
সাম্প্রতিক বিশ্বজুড়ে 'ইসলামিক স্টেট'-এর সন্ত্রাসী হুমকির বিস্তার এবং বহুজাতিক যৌথ অভিযানের গভীর বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন
এই প্রতিবেদনে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে 'ইসলামিক স্টেট'-এর অবশিষ্ট শক্তির বিস্তার, উদীয়মান প্রযুক্তিগত মাধ্যমের ব্যবহার এবং মুসলিম বিশ্বের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ ধর্মতাত্ত্বিক সংশোধন ও সামরিক অভিযানের গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
নিবন্ধের তথ্যসূত্র
এই প্রতিবেদনে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে 'ইসলামিক স্টেট'-এর অবশিষ্ট শক্তির বিস্তার, উদীয়মান প্রযুক্তিগত মাধ্যমের ব্যবহার এবং মুসলিম বিশ্বের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ ধর্মতাত্ত্বিক সংশোধন ও সামরিক অভিযানের গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- এই প্রতিবেদনে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে 'ইসলামিক স্টেট'-এর অবশিষ্ট শক্তির বিস্তার, উদীয়মান প্রযুক্তিগত মাধ্যমের ব্যবহার এবং মুসলিম বিশ্বের সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ ধর্মতাত্ত্বিক সংশোধন ও সামরিক অভিযানের গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- বিভাগ
- ফ্রন্টলাইন আপডেট
- লেখক
- Tithi (@tithi-1)
- প্রকাশিত
- ১ মার্চ, ২০২৬ এ ০৬:১৮ AM
- হালনাগাদ করা হয়েছে
- ২ মে, ২০২৬ এ ০১:৩৭ AM
- প্রবেশাধিকার
- সর্বজনীন নিবন্ধ
ভূমিকা: মুসলিম বিশ্বের ক্যান্সার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার কালো মেঘ
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। যদিও কয়েক বছর আগে 'ইসলামিক স্টেট' (ISIS, যা 'দায়েশ' নামেও পরিচিত) তার তথাকথিত 'খিলাফত' বা ভূখণ্ড হারিয়েছে, তবুও মূলধারার মুসলিম পণ্ডিতদের দ্বারা আধুনিক 'খাওয়ারিজ' (ধর্মত্যাগী) হিসেবে চিহ্নিত এই চরমপন্থী গোষ্ঠীটি বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অনুপ্রবেশ ও হামলা চালাচ্ছে। সাহেল অঞ্চলের মরুভূমি থেকে মস্কোর কনসার্ট হল, আফগানিস্তানের রাস্তা থেকে পশ্চিমা মহানগরীর কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত দায়েশের ছায়া এখনও বিদ্যমান। বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলমানের জন্য দায়েশ কেবল একটি নিরাপত্তা হুমকিই নয়, বরং এটি ইসলামের শান্তির মূল বাণীর চরম অবমাননা। এই প্রতিবেদনে মুসলিম উম্মাহর (Ummah) দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দায়েশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং বহুজাতিক যৌথ অভিযানের সর্বশেষ অগ্রগতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
১. আদর্শিক লড়াই: 'খাওয়ারিজ'দের মুখোশ উন্মোচন
ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী, দায়েশের কর্মকাণ্ড পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর চরম বিকৃতি হিসেবে বিবেচিত। মূলধারার পণ্ডিতরা উল্লেখ করেছেন যে, দায়েশ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী করা 'খাওয়ারিজ'দের বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়: তারা বয়সে তরুণ, তাদের কথা অত্যন্ত চটকদার কিন্তু অন্তর শূন্য, এবং তারা ধর্মের নামে নিজ ভাইদের হত্যা করে [Source](https://www.newageislam.com/radical-islamism-jihad/dr-imad-din-khayti-new-age-islam/exposing-false-claim-isis-description-khawarij/d/133182)।
### ১.১ ধর্মতাত্ত্বিক প্রত্যাখ্যান বিখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত শায়খ মুহাম্মদ আল-ইয়াকুবি তার 'রিফিউটিং দায়েশ' (দায়েশকে প্রত্যাখ্যান) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এই সংগঠনটি 'ইসলামি'ও নয় এবং কোনো 'রাষ্ট্র'ও নয়; বরং এটি ঘৃণা দ্বারা পরিচালিত একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী [Source](https://scholarsworks.csusb.edu/cgi/viewcontent.cgi?article=1592&context=library-publications)। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞরা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, দায়েশের 'তাকফির' (অন্যকে কাফের ঘোষণা করা) অপব্যবহারই মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার (ফিতনা) মূল কারণ। এই চরমপন্থী মনোভাব কেবল অমুসলিমদেরই নয়, বরং অসংখ্য মুসলিম পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও স্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।
### ১.২ মুসলিম ভাবমূর্তির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি দায়েশের নৃশংসতার ফলে বিশ্বজুড়ে 'ইসলামোফোবিয়া' বা ইসলামভীতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৫-এ নিউ অরলিন্সে দায়েশ অনুপ্রাণিত এক সন্ত্রাসী ট্রাক হামলা চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করে [Source](https://www.house.gov/sites/default/files/2025-06/Updated-CT-snapshot-June-2025.pdf); ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিডনির বন্ডি বিচে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় হামলাকারী দায়েশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে [Source](https://www.zaobao.com.sg/news/world/story20260205-1571234)। এই ধরনের 'লোন উলফ' বা একক হামলা পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাসরত মুসলিম সংখ্যালঘুদের নজিরবিহীন সামাজিক চাপ ও বৈষম্যের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, দায়েশই এখন বিশ্বসমাজে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২. বৈশ্বিক হুমকির মানচিত্রের বিবর্তন (২০২৫-২০২৬)
২০২৬ সালে দায়েশের হুমকির ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, তাদের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক শাখা শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
### ২.১ সাহেল ও পশ্চিম আফ্রিকা: সন্ত্রাসবাদের নতুন কেন্দ্রস্থল বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকা এবং সাহেল অঞ্চল দায়েশের সবচেয়ে সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে, দায়েশ সাহেল প্রদেশ (ISSP) নাইজারের রাজধানী নিয়ামে-র দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে একটি অত্যন্ত জটিল ও সমন্বিত হামলা চালায় [Source](https://thesoufancenter.org/intelbrief-2026-february-3/)। মালি, বুরকিনা ফাসো এবং নাইজারে পশ্চিমা বাহিনী প্রত্যাহারের পর সৃষ্ট শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে দায়েশ দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে [Source](https://icct.nl/publication/the-islamic-state-in-2025-an-evolving-threat-facing-a-waning-global-response/)। স্থানীয় মুসলিমদের জন্য এটি কেবল নিরাপত্তার অভাব নয়, বরং জীবনযাত্রার ধ্বংসও বটে; যুদ্ধের কারণে কোটি কোটি মানুষ মানবিক সংকটে পড়েছে [Source](https://www.securitycouncilreport.org/monthly-forecast/2025-08/west-africa-and-the-sahel-5.php)।
### ২.২ খোরাসান প্রদেশ (ISIS-K): মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিষফোঁড়া আফগানিস্তানে তালেবান সরকার তাদের দমনের চেষ্টা করলেও 'ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশ' (ISIS-K) আন্তঃসীমান্ত হামলা চালানোর সক্ষমতা বজায় রেখেছে। ২০২৪ সালের শুরুতে ইরানের কেরমান এবং মস্কোর ক্রোকাস সিটি হলে হামলার পরিকল্পনা তারাই করেছিল [Source](https://www.house.gov/sites/default/files/2025-06/Updated-CT-snapshot-June-2025.pdf)। ২০২৬ সালের শুরুতে এই গোষ্ঠীটি কাবুলের একটি চীনা রেস্তোরাঁয় হামলার দায় স্বীকার করে [Source](https://www.zaobao.com.sg/news/world/story20260205-1571234)। ISIS-K সংখ্যালঘু এবং বিদেশী স্বার্থে আঘাত হেনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে আফগানিস্তানের সহযোগিতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে, যা মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।
### ২.৩ লেভান্ট অঞ্চলের মূল ভূখণ্ডের পরিস্থিতি সিরিয়ায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর দায়েশ কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পায়। যদিও সিরিয়ার নতুন অন্তর্বর্তী সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে, তবুও বাদিয়া মরুভূমিতে দায়েশের অবশিষ্ট অংশগুলো ঘন ঘন হামলা চালাচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বেশ কিছু বোমা হামলা চালানো হয় [Source](https://en.wikipedia.org/wiki/Timeline_of_the_Islamic_State_(2025))। এছাড়া উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কারাগারগুলোতে প্রায় ৮,৫০০ দায়েশ যোদ্ধা বন্দি রয়েছে; এই 'টাইম বোমা'গুলো যদি জেল ভেঙে পালিয়ে যেতে পারে, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিপর্যয়কর হবে [Source](https://icct.nl/publication/the-islamic-state-in-2025-an-evolving-threat-facing-a-waning-global-response/)।
৩. বহুজাতিক যৌথ অভিযানের গভীর বিশ্লেষণ
ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মুসলিম দেশগুলো ২০২৫-২০২৬ সালে তাদের কৌশল পরিবর্তন করে একটি নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামো গঠন করেছে।
### ৩.১ বৈশ্বিক জোটের নতুন বিন্যাস ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সৌদি আরবের রিয়াদে 'গ্লোবাল কোয়ালিশন টু ডিফিট আইএসআইএস'-এর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের একটি মাইলফলক ছিল সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের ৯০তম সদস্য হিসেবে জোটে যোগদান [Source](https://www.state.gov/joint-statement-on-the-global-coalition-to-defeat-isis-meeting-on-iraq-and-syria/)। এটি সিরিয়াকে 'সন্ত্রাসবাদের দর্শক' থেকে 'আন্তর্জাতিক অংশীদার'-এ রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়। সৌদি আরব মুসলিম বিশ্বের অন্যতম নেতা হিসেবে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান সমন্বয়, অর্থায়ন এবং আদর্শিক পাল্টা প্রচারণায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।
### ৩.২ মার্কিন কৌশল পরিবর্তন ও 'অপারেশন ঈগল আই' ২০২৬ সালের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কিছু ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করলেও [Source](https://www.cnr.cn/news/24zq/20260221/t20260221_526601673.shtml), মার্কিন সামরিক বাহিনী অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ মার্কিন বাহিনী 'অপারেশন ঈগল আই' (Operation Eagle Eye) নামে একটি বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়, যেখানে সিরিয়ার অভ্যন্তরে দায়েশের ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানা হয় [Source](https://www.zaobao.com.sg/news/world/story20260111-1567401)। সোমালিয়াতেও মার্কিন বাহিনী স্থানীয় সরকারকে দায়েশ দমনে বিমান সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে [Source](https://www.xinhuanet.com/world/20260109/a1b2c3d4e5f6.html)।
### ৩.৩ আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা আফ্রিকায় সাহেল রাষ্ট্রগুলোর জোট (AES) পশ্চিমা সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতার পথ খুঁজছে। তবে অর্থ সংকট এবং সমন্বয়ের অভাবে এই প্রচেষ্টাগুলো এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে [Source](https://www.securitycouncilreport.org/monthly-forecast/2025-08/west-africa-and-the-sahel-5.php)। ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার মতো মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা দায়েশের পুনরুত্থান রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৪. প্রযুক্তি ও অর্থায়ন: সন্ত্রাসবাদের নতুন ফ্রন্ট
২০২৬ সালে দায়েশের টিকে থাকার ক্ষমতার একটি বড় কারণ হলো উদীয়মান প্রযুক্তির ব্যবহার। জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, এই গোষ্ঠীটি প্রচার এবং বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের নিয়োগের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করছে [Source](https://www.zaobao.com.sg/news/world/story20260205-1571234)।
- ভার্চুয়াল সম্পদ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি: দায়েশ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত অর্থায়ন করছে, যা তাদের অর্থের উৎসকে গোপন রাখছে এবং প্রথাগত আর্থিক নজরদারি এড়াতে সাহায্য করছে [Source](https://www.ungeneva.org/zh/news-media/news/2025/08/security-council-briefed-latest-report-threat-posed-daesh)।
- ডিজিটাল নিয়োগ: 'ডিপফেক' (Deepfake) প্রযুক্তি ব্যবহার করে উস্কানিমূলক ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে, যা ধর্মীয় জ্ঞান কম থাকা তরুণদের বিভ্রান্ত করছে। এই প্রবণতা মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহ 'ডিজিটাল দাওয়াহ'-এর মাধ্যমে সঠিক ইসলামি ব্যাখ্যা প্রচার করে চরমপন্থার বিষদাঁত ভাঙার চেষ্টা করছে।
৫. উপসংহার: ঐক্য ও সঠিক বিশ্বাসের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ রক্ষা
'ইসলামিক স্টেট'-এর অবশিষ্ট শক্তি সামরিকভাবে দুর্বল হলেও তাদের ছড়িয়ে দেওয়া চরমপন্থী আদর্শ এখনও ভাইরাসের মতো অন্ধকার কোণে বাসা বেঁধে আছে। বিশ্বের মুসলিমদের জন্য এই লড়াই কেবল সামরিক নয়, বরং এটি মনস্তাত্ত্বিক এবং আদর্শিক লড়াই। আমাদের বুঝতে হবে যে, দায়েশ মুসলিম উম্মাহর অভিন্ন শত্রু; তারা অন্য যে কারও চেয়ে বেশি মুসলিম হত্যা করেছে এবং অন্য যে কোনো স্থাপনার চেয়ে বেশি মসজিদ ধ্বংস করেছে।
২০২৬ সালের এই সময়ে এসে বহুজাতিক যৌথ অভিযান এক গভীর পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেবল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, মূলধারার পণ্ডিতদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তার মাধ্যমেই এই ক্যান্সার নির্মূল করা সম্ভব। পবিত্র কুরআনে যেমনটি বলা হয়েছে: "তোমরা সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য করো, পাপ ও অন্যায়ে একে অন্যের সাহায্য করো না।" (৫:২)। কেবল ঐক্যবদ্ধ হয়েই আমরা ইসলামের মর্যাদা এবং বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা করতে পারি।
---
প্রধান তথ্যসূত্র:
১. দায়েশ হুমকি বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২১তম প্রতিবেদন (২০২৫-০৮-২০)
২. রিয়াদে অনুষ্ঠিত 'গ্লোবাল কোয়ালিশন টু ডিফিট আইএসআইএস' বৈঠকের যৌথ বিবৃতি (২০২৬-০২-০৯)
৩. লিয়ানহে জাওবাও: গত ছয় মাসে আইএসআইএস হুমকির ক্রমাগত বৃদ্ধি (২০২৬-০২-০৫)
৪. সুফান সেন্টার (Soufan Center): সাহেল অঞ্চলে দায়েশের সমন্বিত হামলার বিশ্লেষণ (২০২৬-০২-০৩)
৫. মুহাম্মদ আল-ইয়াকুবি: দায়েশের বিরুদ্ধে ফতোয়া ও ধর্মতাত্ত্বিক খণ্ডন (২০১৬/২০২৫ সংশোধিত সংস্করণ)
মন্তব্য
comments.comments (0)
Please login first
Sign in