
কানাডা উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন পূর্ব তুর্কিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নীরবতা ভাঙার এবং জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে
কানাডা উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন পূর্ব তুর্কিস্তানে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা শুরু করেছে এবং এই নিপীড়ন বন্ধে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
নিবন্ধের তথ্যসূত্র
কানাডা উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন পূর্ব তুর্কিস্তানে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা শুরু করেছে এবং এই নিপীড়ন বন্ধে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
- কানাডা উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন পূর্ব তুর্কিস্তানে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা শুরু করেছে এবং এই নিপীড়ন বন্ধে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
- বিভাগ
- প্রতিরোধের ঐতিহ্য
- লেখক
- Damien ENGEMANN (@damienengemann)
- প্রকাশিত
- ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ ০২:৫০ PM
- হালনাগাদ করা হয়েছে
- ১ মে, ২০২৬ এ ০২:২২ PM
- প্রবেশাধিকার
- সর্বজনীন নিবন্ধ
ভূমিকা: মুসলিম উম্মাহর বিবেকের পরীক্ষা
বর্তমানে পূর্ব তুর্কিস্তানের উইঘুর মুসলিমরা যে গণহত্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তা সমগ্র মানবজাতি এবং বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বিবেকের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কানাডা উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন (Uyghur Association of Canada) এবং উইঘুর রাইটস অ্যাডভোকেসি প্রজেক্ট (URAP) তাদের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে পূর্ব তুর্কিস্তানে পদ্ধতিগত নিপীড়নের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেছে। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক জরুরি আহ্বানে, চীনা শাসনামলে ওই অঞ্চলের ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলা, মসজিদ ধ্বংস করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করার নীতির বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে [1.1](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFlP63Zlj-D9lgp2G309EA6XjJMs2Cwfs3FsprH6yL5fxiT-2TAuCPb0KMT6ojY63UxtjSFNlIoaHdag19zwroiPLNhEthk3CdpGF1eNb5E0tc0udR5x6KghSt_LWTuw0oqjTk6g1kPa_6qmjk7gQx5qnrYvXJpHmJ5yhOywL-Pz2BsbsAvocYHxlO1Y5PHTBNTx_eyAoJvlmI=)।
পূর্ব তুর্কিস্তানে নতুন ধরনের নিপীড়ন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল কারাগার
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইস্তাম্বুলে প্রকাশিত "২০২৫ পূর্ব তুর্কিস্তান মানবাধিকার লঙ্ঘন সূচক" প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, চীন সরকার ওই অঞ্চলে তাদের দমনমূলক নীতিতে উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের শারীরিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে [1.1](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFlP63Zlj-D9lgp2G309EA6XjJMs2Cwfs3FsprH6yL5fxiT-2TAuCPb0KMT6ojY63UxtjSFNlIoaHdag19zwroiPLNhEthk3CdpGF1eNb5E0tc0udR5x6KghSt_LWTuw0oqjTk6g1kPa_6qmjk7gQx5qnrYvXJpHmJ5yhOywL-Pz2BsbsAvocYHxlO1Y5PHTBNTx_eyAoJvlmI=)। এই ব্যবস্থা উইঘুরদের দৈনন্দিন জীবন, এমনকি নামাজ পড়া বা ধর্মীয় আলোচনার মতো মৌলিক ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকেও "চরমপন্থা" হিসেবে চিহ্নিত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আটকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে।
ইসলামি মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কেবল একটি জাতির ওপর নিপীড়ন নয়, বরং আল্লাহর জমিনে ইবাদতের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য যুদ্ধ। চীনের "ধর্মের চীনাকরণ" নীতির অধীনে পবিত্র কুরআন বাজেয়াপ্ত করা, মসজিদগুলোকে বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তর করা এবং আলেম-ওলামাদের কারাগারে শহীদ করা (যেমন কারাগারে ইমাম আবিদিন দামোল্লামের মৃত্যু) উম্মাহর হৃদয়কে ব্যথিত করছে [1.5](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQE7tFxyTzOHvhWqNu1noD6BlYG9oHprJXnfEYVMriWCg2fZAgBCDg1ip34OruHuxJhKg3vLP5R9HHdZPFU0-c7mAdLuKti-coyAML0BoTVOG_A9Kn64xnIIFzkgLjQTuqIHypHsYXn0AbloGjNfQZ4HHJRXKtdskZTgrU2ttXDNu3uDzApsLfJiTxMmdQcnoIi_hMAwWRwJGqJMrwmDOWS6sELADdIsndWxuDRf-DuBc5Si96jYLTj1XYOcrpqSBJnVgsrw6l-cD6qXh-JCFNZ4CscFiBf9xGp1nIQy4EXbdjYafJXsmMTbvEA=)।
কানাডায় উইঘুর আন্দোলন এবং M-62 কর্মসূচি
কানাডা উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন এবং URAP-এর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে কানাডা সরকার ১০,০০০ উইঘুর শরণার্থী গ্রহণের জন্য M-62 প্রস্তাব কার্যকর করেছে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে URAP-কে কানাডার ইমিগ্রেশন মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক অংশীদার সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে [1.6](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFLnAYeSInw2MkZdCPAqIt6QIJ1WjLCqJSbjEBJwgQ8q1bNn2hx96X8ZExurVw4YEM0zhLWTHjQ2w1nqUX7SY_TRV75aKuyK50YDQ00J6-X3mCofJVNDurYWkovxldCRZP_xDC0F8fQyvsjd6gyDGy55bM8q1H3ZInVnkln2Iwe4HA6Nw==)। এই কর্মসূচির মাধ্যমে থাইল্যান্ড, তুরস্ক এবং অন্যান্য তৃতীয় দেশে ঝুঁকিতে থাকা আমাদের উইঘুর ভাই-বোনদের একটি অংশ কানাডায় আসতে শুরু করেছে। উদাহরণস্বরূপ, মরক্কোতে দীর্ঘকাল বন্দি থাকার পর ইদ্রিস হাসানের কানাডায় এসে পরিবারের সাথে মিলিত হওয়া এই প্রচেষ্টার একটি বড় বিজয় [1.6](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFLnAYeSInw2MkZdCPAqIt6QIJ1WjLCqJSbjEBJwgQ8q1bNn2hx96X8ZExurVw4YEM0zhLWTHjQ2w1nqUX7SY_TRV75aKuyK50YDQ00J6-X3mCofJVNDurYWkovxldCRZP_xDC0F8fQyvsjd6gyDGy55bM8q1H3ZInVnkln2Iwe4HA6Nw==)।
এই প্রক্রিয়ার মধ্যে চীন সরকার কানাডার উইঘুর কর্মীদের ওপর, বিশেষ করে মেহমেত তোহতির ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে চীন সরকার URAP-এর ১২ জন কর্মীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও মেহমেত তোহতি একে "সম্মানের প্রতীক" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন [1.18](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQHtTmf9UlZHcjVtwXOC79GFHzwc-w3G4uHqPU7o5vPIQtGtHT5Lh6sz3HF62wM39qYtVrcsXyqDLc1zkquSPzfjSSoP9lctJq-HKD6TC6RM3_K7Zd8Tqbgcq5WVUyjF63gx4KTUSKNDBSOyw4c8lgoghgbpxu0FZ-TqRHKZFk5z2wK_uaOGmxZMbbPcM4LHLnHLnlGKrh5wKnVmADPtF0Lln_Y=)। কানাডীয় পার্লামেন্টে "উইঘুর জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধ আইন" উত্থাপন করা হয়েছে, যার লক্ষ্য উইঘুরদের দাসত্বের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য কানাডার বাজারে প্রবেশ রোধ করা [1.6](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFLnAYeSInw2MkZdCPAqIt6QIJ1WjLCqJSbjEBJwgQ8q1bNn2hx96X8ZExurVw4YEM0zhLWTHjQ2w1nqUX7SY_TRV75aKuyK50YDQ00J6-X3mCofJVNDurYWkovxldCRZP_xDC0F8fQyvsjd6gyDGy55bM8q1H3ZInVnkln2Iwe4HA6Nw==)।
মুসলিম বিশ্বের দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক নীরবতা
কানাডা উইঘুর অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং মুসলিম দেশগুলোর অবস্থানের ওপর। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে: "মুমিনরা একটি দেহের মতো, যদি তার একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তবে পুরো শরীর তার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে।" কিন্তু অনেক মুসলিম দেশ চীনের সাথে তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ধর্মীয় ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়ের ঊর্ধ্বে স্থান দিচ্ছে, যা পূর্ব তুর্কিস্তানে নিপীড়ন দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ।
সাম্প্রতিক খবরে দেখা গেছে যে, চীন সরকার আরব দেশগুলোর সাথে তাদের সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশে অবস্থানরত উইঘুরদের ফেরত পাঠাতে এবং তাদের কণ্ঠরোধ করতে "আন্তঃসীমান্ত চাপ" প্রয়োগ করছে [1.13](https://urap.ca/reports/)। কানাডা উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন মুসলিম নেতাদের চীনের মিথ্যা প্রচারণায় বিশ্বাস না করতে এবং ওই অঞ্চলে মসজিদ ধ্বংস ও ইসলামি শিক্ষা নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, পূর্ব তুর্কিস্তান ইস্যুটি কেবল একটি রাজনৈতিক সমস্যা নয়, বরং ইসলামের পবিত্রতা রক্ষার বিষয়।
আন্তর্জাতিক চাপ এবং ভবিষ্যতের পদক্ষেপ
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (Mark Carney) তার চীন সফরের আগে উইঘুর সংগঠনগুলো দাবি করেছে যেন তিনি মানবাধিকার, বিশেষ করে উইঘুর গণহত্যাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখেন [1.14](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFfmkmlH5WEWRjeRjaqcDvdTvRya77lPx9L9x0gXFdpV5vlajacVRflj3F_noZChF4WdlY7RROnM6MRwKSuKZcwRs5N2pfJOjea4pmjax691QoGwqep4Gcik2GHjQVQeJ3vHZWNa-GV1fLxZllPc4AOs_mie5hL-qWeez-IBPnbZEog9A==)। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিম্নলিখিত জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে:
১. **গণহত্যার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি:** আরও বেশি দেশের উচিত চীনের কর্মকাণ্ডকে আইনত গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা। ২. **জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য নিষিদ্ধ করা:** উইঘুরদের দাসত্বের মাধ্যমে অর্জিত মুনাফা বন্ধ করা। ৩. **শরণার্থী সুরক্ষা:** তৃতীয় দেশে থাকা উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠানো রোধ করা। ৪. **জাতিসংঘের ভূমিকা:** ২০২২ সালের প্রতিবেদনের পর জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনারের নীরবতা ভেঙে একটি কার্যকর তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করা [1.8](https://vertexaisearch.cloud.google.com/grounding-api-redirect/AUZIYQFyQ1-YKtYjF0ebSwFLqfq5lEbpmR6LaqFXwUSBxvErma33VOgxdt6Xx6Hr26Hx0o2Spy34eABJg7R4bRIZOVjQXSwTIlSUFZhgR1996jWWsMOhoYwN95rAKOKSsmNwgdfROt_lhtZhmAQ9ylnYQ4wMfyWKeTptQn8Ulq-EkFvB1vswL8zxr-aIUdnEDwA2Ki_qn_0Iog==)।
উপসংহার: ন্যায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া
কানাডা উইঘুর অ্যাসোসিয়েশনের এই আহ্বান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কেবল উইঘুরদের নয়, বরং সমগ্র মানবজাতি এবং উম্মাহর দায়িত্ব। পূর্ব তুর্কিস্তানের মসজিদগুলোতে যখন আজানের ধ্বনি রুদ্ধ করা হচ্ছে, মায়েরা যখন তাদের সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, তখন নীরব থাকা মানে জালিমের সহযোগী হওয়া। মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বের যেখানেই থাকি না কেন, সত্য বলা, মজলুমের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের উইঘুর ভাই-বোনদের কণ্ঠস্বর হওয়া আমাদের কর্তব্য। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই হারিয়ে যায় না। পূর্ব তুর্কিস্তানের মুক্তি এবং উইঘুর জনগণের মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সময়।
মন্তব্য
comments.comments (0)
Please login first
Sign in