
আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন উইঘুর লেখকদের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে এবং বিশ্বব্যাপী সাহিত্যিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে
আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সম্প্রতি আলমাটিতে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন করেছে এবং একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কারাবন্দী উইঘুর বুদ্ধিজীবীদের ভাগ্যের দিকে জরুরি নজর দিতে এবং সম্মিলিতভাবে সাংস্কৃতিক গণহত্যা প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিবন্ধের তথ্যসূত্র
আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সম্প্রতি আলমাটিতে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন করেছে এবং একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কারাবন্দী উইঘুর বুদ্ধিজীবীদের ভাগ্যের দিকে জরুরি নজর দিতে এবং সম্মিলিতভাবে সাংস্কৃতিক গণহত্যা প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন সম্প্রতি আলমাটিতে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন করেছে এবং একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কারাবন্দী উইঘুর বুদ্ধিজীবীদের ভাগ্যের দিকে জরুরি নজর দিতে এবং সম্মিলিতভাবে সাংস্কৃতিক গণহত্যা প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- বিভাগ
- প্রতিরোধের ঐতিহ্য
- লেখক
- Yuri Gerasimov (@yurigerasimov)
- প্রকাশিত
- ১ মার্চ, ২০২৬ এ ০৩:৩১ AM
- হালনাগাদ করা হয়েছে
- ২ মে, ২০২৬ এ ১০:২৪ AM
- প্রবেশাধিকার
- সর্বজনীন নিবন্ধ
ভূমিকা: বিশ্বাসের শেষ প্রতিরক্ষা প্রাচীর হিসেবে লিখনী
২০২৬ সালের এই অস্থির বসন্তে, বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় (উম্মাহ) এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। পূর্ব তুর্কিস্তানে (শিনজিয়াং) বিশ্বাস, ইতিহাস এবং জাতীয় সত্তার বাহক হিসেবে লিখনী আজ এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পেন (PEN International)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন (International Uyghur PEN) সম্প্রতি বিশ্বের কাছে এক বেদনাদায়ক কিন্তু দৃঢ় আহ্বান জানিয়েছে: উইঘুর লেখকদের অস্তিত্ব আজ চরম সংকটে। এটি কেবল সাহিত্যিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন নয়, বরং ইসলামি সভ্যতার বৈচিত্র্য এবং এর বুদ্ধিজীবী শ্রেণির ওপর একটি সুপরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ [Source](https://www.uyghurpen.org/about-us/)।
আন্তর্জাতিক উইঘুর পেনের লক্ষ্য ও সাম্প্রতিক কার্যক্রম
২০০৬ সালে সুইডেনে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি পেন সেন্টারের মধ্যে একটি। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, নির্যাতিত লেখকদের সুরক্ষা এবং উইঘুর সাহিত্যের প্রসারে নিবেদিত [Source](https://www.pen-international.org/centres/uyghur-pen-centre)। বর্তমান সভাপতি, বিশিষ্ট কবি ও পণ্ডিত আজিজ ইসা এলকুন (Aziz Isa Elkun)-এর নেতৃত্বে এই সংস্থাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্বাসিত উইঘুর বুদ্ধিজীবীদের প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল, কাজাখস্তানের আলমাটিতে মির পাবলিশিং হাউসে আন্তর্জাতিক উইঘুর পেনের একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় [Source](https://www.uyghurpen.org/uyghur-pen-centers-election-held-in-almaty/)। অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৪ জন মূল সদস্য অংশ নেন। আজিজ ইসা এলকুন সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন, আলিশের খালিলভ (Alisher Khalilov) সাধারণ সম্পাদক এবং ড. হাকিমজান গুলিয়েভ (Dr. Hakimjan Guliyev) নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন [Source](https://www.azizisa.org/uyghur-pen-centers-election-held-in-almaty/)। এই নির্বাচন কেবল সংগঠনের নেতৃত্বকেই শক্তিশালী করেনি, বরং আগামী বছরগুলোর কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলোও নির্ধারণ করেছে: কারাবন্দী লেখকদের একটি ডাটাবেস তৈরি করা, তুর্কি ভাষাভাষী দেশগুলোর সাথে সাহিত্যিক বিনিময় বৃদ্ধি করা এবং উইঘুর সাংস্কৃতিক গণহত্যার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে লবিং করা।
দুর্ভাগ্যবশত, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক উইঘুর পেনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশিষ্ট লেখক আবদুরেশিদ হাজি কেরিম (Abdureshid Haji Kerimi) সুইডেনের স্টকহোমে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন [Source](https://www.uyghurpen.org/condolence-statement-abdureshid-haji-kerimi/)। জনাব কেরিম তার সারা জীবন উইঘুর জাতির স্বাধীনতা এবং সাহিত্য সাধনায় উৎসর্গ করেছিলেন। তার চলে যাওয়া উইঘুর বুদ্ধিজীবী মহলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং এটি বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয় যে, প্রবীণ উইঘুর পণ্ডিতদের মশাল নিভে আসছে, আর নতুন প্রজন্মের উত্তরাধিকার কঠোর অবরোধের মুখে রয়েছে।
কারান্তরালে আত্মা: বন্দী উইঘুর বুদ্ধিজীবী সমাজ
আন্তর্জাতিক পেনের প্রকাশিত '২০২৫ কেস লিস্ট: আইডেন্টিটি অন ট্রায়াল' অনুযায়ী, চীন এখনও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ লেখক কারাবন্দীকারী দেশ, যেখানে উইঘুর লেখকদের সংখ্যা অনেক বেশি [Source](https://penbelarus.org/en/2025/03/21/identity-on-trial-persecution-and-resistance-pen-international-case-list-2025.html)। এই বন্দী আত্মারা কোনো অপরাধী নন, বরং তারা জাতীয় সংস্কৃতির রক্ষক এবং ইসলামি মূল্যবোধের ব্যাখ্যাকারী।
রাহিলে দাওয়ুত (Rahile Dawut): নিখোঁজ লোকসংস্কৃতির আলোকবর্তিকা
অধ্যাপক রাহিলে দাওয়ুত উইঘুর লোকসংস্কৃতি এবং ইসলামি মাজার গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বেইজিং যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন এবং ২০২৩ সালে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তথাকথিত 'রাষ্ট্রীয় বিচ্ছিন্নতাবাদ'-এর অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে [Source](https://www.theguardian.com/books/2023/oct/11/imprisoned-uyghur-academic-rahile-dawut-named-2023-pen-writer-of-courage)। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বারবার তার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে, অধ্যাপক দাওয়ুতের গবেষণা উইঘুর জনগণের সাথে তাদের ভূমি ও বিশ্বাসের গভীর সম্পর্ককে নথিভুক্ত করেছে। তার কারাবাস উইঘুর ইসলামি সংস্কৃতির শিকড় কেটে ফেলার প্রতীক।
ইয়াকুন রোজি (Yalqun Rozi): পাঠ্যপুস্তকের জাতীয় মেরুদণ্ড
বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক ও শিক্ষাবিদ ইয়াকুন রোজিকে উইঘুর ভাষার পাঠ্যপুস্তক সংকলনের অপরাধে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে [Source](https://www.suomenpen.fi/en/day-of-the-imprisoned-writer-2025/)। ২০২৫ সালের 'আন্তর্জাতিক কারাবন্দী লেখক দিবস'-এ আন্তর্জাতিক পেন তাকে অন্যতম প্রধান গুরুত্বের তালিকায় রেখেছে। মুসলিমদের জন্য ভাষা হলো কুরআন বোঝা এবং পূর্বপুরুষদের জ্ঞান অর্জনের চাবিকাঠি; মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নেওয়া মানে বিশ্বাসের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
পারহাত তুরসুন (Perhat Tursun): আধুনিকতাবাদের শোকগাথা
'উইঘুর কাফকা' নামে পরিচিত পারহাত তুরসুনকে তার গভীর সাহিত্যিক জ্ঞান এবং জাতীয় ভাগ্য নিয়ে দার্শনিক চিন্তার জন্য ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে [Source](https://uyghurhjelp.org/2023/03/30/detained-imprisoned-poets-writers/)। তার কাজগুলো আধুনিকতা এবং ঐতিহ্যগত বিশ্বাসের মধ্যকার দ্বন্দ্ব অনুসন্ধান করে। তার কারাবাস উইঘুর সাহিত্যিক অভিজাত শ্রেণির সামগ্রিক ধ্বংসের ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিরোধ হিসেবে সাহিত্য: নির্বাসনে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ
কঠোর আন্তঃদেশীয় দমন-পীড়ন সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন নির্বাসনে থেকে সাংস্কৃতিক উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। ২০২৫ সালের ১১ জুলাই, সংস্থাটি আলমাটিতে লেখক তালাত বাকি মোল্লাহাজি ওঘলি (Talat Baki Mollahaji Oghli)-র উপন্যাস 'ইটারনাল ভয়েস' (Eternal Voice)-এর মোড়ক উন্মোচন করে [Source](https://www.uyghurpen.org/almaty-hosts-presentation-of-the-novel-eternal-voice/)। এই গ্রন্থটি ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় উইঘুরদের দুঃখ-কষ্টের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছে।
এছাড়াও, পেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে উইঘুর কবিতা প্রচার করছে। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি, সংস্থাটি 'উইঘুর কবিতা ও সাংস্কৃতিক বিলুপ্তি' বিষয়ক একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে জোর দেওয়া হয়েছে যে উইঘুর সমাজে কবিতা কেবল শিল্প নয়, বরং ইতিহাস ও বিশ্বাস রক্ষার একটি গোপন কোড [Source](https://www.azizisa.org/uyghur-poetry-cultural-erasure/)।
মুসলিম বিশ্বের দায়িত্ব: নীরবতা থেকে সংহতি
ইসলামি মূল্যবোধে গভীরভাবে প্রোথিত একটি সংগঠন হিসেবে, আন্তর্জাতিক উইঘুর পেন বারবার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা স্বল্পমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য তাদের বিশ্বাসী ভাইদের অধিকার বিসর্জন না দেয়। ২০২৫ সালে মিউনিখে অনুষ্ঠিত তৃতীয় উইঘুর সম্মেলনে পেনের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, উইঘুর বুদ্ধিজীবীদের দুর্দশা পুরো উম্মাহর বেদনা [Source](https://www.uygurnews.com/january-2026-uygur-news/)।
পেন বিশেষ করে তুরস্ক এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছে। 'ইউরাল-আলতাইক পেন নেটওয়ার্ক' (Ural-Altaic PEN Network)-এর মাধ্যমে উইঘুর লেখকরা কাজাখ, কিরগিজ এবং তুর্কি সহকর্মীদের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এই ঐক্যই বিদেশে উইঘুর সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার অন্যতম গ্যারান্টি।
উপসংহার: অবিনশ্বর কালি, অদম্য আত্মা
আন্তর্জাতিক উইঘুর পেনের সংগ্রাম কেবল কয়েকজন লেখকের মুক্তির জন্য নয়, বরং একটি জাতির বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য। আজিজ ইসা এলকুন ২০২৬ সালের শুরুতে তার ভাষণে যেমনটি বলেছিলেন: "স্বৈরশাসকরা লেখকের শরীরকে বন্দী করতে পারে, কিন্তু শব্দের মধ্যে প্রবাহিত বিশ্বাসকে বন্দী করতে পারে না।" [Source](https://www.azizisa.org/uyghur-pen-centers-election-held-in-almaty/)
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়কে অবশ্যই বুঝতে হবে: উইঘুর লেখকদের রক্ষা করা মানে মানব সভ্যতার বৈচিত্র্য রক্ষা করা। আমরা বিশ্বজুড়ে সরকার, মানবাধিকার সংস্থা এবং সাহিত্যিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা রাহিলে দাওয়ুত, ইয়াকুন রোজি, ইলহাম তোহতি সহ অবৈধভাবে আটক সকল বুদ্ধিজীবীর অবিলম্বে মুক্তির জন্য চাপ সৃষ্টি করে। লিখনী অবিনশ্বর, জাতি চিরঞ্জীব।
মন্তব্য
comments.comments (0)
Please login first
Sign in