
অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন উইঘুরদের মানবাধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে
অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন পূর্ব তুর্কিস্তানে নিপীড়ন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মুসলিম দেশগুলোকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নিবন্ধের তথ্যসূত্র
অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন পূর্ব তুর্কিস্তানে নিপীড়ন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মুসলিম দেশগুলোকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
- অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন পূর্ব তুর্কিস্তানে নিপীড়ন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মুসলিম দেশগুলোকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
- বিভাগ
- প্রতিরোধের ঐতিহ্য
- লেখক
- Manali Chavan (@manalichavan)
- প্রকাশিত
- ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ ১২:২৪ PM
- হালনাগাদ করা হয়েছে
- ৫ মে, ২০২৬ এ ০৬:৩৯ AM
- প্রবেশাধিকার
- সর্বজনীন নিবন্ধ
ভূমিকা: নিপীড়িত উম্মাহর আর্তনাদ
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন (AUA) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বকে পূর্ব তুর্কিস্তানের উইঘুর মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান genocide বা গণহত্যা বন্ধে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে যখন চীন সরকার ওই অঞ্চলে ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলা এবং জোরপূর্বক শ্রম নীতি আরও জোরদার করেছে। অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন জোর দিয়ে বলেছে যে, উইঘুরদের এই ট্র্যাজেডি কেবল একটি জাতির সমস্যা নয়, বরং এটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা এবং মানবিক মূল্যের ওপর একটি চরম আঘাত [Source](https://www.campaignforuyghurs.org)।
ইসলামি বিশ্বের নীরবতা এবং উম্মাহর দায়িত্ব
অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিবৃতিতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (OIC)-এর সাম্প্রতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, ওআইসি-র মহাসচিব বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনের নীতির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন [Source](https://www.uyghurstudy.org)। এই অবস্থান উইঘুর মুসলমানদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ইসলামি মূল্যবোধ অনুযায়ী, একজন মুসলমানের ওপর জুলুম মানে পুরো উম্মাহর কষ্ট। অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন মুসলিম দেশগুলোকে তাদের ধর্মীয় ভাইদের জীবনের চেয়ে চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চীনের "ইসলামের চীনাকরণ" নীতির মধ্যে পবিত্র কুরআন পুনর্লিখন, মসজিদ ধ্বংস এবং রোজা রাখা নিষিদ্ধ করার মতো ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা মূলত ইসলামের বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য যুদ্ধ [Source](https://www.campaignforuyghurs.org)।
অস্ট্রেলীয় সরকারের কাছে দাবি এবং আইনি সীমাবদ্ধতা
অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলীয় ফেডারেল সরকারের কাছে চীনের জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধ করার জন্য বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক দাসত্ব বিরোধী কমিশনার ক্রিস ইভান্স (Chris Evans) সতর্ক করেছিলেন যে, অস্ট্রেলিয়া জোরপূর্বক শ্রমের পণ্যের জন্য একটি "ডাম্পিং গ্রাউন্ড" বা আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে [Source](https://www.business-humanrights.org)। আমেরিকা যখন "উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট" (UFLPA)-এর মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে, তখন অস্ট্রেলিয়ার কার্যকর কোনো নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা না থাকা সমালোচনার মুখে পড়েছে।
অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন আরও দাবি করেছে যে, অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্টে ২০২৫ সালে গঠিত "উইঘুরদের জন্য সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ" (AAPPGU)-এর ভূমিকা জোরদার করা হোক এবং চীনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে "ম্যাগনিটস্কি আইন" অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হোক [Source](https://www.rfa.org)। এই গ্রুপটি পার্লামেন্টে উইঘুরদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে এবং অস্ট্রেলিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
পূর্ব তুর্কিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়ন এবং রমজানের বিধিনিষেধ
২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন ওই অঞ্চলের মুসলমানদের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের রমজানে দেখা গেছে যে, চীনা কর্তৃপক্ষ উইঘুরদের প্রতিদিন ভিডিও কলের মাধ্যমে তারা রোজা রাখছে না তা প্রমাণ করতে বাধ্য করেছিল [Source](https://www.campaignforuyghurs.org)। রোজা রাখা বা নামাজ পড়াকে "ধর্মীয় চরমপন্থা" হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা মানুষকে বন্দিশিবিরে পাঠানোর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তাছাড়া, চীন সরকার কর্তৃক মসজিদগুলোকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা বা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং ইসলামি কবরস্থানগুলো নষ্ট করা উম্মাহর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি চরম অবমাননা। অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গণহত্যার বিরুদ্ধে নীরব না থাকার আহ্বান জানিয়েছে [Source](https://www.uyghurstudy.org)।
আন্তর্জাতিক জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন এবং শরণার্থী সমস্যা
অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন তৃতীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত উইঘুর শরণার্থীদের চীনে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঝুঁকির দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ২০২৫ সালের শুরুতে, থাইল্যান্ডে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে থাকা ৪০ জন উইঘুরকে চীনে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর খবর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল [Source](https://www.refugeecouncil.org.au)। অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলীয় সরকারকে তুরস্ক, থাইল্যান্ড এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা উইঘুরদের আশ্রয় দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
উপসংহার: ন্যায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া
অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশনের এই জরুরি আহ্বান প্রমাণ করে যে, পূর্ব তুর্কিস্তানে নিপীড়ন এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। ইসলামি মূল্যবোধ অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলমান এবং বিবেকবান মানুষের কর্তব্য। অস্ট্রেলীয় উইঘুর অ্যাসোসিয়েশন যেমনটি বলেছে, "আজ উইঘুরদের জন্য নীরব থাকা মানে আগামীকাল অন্য কোনো মুসলিম জাতির ওপর জুলুমের পথ প্রশস্ত করা।" আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চীনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।
মন্তব্য
comments.comments (0)
Please login first
Sign in