আকবরের হামজানামার প্রায় ১,৪০০ চিত্রের কতগুলি আজও টিকে আছে?

আকবরের হামজানামার প্রায় ১,৪০০ চিত্রের কতগুলি আজও টিকে আছে?

Muslim Post Editorial Desk@muslimpost

হামজানামার ১,৪০০ চিত্রের হিসাব, সুতি কাপড় ও কাগজে নির্মিত পাতা, অবশিষ্ট চিত্র এবং জাদুঘরগুলির পৃথক সংখ্যা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আকবরের হামজানামা ষোড়শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মুঘল দরবারে তৈরি ফারসি ভাষার এক বিশাল চিত্রিত অভিযানকাহিনি। বহুল প্রচলিত প্রায় ১,৪০০ চিত্র সংখ্যাটি প্রকল্পটির প্রাথমিক পরিকল্পিত বা পুনর্গঠিত আকার বোঝায়; একটি জাদুঘরে আজ যতগুলি ছবি আছে বা সারা বিশ্বের নিশ্চিতভাবে গণনা করা অবশিষ্ট চিত্রের সংখ্যা এটি নয়। লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়াম (V&A) জানায় ২০০-এর কম চিত্র টিকে আছে। ভিয়েনার MAK বিশ্বজুড়ে ২০০টি পাতা বলে। দুটি প্রকাশিত হিসাবকে এক করে নতুন কোনো নির্ভুল সংখ্যা বানানো উচিত নয়। মূল বাঁধানো সব খণ্ড অক্ষত নেই, ফলে প্রতিটি পাতা আবার খুলে গোনাও সম্ভব নয়।

চিত্রগুলি সুতি কাপড়ে আঁকা হয়েছিল এবং ফারসি লেখা কাগজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। তাই এগুলি সাধারণ কাগজের পাতায় সরাসরি আঁকা ছোট ছবি মাত্র নয়। অবশিষ্ট একটি পাতা প্রকৃত ঐতিহাসিক বস্তু, কিন্তু তার কল্পিত অভিযানের দৃশ্য সপ্তম শতকের ঘটনাবলির প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য নয়। মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের বস্তু-নথি, V&A-এর মুঘল শিল্পবিষয়ক ব্যাখ্যা এবং ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়ামের সংগ্রহতথ্য মিলিয়ে পড়লে গল্প, নির্মাণ এবং হারিয়ে যাওয়া মূল প্রকল্পের পরিসরকে আলাদা প্রশ্ন হিসেবে দেখা যায়।

ছবির আমির হামজা কি নবীর চাচার প্রমাণিত জীবনী?

নায়কের নাম ইসলামের নবী মুহাম্মদের ঐতিহাসিক চাচা হামজা ইবন আবদুল মুত্তালিবের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আমির হামজার দীর্ঘ সফর, যুদ্ধ, বন্ধু ও অলৌকিক প্রাণীর কাহিনি তাঁর যাচাই করা জীবনী নয়। বহু শতক ধরে মুখে মুখে বেড়ে ওঠা সাহিত্যিক ঐতিহ্যই এসব ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট। V&A জানায়, আকবরের দরবারে ফারসি গদ্যরূপ প্রস্তুত হওয়ার আগে গল্পটি মৌখিকভাবেও প্রচলিত ছিল। MAK-এর সংগ্রহ-নথি ঐতিহাসিক নামের সঙ্গে কল্পিত ঘটনার মিশ্রণের বিষয়টিও উল্লেখ করে।

মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের মিহরদুখতের চিত্রপাতা 2022.170 এই পার্থক্য পরিষ্কার করে। রাজকুমারী একটি সোনার পাখিতে ঝোলা বলয়ের মাঝ দিয়ে তির ছোড়েন। জাদুঘরের বর্ণনা অনুযায়ী, কাহিনির হামজার পুত্র হামিদ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাঁকে বিয়ের অধিকার পায়। ছবির রং, বস্ত্র এবং তৈরির সময় গবেষণা করা যায়। কিন্তু সেই সংগ্রহ-নথি বলে না যে নবীর চাচার জীবদ্দশায় বাস্তবে এমন প্রতিযোগিতা হয়েছিল। প্রায় ১৫৭০ সাল ছবিটি তৈরির আনুমানিক সময়; কাহিনির ঘটনাটির সাল নয়।

ইসলামি নাম, ফারসি ভাষার দরবার এবং মুঘল সংস্কৃতি চিত্রগুলির ইতিহাস বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবু গল্পের প্রত্যেক দৈত্য বা আশ্চর্য চরিত্রকে ধর্মীয় বিধান কিংবা ঐতিহাসিক ব্যক্তি বানানো যায় না। প্রথমে জাদুঘর যে দৃশ্য শনাক্ত করেছে তা দেখা, তারপর ধারাবাহিক কাহিনিতে দৃশ্যটির ভূমিকা বোঝা বেশি ফলদায়ক। এভাবে শিল্পের কল্পনাশক্তি অক্ষত থাকে এবং সাহিত্যকে প্রমাণহীন ইতিহাস বলে চালানো হয় না।

১,৪০০ চিত্রের হিসাব কীভাবে এল, আর ১২ ও ১৪ খণ্ডের উল্লেখ কেন?

ক্লিভল্যান্ডের সংগ্রহ-নথি প্রচলিত একটি হিসাব দেয়: ১৪ খণ্ডে প্রতিটিতে ১০০ চিত্র। গুণ করলে ১,৪০০ হয়। আকবরের বিশাল উদ্যোগ বোঝাতে মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামও এই সংখ্যা ব্যবহার করে। V&A সতর্ক করে, পুরোনো বিবরণে ১২ বা ১৪ খণ্ড দুই রকম তথ্য আছে, সাধারণত প্রতি খণ্ডে প্রায় ১০০ ছবি, আর কাজে লেগেছিল প্রায় ১৫ বছর। সম্পূর্ণ মূল বাঁধানো খণ্ডগুলি এখন পাওয়া যায় না। সুতরাং ১,৪০০ একটি সূত্রভিত্তিক প্রকল্পের পরিসর, আজকের অবশিষ্ট পাতার তালিকা নয় এবং পরিকল্পিত প্রতিটি ছবি শেষ হয়েছিল তার অকাট্য প্রমাণও নয়।

মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম দীর্ঘ সময়ে প্রায় ১০০ জন শিল্পীর অংশগ্রহণের কথা বলে। এর মানে একটি পাতায় একসঙ্গে ১০০ জন ছবি এঁকেছিলেন নয়। রূপরেখা, রং, সোনালি অংশ, পাঠ নকল করা এবং কাপড়-কাগজ জোড়ার কাজ বিভিন্ন হাতে বিভক্ত হতে পারত। অধিকাংশ অবশিষ্ট পাতার সঙ্গে সম্পূর্ণ কর্মশালার দৈনিক কাজের তালিকা নেই। কোনো শিল্পীর নাম সংগ্রহ-নথিতে দেখলে তা স্বাক্ষর, শৈলী মিলিয়ে গবেষকের সিদ্ধান্ত, নাকি সতর্ক আরোপ—এই পার্থক্য পড়তে হয়।

বৃহৎ সচিত্র পাণ্ডুলিপিতে বহু কারিগরের সহযোগিতা তুলনা করতে শাহ তাহমাস্পের শাহনামা নিয়ে বাংলা আলোচনাটি কাজে লাগে। কিন্তু সেই বই অন্য পারস্য দরবারে অন্য পৃষ্ঠপোষকের অধীনে তৈরি; পরে তার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ইতিহাসও আলাদা। তুলনা কর্মশালার সংগঠন বুঝতে সাহায্য করে, হারিয়ে যাওয়া হামজানামা খণ্ড ফিরিয়ে আনে না বা ঠিক ১,৪০০ ছবিই শেষ হয়েছিল বলে প্রমাণ করে না।

কাজটি কবে হয়েছিল, যখন জাদুঘরগুলির তারিখ ভিন্ন?

মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের মতে আকবর পাণ্ডুলিপিটি ১৫৬২ সালে তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাদের সংগ্রহের যুদ্ধদৃশ্য 18.44.2 আলাদাভাবে আনুমানিক ১৫৬৪–১৫৬৯ সালের। V&A সামগ্রিক কাজের জন্য সাধারণত ১৫৬২–১৫৭৭ বলে; MAK অপেক্ষাকৃত বড় ১৫৫৭–১৫৭৭ সময়সীমা ব্যবহার করে। ভিন্ন সংখ্যাগুলি একই মুহূর্ত নির্দেশ নাও করতে পারে। পৃষ্ঠপোষকতার সিদ্ধান্ত, কর্মশালার প্রস্তুতি, ফারসি পাঠ লেখা ও একটি নির্দিষ্ট ছবির সমাপ্তি আলাদা ধাপ। সংগ্রহ-নথির ‘আনুমানিক’ শব্দটি বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন বোঝায়, সব পর্যায়ে তারিখ লেখা হিসাবের খাতা পাওয়া গেছে এমন নয়।

মিহরদুখতের পাতাকে মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম প্রায় ১৫৭০ সালের বলে। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চলার সঙ্গে এটি মেলে, কিন্তু বাকি সব খণ্ডের তারিখ নির্ধারণ করে না। কাহিনি নির্বাচন, গদ্য প্রস্তুত, লেখকের নকল, কাপড়ে শিল্পীর কাজ, স্তর জোড়া—এসব পরস্পরের পাশাপাশি চলতেও পারে। অবশিষ্ট কয়েকটি পাতা দিয়ে এক হাজারের বেশি ছবির নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন-দিনপঞ্জি বানানো যাবে না।

একটি ছবির তারিখ দিয়ে আকবরের সব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও করা যায় না। আকবরের ধর্মনীতি, সুলহ-ই-কুল এবং দীন-ই-ইলাহি বিতর্ক নিজস্ব দলিল ও সময়রেখা অনুসারে যাচাই করতে হবে। ইসলামি নামধারী কল্পিত নায়কের ছবি পরে সম্রাট ধর্মীয় আলোচনায় কী ভেবেছিলেন তার একক প্রমাণ নয়। দরবারি শিল্প ইতিহাস বুঝতে সাহায্য করতে পারে, তবে প্রত্যেক দাবির জন্য উপযুক্ত প্রমাণ চাই।

কাপড়, কাগজ, রং এবং সোনা একটি পাতায় কীভাবে জুড়ত?

V&A ব্যাখ্যা করে, ফারসি লেখা থাকত কাগজে এবং আঁকা ছবি সুতি কাপড়ে; পরে স্তরগুলি একসঙ্গে লাগানো হত। তাই সাধারণ লেখা পাতার ওপর ছোট রঙিন ছবি আঁকার ধারণা এখানে ঠিক খাটে না। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম 18.44.2 পাতার উপাদান হিসাবে কাগজে আটকানো কাপড়ের ওপর কালি, অস্বচ্ছ জলরং ও সোনা লিখেছে; মাপ দিয়েছে ৬৮.৬ × ৫৪ সেমি। ক্লিভল্যান্ডের 1976.74 নথিতে সুতি কাপড় ও কাগজের ওপর আঠা-মেশানো টেম্পেরা, কালি ও সোনার কথা এবং পুরো পাতার মাপ ৮৩.৭ × ৬৭ সেমি বলা আছে। দুটি পৃথক বস্তু, আর মাপের লেবেলও পুরোপুরি এক নয়।

মিহরদুখতের 2022.170 চিত্রে মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম আঁকা অংশের মাপ ৬৭.৮ × ৫২ সেমি ফ্রেমের মাপ থেকে আলাদা দেখায়। ছবির অংশ, সমগ্র পাতা ও পরে লাগানো ফ্রেমের সংখ্যা নাম বাদ দিয়ে পাশাপাশি রাখলে ভুল তুলনা তৈরি হবে। হাতে গোনা কয়েকটি বস্তু থেকেও পরিকল্পিত ১,৪০০ চিত্রের প্রত্যেকটি ঠিক একই মাপে ছিল বলা যায় না। পরে ধার কাটা, মেরামত বা নতুন ফ্রেম লাগানোর ফলে আজ মাপা অংশ বদলাতে পারে।

ডিজিটাল ছবি দৃশ্যের বিন্যাস দেখায়, কিন্তু পেছনের দিক, স্তরের সংযোগ বা কাপড়ের তন্তু সব সময় বোঝায় না। এসব প্রশ্নে বাস্তব বস্তু ও সংরক্ষণ-নথি দরকার। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম সম্ভাবনা জানায় যে বড় ছবি গল্প বলার সময় শ্রোতাদের সামনে উঁচু করে দেখানো হত। আকার দেখে অনুমানটি যুক্তিসংগত, কিন্তু ‘সম্ভাবনা’ শব্দটি বাদ দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক পাতা একইভাবে ব্যবহৃত হত এমন কোনো সংরক্ষিত কর্মশালা-নির্দেশ পাওয়া যায় না।

সংগ্রহ নম্বর জানা চারটি চিত্র থেকে ঠিক কী বোঝা যায়?

মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের যুদ্ধদৃশ্য 18.44.2-তে হামজার দুই সহচর কাসিম ও বদিউজ্জামান বহু চরিত্রের মধ্যে একটি মণ্ডপের নিচে যুদ্ধ করছেন। জাদুঘর ছবিটির আনুমানিক সময় ১৫৬৪–১৫৬৯ ধরে এবং সতর্কভাবে শ্রাবণ, দাসবন্ত ও তারার নামে আরোপ করে। ছবিতে ভিড়ের মধ্যে গতির বিন্যাস দেখা যায়। কিন্তু আরোপ থেকে কে প্রথম রেখা এঁকেছিলেন বা কে শেষে সোনা বসিয়েছিলেন জানা যায় না; অন্য সব পাতার শিল্পীও এঁরাই ছিলেন ধরে নেওয়া যায় না।

2022.170 পাতায় মিহরদুখতের তিরন্দাজি পরীক্ষা দেখা যায়। মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম দৃশ্যটিকে হামিদ ও রাজকুমারীর গল্পের সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে গোটা কাজটি শুধু যুদ্ধের ছবি দিয়ে সাজানো ছিল ভাবলে সম্পর্ক, দক্ষতা ও অপেক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পর্বগুলি বাদ পড়ে। একই জাদুঘরে এখন রাখা দুটি পাতার কৌশল তুলনা করা যায়, কিন্তু একই বর্তমান সংগ্রহে থাকা মানেই হারিয়ে যাওয়া মূল খণ্ডে পাশাপাশি ছিল—এমন নয়।

ক্লিভল্যান্ডের 1976.74 পাতায় আলমশাহ প্রবল স্রোতের কাছে আছেন। জাদুঘরের ব্যাখ্যায় এক শত্রু বাঁধের বড় তামার ছিপি তুলে আলমশাহর পিতা হামজার শিবির ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিল; নায়ক সেই শত্রুকে হত্যা করেন। ক্লিভল্যান্ড পাতাটিকে একাদশ খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে এবং নিচের কিনারার লেখাটি আগের পাতার পাঠ থেকে চলেছে বলে জানায়। এই বাস্তব পাঠসংযোগ কাহিনির ক্রমের একটি নির্দিষ্ট সূত্র, দুটি ছবির সাধারণ রীতিগত মিলের চেয়ে শক্তিশালী। তবে একটি সূত্র হারানো সম্পূর্ণ খণ্ডের পৃষ্ঠা-ক্রম ফেরায় না।

মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের 24.48.1 পাতায় ব্যবসায়ী মিসবাহ ও গুপ্তচর পারান হামজার অপহৃত পুত্রকে উদ্ধার করার পরিকল্পনা করেন। জাদুঘর ছবিটির সময় প্রায় ১৫৭০ বলে এবং দাসবন্ত ও মিত্রের কাজ বলে আরোপ করে। এই চারটি বস্তুর ঘটনা আলাদা: যুদ্ধ, তিরন্দাজি, বন্যার বিপদ, উদ্ধার পরিকল্পনা। এগুলি আকবরের দরবারি চিত্রকলা ও সাহিত্যিক কল্পনার বস্তুগত সাক্ষ্য; ঐতিহাসিক হামজার জীবনের চারটি স্বাধীন রিপোর্ট নয়।

কাশ্মীর থেকে কিছু পাতা লন্ডনে পৌঁছানোর ইতিহাস কী?

V&A তাদের নিজস্ব সংগ্রহের কিছু পাতার পরবর্তী ইতিহাসের নথি দেয়। ১৮৮০–১৮৮১ সালের শীতে, তখনকার সাউথ কেনসিংটন মিউজিয়ামের সংগ্রাহক ক্যাসপার পারডন ক্লার্ক কাশ্মীরের শ্রীনগরের একটি দোকানে বড় আকারের ছবিগুলি দেখতে পান এবং কেনেন। জাদুঘর জানায়, কয়েকটি পাতা শীতের বাতাস আটকাতে দোকানের জানালায় ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই বিবরণ একটি নির্দিষ্ট দল ছবির ঊনবিংশ শতকের অবস্থার কথা বলে; পৃথিবীর সব হামজানামা পাতার যাত্রাপথের কথা নয়।

V&A আগুন ও বৃষ্টির ক্ষতি, বিবর্ণ রং এবং পরে ঘষে মুছে ফেলা কিছু মুখের কথাও বলেছে। এখন লন্ডন ও ভিয়েনার ছবির প্রতিরূপ দেখলে ষোড়শ শতকের শিল্পীর কাজের পাশাপাশি পরবর্তী ব্যবহার ও সংরক্ষণের প্রভাবও দেখা হয়। V&A-এর মতে MAK-এ ভালো অবস্থায় থাকা পাতাগুলি মূল রঙের শক্তি কেমন ছিল তার ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু সংরক্ষিত একটি সুন্দর পাতা থেকেও বাঁধানো সব খণ্ড একসঙ্গে দেখতে কেমন ছিল তা পুরো জানা যায় না।

প্রতিটি বস্তুর ইতিহাসে নির্মাণ, বই বিচ্ছিন্ন হওয়া, নথিযুক্ত বা অজানা মালিকানা, জাদুঘরের ক্রয় ও সংরক্ষণ থাকে। মাঝের ফাঁকা জায়গা ভরতে আকবরের কর্মশালা থেকে আজকের প্রদর্শনীকক্ষে সরাসরি পৌঁছানোর মসৃণ কিন্তু অপ্রমাণিত গল্প লেখা উচিত নয়। সংগ্রহ নম্বর ও ক্রয়ের রেকর্ড সাধারণ নামের চেয়ে অনেক সময় বেশি কার্যকর। একই প্রকল্পের আরেকটি পাতা একেবারে ভিন্ন পথে অন্য সংগ্রহে যেতে পারে।

এখন কত পাতা আছে, আর আকবরের কর্মশালায় কারা কাজ করতেন?

V&A জানায় ২০০-এর কম চিত্র টিকে আছে। তাদের সংগ্রহে ২৮টি পূর্ণ পাতা এবং দুটি খণ্ডাংশ আছে; MAK-এর ৬০ পাতার দলটিকে সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করা হয়। MAK-এর সংগ্রহ পৃষ্ঠা বিশ্বজুড়ে ২০০টি পাতা বলে এবং ভিয়েনার ৬০টি নিশ্চিত করে। পার্থক্যটি নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করার মতো অভিন্ন গণনানীতি দুটি পৃষ্ঠায় দেওয়া নেই। তাই সংক্ষিপ্ত সতর্ক উত্তর ‘প্রায় দুইশো বা তার কম’, সঙ্গে কোন প্রতিষ্ঠানের কোন সংখ্যাটি উদ্ধৃত হচ্ছে তা লেখা। নতুন একটি একক নির্ভুল মোট তৈরি করা গবেষণার বিকল্প নয়।

V&A ইরানি শিল্পধারায় শিক্ষিত দুই প্রধান শিল্পী ও ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আসা শিল্পীদের রাজকীয় গ্রন্থাগারের পরিবেশে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলে। লেখক, অলংকরণশিল্পী ও বই বাঁধাইকারীরাও জড়িত ছিলেন। ১৬০০ সালের আগের মুঘল শিল্প নিয়ে মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের প্রবন্ধ আকবরের দরবারে ফারসি ও ভারতীয়, মুসলিম ও হিন্দু শিল্পীদের কাজের বৃহত্তর প্রেক্ষাপট দেয়। এতে বহুজনের কর্মশালার ধারণা সমর্থন পায়, কিন্তু নির্দিষ্ট প্রতিটি অবশিষ্ট পাতায় কার কোন হাত ছিল তার পূর্ণ তালিকা মেলে না।

V&A পরে তৈরি আকবরনামা বইয়ের প্রান্তলিপিকে তুলনামূলক উদাহরণ হিসাবে ব্যবহার করে: কোথাও ছবির রূপরেখা করা ব্যক্তি আর রং করা ব্যক্তিকে আলাদা করা যায়। দরবারি শ্রমবিভাগ ভাবতে এটি কাজে লাগে; হামজানামা-র প্রতিটি পাতার উৎপাদন-দিনলিপি হিসেবে নয়। জাদুঘর ‘সম্ভবত’ বা ‘আরোপিত’ লিখলে সম্পাদকীয় ভাষায় সেই অনিশ্চয়তাও রাখতে হয়।

বড় ছবিতে মানুষ, প্রাণী, স্থাপত্য ও গাছপাতার অলংকরণ পাশাপাশি থাকে। ইসলামি শিল্পে মানুষ ও প্রাণীর চিত্র নিয়ে বাংলা লেখাটি মানব ও প্রাণীর রূপ তুলনা করতে সাহায্য করে। আরাবেস্ক ও উদ্ভিদলতার নকশা নিয়ে লেখাটি পুনরাবৃত্ত অলংকরণকে কোনো ঘটনার দৃশ্য থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে। এই সম্পর্কগুলি ছবি পড়ার উপায় সমৃদ্ধ করে, স্বাক্ষরহীন পাতার শিল্পীর নাম বা হারানো খণ্ডে তার সঠিক স্থান নিজে থেকে প্রকাশ করে না।

প্রচ্ছদের ছবিটি এআই-সহায়তায় তৈরি একটি মৌলিক ঐতিহাসিক পুনর্গঠন। এটি টিকে থাকা কোনো হামজানামা পাতার, দলিল দিয়ে শনাক্ত করা কর্মশালার কিংবা নির্দিষ্ট নামজানা শিল্পীর ছবির আলোকচিত্র নয়।

তথ্যসূত্র

  1. মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, যুদ্ধদৃশ্য 18.44.2 — আকবরের নির্দেশ, পুনর্গঠিত প্রকল্পের আকার এবং এই নির্দিষ্ট পাতার সময়, উপাদান, মাপ ও সতর্ক শিল্পী-আরোপের ভিত্তি; সব অবশিষ্ট ছবির তালিকা নয়।
  2. ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়াম, “The arts of the Mughal Empire” — মৌখিক ঐতিহ্য, ১২/১৪ খণ্ড, সামগ্রিক সময়, সুতি কাপড়-কাগজের গঠন, নিজের সংগ্রহের সংখ্যা ও ১৮৮০–১৮৮১-তে শ্রীনগরে ক্রয়ের তথ্য।
  3. ক্লিভল্যান্ড মিউজিয়াম, আলমশাহ ও বাঁধ, 1976.74 — ১৪ × ১০০ হিসাব, একাদশ খণ্ড, পাতার মাপ ও উপাদান, তামার ছিপি এবং আগের পাতা থেকে চলা পাঠের ভিত্তি।
  4. MAK ভিয়েনা, হামজানামা সংগ্রহ-নথি — বৃহত্তর সময়সীমা, ভিয়েনার ৬০ পাতা ও বিশ্বজুড়ে ২০০ পাতা বলা প্রতিষ্ঠানগত বক্তব্য; V&A-এর ‘২০০-এর কম’ মুছে দেয় না।
  5. মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, মিহরদুখত, 2022.170 — তিরন্দাজির দৃশ্য, তৈরির সময়, উপাদান এবং আঁকা অংশ ও ফ্রেমের মাপ পৃথক করার তথ্য।
  6. মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, মিসবাহ ও পারান, 24.48.1 — উদ্ধার পরিকল্পনা, সময়, শিল্পী-আরোপ এবং গল্প বলার সময় ছবি দেখানোর সতর্ক সম্ভাবনার তথ্য।
  7. মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, “The Art of the Mughals before 1600” — আকবরের দরবারে ফারসি ও ভারতীয় শিল্পীর যৌথ কর্মপরিবেশ; হামজানামা-র সব চিত্রশিল্পীর তালিকা নয়।