এই ভাষা রক্ষার প্রচেষ্টা মূলত ইসলামি সাংস্কৃতিক বিশ্বের একটি অংশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর লড়াই। Radio Free Asia Uyghur

বুদ্ধিজীবীদের ভাগ্য এবং উম্মাহর দায়িত্ব

আজকের দিনে পূর্ব তুর্কিস্তানে বুদ্ধিজীবী হওয়া মানেই বিপদের কেন্দ্রে থাকা। চীনা কর্তৃপক্ষ উইঘুর সমাজের 'মস্তিষ্ক' হিসেবে পরিচিত লেখক, কবি ও গবেষকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে জনগণের আধ্যাত্মিক স্তম্ভ ভেঙে দিতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, প্রখ্যাত লোকসংস্কৃতি গবেষক ড. রাহিলে দাওয়াতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া বিশ্ব সাহিত্য ও জ্ঞান জগতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। The Guardian - Rahile Dawut

মুসলিম বিশ্বের এই জুলুমের বিরুদ্ধে নীরব থাকা উচিত নয়। মুসলিম লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের উচিত উইঘুর লেখকদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের কাজগুলো আরব ও মুসলিম বিশ্বে পরিচিত করানো। জুলুমের বিরুদ্ধে কলম দিয়ে জিহাদ করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

সৃজনশীল স্বাধীনতা ও সত্যের জয়

আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টারের নতুন সিদ্ধান্তে 'সৃজনশীল স্বাধীনতা'র ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একজন মানুষের তার বিশ্বাস, ইতিহাস ও অনুভূতিকে স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার অধিকার। চীনের প্রচারযন্ত্র যখন উইঘুরদের 'সুখী' দেখানোর চেষ্টা করছে, তখন নির্বাসিত উইঘুর লেখকদের কলমই সত্যের একমাত্র সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংস্থার সভাপতি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতে, এই নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবগুলোতে উইঘুরদের জন্য বিশেষ বিভাগ রাখা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানানো হবে যে, উইঘুররা সাংস্কৃতিকভাবে বিলীন হয়ে যায়নি, বরং আরও শক্তিশালী সংকল্প নিয়ে পুনর্জন্ম লাভ করছে।

উপসংহার: কলম তলোয়ারের চেয়েও শক্তিশালী

আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সেন্টারের এই নতুন পদক্ষেপগুলো উইঘুর জনগণের আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা রক্ষার পথে একটি বড় মোড়। ভাষা টিকে থাকলে জাতি টিকে থাকে; আর জাতি টিকে থাকলে বিশ্বাস ও পরিচয় বজায় থাকে। সারা বিশ্বের মুসলিম এবং বিবেকবান মানুষের উচিত এই লেখকদের কণ্ঠস্বরে কণ্ঠ মেলানো এবং তাদের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করা।

জুলুম চিরস্থায়ী হয় না, কিন্তু সত্য দিয়ে লেখা শব্দগুলো ইতিহাসের পাতায় চিরকাল অম্লান থাকে। উইঘুর লেখকদের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন পূর্ব তুর্কিস্তানের সাংস্কৃতিক ভিত্তি স্থাপন করবে।

মন্তব্য

comments.comments (0)

Please login first

Sign in