আবু সায়াফ গোষ্ঠী: এই চরমপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জের একটি গভীর বিশ্লেষণ

আবু সায়াফ গোষ্ঠী: এই চরমপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জের একটি গভীর বিশ্লেষণ

huangjunjie@huangjunjie
4
0

এই নিবন্ধটি মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে আবু সায়াফ গোষ্ঠীর বিবর্তনের ইতিহাস, ইসলামি শিক্ষার বিকৃতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ওপর এই গোষ্ঠীর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণ করে।

নিবন্ধের তথ্যসূত্র

এই নিবন্ধটি মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে আবু সায়াফ গোষ্ঠীর বিবর্তনের ইতিহাস, ইসলামি শিক্ষার বিকৃতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ওপর এই গোষ্ঠীর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণ করে।

  • এই নিবন্ধটি মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে আবু সায়াফ গোষ্ঠীর বিবর্তনের ইতিহাস, ইসলামি শিক্ষার বিকৃতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ওপর এই গোষ্ঠীর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণ করে।
বিভাগ
ফ্রন্টলাইন আপডেট
লেখক
huangjunjie (@huangjunjie)
প্রকাশিত
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ ০৬:৫০ AM
হালনাগাদ করা হয়েছে
৫ মে, ২০২৬ এ ১২:১৩ AM
প্রবেশাধিকার
সর্বজনীন নিবন্ধ

ভূমিকা: বিশ্বাসের বিচ্যুতি ও এক দীর্ঘ ছায়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উত্তাল সুলু সাগরের (Sulu Sea) আশেপাশে, আবু সায়াফ গোষ্ঠী (Abu Sayyaf Group, ASG) দীর্ঘকাল ধরে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর এক দীর্ঘ ছায়া ফেলে রেখেছে। নিজেদের মুসলিম অধিকারের রক্ষক হিসেবে দাবি করলেও, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড ছিল সহিংসতা, অপহরণ এবং নিরপরাধ মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞায় পূর্ণ। একজন মুসলিমের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, আবু সায়াফ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, বরং এটি ইসলামের শান্তির মূল চেতনার এক চরম অবমাননা। এটি একটি ন্যায্য জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিকে চরমপন্থার অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মুসলিম উম্মাহকে চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হয়েছে। ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত, সামরিক অভিযানের মুখে এই গোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়লেও, এর অবশিষ্ট অংশ এবং ছড়িয়ে দেওয়া চরমপন্থী আদর্শ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ [Al Jazeera](https://www.aljazeera.com/news/2024/1/15/philippines-says-abu-sayyaf-group-dismantled-after-decades-of-conflict)।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: জাতীয় সংগ্রাম থেকে চরমপন্থার ভুল পথে

আবু সায়াফ গোষ্ঠীর উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের মোরো (Moro) জনগণের স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট একটি বিষফোঁড়া। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে, আবদুরজাক আবুবকর জানজালানি (Abdurajak Abubakar Janjalani) আফগান যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসেন। মোরো ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (MNLF) এবং সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনায় অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি আবু সায়াফ প্রতিষ্ঠা করেন [Council on Foreign Relations](https://www.cfr.org/backgrounder/abu-sayyaf-group-philippines-extremism)।

শুরু থেকেই এই গোষ্ঠীটি প্রথাগত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চেয়ে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। এটি কেবল ভূখণ্ডগত স্বাধীনতাই চায়নি, বরং চরম মৌলবাদের ওপর ভিত্তি করে একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। তবে এই লক্ষ্য দ্রুতই নিছক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পর্যবসিত হয়। ১৯৯৮ সালে জানজালানির মৃত্যুর পর গোষ্ঠীটি বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও জিম্মিদের শিরশ্ছেদ করা তাদের কুখ্যাত পরিচয়ে পরিণত হয়। প্রকৃত মুসলমানদের জন্য এই ধরনের আচরণ পবিত্র কুরআনের নিরপরাধদের রক্ষা এবং চুক্তিকে সম্মান করার শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আবু সায়াফের উত্থান মূলত মোরো জনগণের ন্যায্য সংগ্রামের প্রতি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা, যা একটি ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে কলঙ্কিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলমানদের দুর্ভোগ সম্পর্কে ভুল ধারণার সৃষ্টি করেছে [Human Rights Watch](https://www.hrw.org/news/2016/06/14/philippines-abu-sayyaf-killings-are-war-crimes)।

আদর্শিক বিকৃতি: 'জিহাদ' ধারণার অবমাননা

আবু সায়াফ গোষ্ঠী মুসলিম বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেদনাদায়ক যা করেছে, তা হলো 'জিহাদ' (Jihad)-এর মতো পবিত্র ধারণার অপব্যবহার। ইসলামি শিক্ষায় জিহাদ হলো প্রথমত নিজের অন্তরের সংশোধন এবং দ্বিতীয়ত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক সংগ্রাম। তবে আবু সায়াফ একে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নির্বিচার সহিংসতায় সংকুচিত করেছে।

২০১৪ সালে এই গোষ্ঠীর কিছু উপদল তথাকথিত 'ইসলামিক স্টেট' (ISIS)-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, যা তাদের একটি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের অংশে পরিণত করে। ২০১৭ সালের মারাউই অবরোধ (Marawi Siege) ছিল এই রূপান্তরের চরম পর্যায়। পাঁচ মাসব্যাপী এই যুদ্ধের ফলে ফিলিপাইনের একমাত্র 'ইসলামি শহর' ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং হাজার হাজার মুসলিম বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয় [Reuters](https://www.reuters.com/article/idUSKBN1CP09I/)। এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কেবল মসজিদ এবং ঘরবাড়িই ধ্বংস করেনি, বরং মুসলিম ও অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশ্বাসের ফাটল ধরিয়েছে। আবু সায়াফ যে ঘৃণার প্রচার করে, তা ইসলামের 'মধ্যপন্থা' (Wasatiyyah) দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাদের কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে মূলধারার ইসলামি পণ্ডিতদের দ্বারা 'অ-ইসলামি' অপরাধ হিসেবে সর্বসম্মতভাবে নিন্দিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি: সামরিক পরাজয় এবং অবশিষ্ট শক্তির স্থায়িত্ব

২০২৪ এবং ২০২৫ সালে পদার্পণ করে, ফিলিপাইন সরকার সুলু দ্বীপপুঞ্জ এবং বাসিলান (Basilan) দ্বীপে নির্মূল অভিযান জোরদার করেছে। ফিলিপাইন সামরিক বাহিনীর রিপোর্ট অনুযায়ী, আবু সায়াফের নেতৃত্ব মূলত ভেঙে পড়েছে। ২০২৩ সালের শেষ থেকে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে মুন্দির সাওয়াদজান (Mundir Sawadjaan)-এর মতো বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সংঘর্ষে নিহত হন এবং রসদ ও নেতৃত্বের অভাবে অনেক সাধারণ সদস্য আত্মসমর্পণ করে [Philippine News Agency](https://www.pna.gov.ph/articles/1215124)।

তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যদিও এই গোষ্ঠীটি এখন আর বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালাতে সক্ষম নয়, তবে এর 'সেলুলার' বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবশিষ্ট অংশ এখনও বিদ্যমান। এই অবশিষ্ট সদস্যরা প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা এবং উপকূলীয় গ্রামে লুকিয়ে আছে এবং জটিল আত্মীয়তার সম্পর্ক ও স্থানীয় দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে আশ্রয় খুঁজছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে সুলু প্রদেশে এখনও বিচ্ছিন্নভাবে আইইডি (IED) হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নির্দেশ করে যে চরমপন্থী আদর্শ নির্মূল করা সামরিক বিজয়ের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এই অবশিষ্ট শক্তিগুলো সুপ্ত ভাইরাসের মতো, যা সামাজিক অবিচার বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে যেকোনো সময় আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে [BenarNews](https://www.benarnews.org/english/news/philippine/abu-sayyaf-remnants-01102024141522.html)।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি

আবু সায়াফ গোষ্ঠীর অস্তিত্ব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের বহুমুখী ক্ষতি করেছে:

১. **অর্থনৈতিক প্রান্তিককরণ**: দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা হুমকির কারণে সুলু সাগর অঞ্চলের পর্যটন, মৎস্য শিল্প এবং আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলদস্যুতা ও অপহরণের কারণে 'আসিয়ান পূর্ব প্রবৃদ্ধি অঞ্চল' (BIMP-EAGA)-এর সম্ভাবনা থমকে গেছে, যার ফলে স্থানীয় মুসলিম যুবকদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দিয়েছে এবং তারা দারিদ্র্য ও অপরাধের চক্রে আটকা পড়েছে।
২. **সামাজিক কলঙ্ক**: এই গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিপাইনসহ পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিমরা কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনে কুসংস্কারের সম্মুখীন হচ্ছে। এই 'ইসলামোফোবিয়া' বা ইসলামভীতি বহুত্ববাদী সমাজে মুসলমানদের একাত্মবোধকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
৩. **শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা**: বাংসামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল (BARMM) যখন রাজনৈতিক উপায়ে স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে, তখন আবু সায়াফের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে বিরোধীরা প্রায়ই মুসলমানদের স্বায়ত্তশাসনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে। ২০২৫ সালের বাংসামোরো সংসদীয় নির্বাচনের সময় চরমপন্থীদের হয়রানি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলেছিল [International Crisis Group](https://www.crisisgroup.org/asia/south-east-asia/philippines/333-addressing-islamist-militancy-southern-philippines)।

ভূ-রাজনীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা: যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

আবু সায়াফের দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বুঝতে পেরেছে যে একা লড়াই করে কোনো লাভ হবে না। ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া 'ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা ব্যবস্থা' (TCA)-এর মাধ্যমে সুলু সাগর এবং সেলেবেস সাগরে (Celebes Sea) যৌথ টহল পরিচালনা করছে, যা এই গোষ্ঠীর সামুদ্রিক অপহরণ কর্মকাণ্ডকে কার্যকরভাবে দমন করেছে [The Diplomat](https://thediplomat.com/2023/06/the-future-of-the-trilateral-cooperative-arrangement/)।

মুসলিম ভূ-রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এই সহযোগিতা কেবল সামরিক নয়, বরং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকও বটে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার ইসলামি সংগঠনগুলো ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সহায়তায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। শিক্ষা এবং উদার ইসলামি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে তারা চরমপন্থী আদর্শের অনুপ্রবেশ রোধ করছে। সাধারণ ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে এই আঞ্চলিক সহযোগিতা আবু সায়াফের টিকে থাকার ভিত্তি উপড়ে ফেলার চাবিকাঠি। ২০২৬ সালের পরিস্থিতি দেখায় যে, যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সঠিক ধর্মীয় দিকনির্দেশনা যুক্ত হয়, তখনই চরমপন্থা তার আকর্ষণ হারায়।

উপসংহার: মূল ধারায় প্রত্যাবর্তন এবং শান্তির পথে

আবু সায়াফ গোষ্ঠীর উত্থান ও পতনের ইতিহাস রক্ত ও অশ্রুভেজা এক শিক্ষার দলিল। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ন্যায়বিচার, দয়া এবং আইনের শাসন বর্জিত যেকোনো 'সংগ্রাম' শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলমানদের জন্য প্রকৃত মুক্তি চরম সহিংসতায় নয়, বরং বাংসামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মতো আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে নিজেদের উন্নয়ন নিশ্চিত করার মধ্যে নিহিত।

ভবিষ্যতের দিকে তাকালে, আবু সায়াফের হুমকি পুরোপুরি নির্মূল করতে দীর্ঘস্থায়ী ধৈর্যের প্রয়োজন। এর জন্য কেবল সরকারের নিরবচ্ছিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক বিনিয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের ভেতর থেকেও 'মূল ধারায় প্রত্যাবর্তন' প্রয়োজন—প্রকৃত ইসলামি প্রজ্ঞা দিয়ে তরুণদের আলোকিত করা এবং শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্বাসের শক্তি প্রমাণ করা। তবেই সুলু সাগরের সূর্য চরমপন্থার মেঘ ভেদ করে মোরো জনগণের সমৃদ্ধি ও মর্যাদার পথকে আলোকিত করতে পারবে।

মন্তব্য

comments.comments (0)

Please login first

Sign in