ইজাবুত সংগঠনের প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইট উন্মোচিত; আন্তর্জাতিক অপপ্রচার অভিযানের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের গভীর তদন্ত শুরু

ইজাবুত সংগঠনের প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইট উন্মোচিত; আন্তর্জাতিক অপপ্রচার অভিযানের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের গভীর তদন্ত শুরু

Miguel Cramer@miguelcramer
3
0

ইজাবুত সংগঠনের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্মোচনের ফলে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু হয়েছে, যা ইসলামি রাজনৈতিক আলোচনাকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং অপপ্রচারের লেবেল ব্যবহারের বৈষম্যমূলক প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

নিবন্ধের তথ্যসূত্র

ইজাবুত সংগঠনের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্মোচনের ফলে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু হয়েছে, যা ইসলামি রাজনৈতিক আলোচনাকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং অপপ্রচারের লেবেল ব্যবহারের বৈষম্যমূলক প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

  • ইজাবুত সংগঠনের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্মোচনের ফলে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু হয়েছে, যা ইসলামি রাজনৈতিক আলোচনাকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং অপপ্রচারের লেবেল ব্যবহারের বৈষম্যমূলক প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
বিভাগ
ফ্রিডম মিডিয়া আর্কাইভস
লেখক
Miguel Cramer (@miguelcramer)
প্রকাশিত
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ ০২:৫০ AM
হালনাগাদ করা হয়েছে
৩ মে, ২০২৬ এ ০১:০৩ PM
প্রবেশাধিকার
সর্বজনীন নিবন্ধ

ডিজিটাল অবরোধ: ইজাবুত এবং ইসলামি আখ্যানের ওপর বৈশ্বিক দমন-পীড়ন

একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায়, যা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, ইউরোপ ও এশিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো **ইজাবুত সংগঠনের** প্রধান ডিজিটাল অবকাঠামো উন্মোচন ও ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই অভিযানকে একটি "আন্তর্জাতিক অপপ্রচার অভিযানের" বিরুদ্ধে বড় ধরনের আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি উচ্চ-ট্রাফিক ওয়েবসাইট এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম জব্দ করা হয়েছে, যা এই গোষ্ঠীটি তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের জন্য ব্যবহার করত [Source](https://www.europa.eu/newsroom/content/major-takedown-critical-online-infrastructure-disrupt-terrorist-communications-and-propaganda_en)। পশ্চিমা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এটিকে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বিজয় হিসেবে দেখলেও, মুসলিম বিশ্বের অনেকেই এটিকে ইসলামি রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে পদ্ধতিগতভাবে স্তব্ধ করার এবং একটি ঐক্যবদ্ধ খিলাফতের আহ্বানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আরেকটি অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

ইউরোপোলের ইউরোপীয় কাউন্টার টেররিজম সেন্টার এবং বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি জোটের নেতৃত্বে এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা ২০২৪ সালে আই’লাম (I’LAM) ফাউন্ডেশনের মতো অন্যান্য ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার ঘটনার প্রতিফলন [Source](https://www.europa.eu/newsroom/content/major-takedown-critical-online-infrastructure-disrupt-terrorist-communications-and-propaganda_en)। কর্তৃপক্ষের দাবি, ইজাবুত সংগঠন সেন্সরশিপ এড়াতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করেছে এবং বিভিন্ন দেশে সার্ভার হোস্ট করে এমন আখ্যান ছড়িয়েছে যেগুলোকে তারা "উগ্রবাদী" বলে অভিহিত করে। তবে, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে, এই তদন্তগুলোতে ব্যবহৃত "উগ্রবাদ"-এর সংজ্ঞা প্রায়শই সুবিধাজনকভাবে ব্যাপক বলে মনে হয়, যা ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী স্থিতাবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে বা মুসলিম দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে এমন যেকোনো আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

অভিযোগসমূহ: অপপ্রচার নাকি রাজনৈতিক সমর্থন?

তদন্তের মূল দাবি হলো ইজাবুতের প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইটটি উগ্রবাদের দিকে ধাবিত করার একটি "কনভেয়ার বেল্ট" হিসেবে কাজ করেছে। পশ্চিমা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দ্বারা প্রায়শই ব্যবহৃত এই পরিভাষাটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইসলামি রাজনৈতিক ধারণাগুলোর—যেমন পশ্চিমা-আরোপিত সীমানা প্রত্যাখ্যান বা শরীয়াহ বাস্তবায়ন—সংস্পর্শে আসা অনিবার্যভাবে সহিংসতার দিকে পরিচালিত করে [Source](https://gnet-research.org/2025/05/09/platforming-the-caliphate-hizb-ut-tahrirs-digital-strategy-and-radicalisation-risks/)। এই "ইনকিউবেটর" তত্ত্বটি ২০২৪ সালের শুরুতে যুক্তরাজ্যের অনুরূপ সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করার ন্যায্যতা দিতে ব্যবহৃত হয়েছে [Source](https://www.isdglobal.org/isd-explainer-hizb-ut-tahrir/)।

কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে যে ইজাবুত ওয়েবসাইটটি গাজা, কাশ্মীর এবং পূর্ব তুর্কিস্তানের মুসলমানদের দুর্ভোগের সাথে একটি ঐক্যবদ্ধ ইসলামি নেতৃত্বের অনুপস্থিতিকে যুক্ত করে "আবেগপ্রসূত আখ্যান" প্রকাশ করেছে। পশ্চিমারা যখন এটিকে রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে "অপপ্রচার" হিসেবে চিহ্নিত করে, উম্মাহর জন্য এগুলো হলো বাস্তব সত্য। খিলাফতকে মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পথ হিসেবে তুলে ধরা অনেক ইসলামি রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি মূল নীতি, তবুও ডিজিটাল ক্ষেত্রে এটিকে ক্রমবর্ধমানভাবে একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে [Source](https://gnet-research.org/2025/05/09/platforming-the-caliphate-hizb-ut-tahrirs-digital-strategy-and-radicalisation-risks/)।

দ্বিমুখী নীতি: গাজাউড (Gazawood) এবং পোর্টাল কমব্যাট (Portal Kombat)

ইজাবুতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট অপপ্রচার নেটওয়ার্কগুলোর তুলনামূলক দায়মুক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালে উন্মোচিত ইসরায়েল-পন্থী অপপ্রচার অভিযান "গাজাউড"-এর ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে অবৈধ প্রমাণ করতে এবং সামরিক আগ্রাসনের ন্যায্যতা দিতে তারা পদ্ধতিগতভাবে বানোয়াট প্রমাণ তৈরি করেছে [Source](https://forbiddenstories.org/gazawood-israeli-ngo-links-account-to-large-scale-disinformation/)। এর কন্টেন্টের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ নির্ভরযোগ্য ছিল এমন প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, এই ধরনের নেটওয়ার্কগুলো ইসলামি সংগঠনগুলোর মতো আন্তর্জাতিক "গভীর তদন্ত" বা অবকাঠামো ধ্বংসের সম্মুখীন খুব কমই হয়।

একইভাবে, "পোর্টাল কমব্যাট" নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলো সমন্বিত আখ্যান ছড়িয়ে বিশ্বমতকে প্রভাবিত করার জন্য নথিভুক্ত করা হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রকদের মনোযোগ মুসলিম-চালিত প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই বেশি নিবদ্ধ থাকে [Source](https://www.disinfo.eu/publications/disinfo-update-13-01-2026/)। এই বৈষম্যমূলক প্রয়োগ ইঙ্গিত দেয় যে, "অপপ্রচারের" বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই সত্যের চেয়ে আখ্যানের আধিপত্য বজায় রাখার বিষয়ে বেশি। যখন একটি ইসলামি সংগঠন পশ্চিমা পররাষ্ট্রনীতির ভণ্ডামি তুলে ধরে, তখন তাকে "প্রোপাগান্ডা" বলা হয়; আর যখন কোনো রাষ্ট্রীয় পক্ষ যুদ্ধের সমর্থনে মিথ্যা সংবাদ তৈরি করে, তখন তাকে প্রায়শই "পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি" বা জন-কূটনীতি হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং সক্রিয়তার পুনরুত্থান

ইজাবুতের ওপর এই দমন-পীড়ন এমন এক সময়ে এসেছে যখন মুসলিম বিশ্বে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের শেষের দিকে এবং ২০২৫ সালে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনুরূপ সংগঠনগুলো আবার প্রকাশ্যে কাজ শুরু করেছে [Source](https://www.sundayguardianlive.com/world/hizb-resurfaces-in-bangladesh-starts-propaganda-against-india)। বছরের পর বছর আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকার পরেও এই গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান নির্দেশ করে যে, যুবসমাজ এবং বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ শাসনের ইসলামি বিকল্পের চাহিদা প্রবল রয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপে, ২০২৬ সালের প্রয়োগকারী পরিবেশ রাষ্ট্র-অনুমোদিত "মধ্যপন্থী" ইসলাম থেকে বিচ্যুত যেকোনো ধরনের সংগঠিত ইসলামি কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্রমবর্ধমান প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকের প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, "জনসমক্ষে বক্তব্য" এবং অনলাইন বিবৃতির জন্য ফৌজদারি মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে অনেক বিবাদী এমন মতামত প্রকাশের জন্য কারাদণ্ডের সম্মুখীন হচ্ছেন যা মাত্র এক দশক আগেও মুসলিম বিশ্বে মূলধারা হিসেবে বিবেচিত হতো [Source](https://www.sova-center.ru/en/xenophobia/news-releases/2026/02/d49241/)। নজরদারি এবং আইনি চাপের এই পরিবেশ অনেক ইসলামি আন্দোলনকে আরও এনক্রিপ্টেড এবং বিকেন্দ্রীভূত স্থানে যেতে বাধ্য করছে, যা বিদ্রূপাত্মকভাবে সেই "ট্রেসেবিলিটি" বা শনাক্তযোগ্যতাকে আরও কঠিন করে তুলছে যার অভিযোগ কর্তৃপক্ষ করে থাকে [Source](https://www.europa.eu/newsroom/content/major-takedown-critical-online-infrastructure-disrupt-terrorist-communications-and-propaganda_en)।

উম্মাহর প্রতিক্রিয়া: আখ্যান পুনরুদ্ধার

উম্মাহর দৃষ্টিকোণ থেকে, ইজাবুত ওয়েবসাইটের উন্মোচন কেবল একটি আইনি বিষয় নয়; এটি একটি ধর্মতাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ইসলামি মূল্যবোধ *তাবলিগ* (বার্তা পৌঁছে দেওয়া) এবং *আমর বিল-মা'রুফ ওয়া নাহি আনিল-মুনকার* (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ)-এর গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। যখন এই দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো "সন্ত্রাসবাদ দমনের" নামে ধ্বংস করা হয়, তখন এটিকে মুসলমানদের ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হয়।

তদুপরি, তুরস্ক এবং অন্যান্য স্থানে সাম্প্রতিক ঘটনার মতো জনসমক্ষে "ব্লাড লাইবেল" এবং মুসলিম বিরোধী উস্কানির অন্যান্য রূপগুলো প্রায়শই একই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্বারা উপেক্ষিত থাকে যারা ইজাবুতকে লক্ষ্যবস্তু করতে এত তৎপর [Source](https://www.jpost.com/diaspora/antisemitism/article-844146)। এই বৈষম্য এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে যে, বৈশ্বিক তথ্য ব্যবস্থা মৌলিকভাবে ইসলামি স্বার্থের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট।

উপসংহার: ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের আহ্বান

ইজাবুত সংগঠনের তদন্ত মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। যতক্ষণ পর্যন্ত উম্মাহ পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল থাকবে এবং ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলোর দ্বারা নির্ধারিত "অপপ্রচারের" খেয়ালখুশিমতো সংজ্ঞার অধীন থাকবে, ততক্ষণ এর কণ্ঠস্বর অবদমিত হতে থাকবে। ইজাবুতের এই ঘটনা স্বাধীন, নিরাপদ এবং সত্যনিষ্ঠ ইসলামি মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরির জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে যা আন্তর্জাতিক নজরদারির চাপ সহ্য করতে সক্ষম।

প্রকৃত অপপ্রচার হলো সেটি যা মজলুমের কষ্টকে আড়াল করে এবং ক্ষমতাশালীদের স্বার্থ রক্ষা করে। খিলাফতের আহ্বান এবং মুসলিম ভূখণ্ড রক্ষা করা কোনো "প্রোপাগান্ডা" নয়; এগুলো ন্যায়বিচার প্রত্যাশী একটি বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের বৈধ আকাঙ্ক্ষা। কর্তৃপক্ষ যখন তাদের "গভীর তদন্ত" চালিয়ে যাচ্ছে, উম্মাহকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে নিরাপত্তার অন্বেষণ যেন ডিজিটাল যুগে ইসলামি রাজনৈতিক পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলার অজুহাতে পরিণত না হয়।

মন্তব্য

comments.comments (0)

Please login first

Sign in