
ইবন বতুতার ভ্রমণ কীভাবে রিহলা হয়ে উঠল
ইবন বতুতার ১৩২৫–১৩৫৪ সালের ভ্রমণ, ১৩৫৫–১৩৫৬ সালে রিহলার সম্পাদনা, পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণ এবং বিতর্কিত সফর ও দূরত্বের প্রমাণভিত্তিক ব্যাখ্যা।
ভ্রমণ ও বইয়ের মূল তথ্য
| প্রশ্ন | প্রমাণ যা সমর্থন করে |
|---|---|
| শুরু কোথায়? | পশ্চিম মাগরিবের তাঞ্জিয়ার; প্রথম উদ্দেশ্য ছিল মক্কা ও মদিনা যাওয়া। |
| রওনা হওয়ার তারিখ কী? | ৭২৫ হিজরির ২ রজব; প্রচলিত রূপান্তরে ১৩২৫ সালের ১৪ জুন। |
| ভ্রমণ কখন শেষ হয়? | ১৩৫৪ সালের শুরুতে। ১৩৪৯ সালের মরক্কো প্রত্যাবর্তন শেষ সফর ছিল না। |
| টিকে থাকা বর্ণনা কার কাজ? | ইবন বতুতা ভ্রমণের কথা জানান; সুলতান আবু ইনানের পৃষ্ঠপোষকতায় ইবন জুযাই লিখিত রূপ দেন। |
| সব সফর কি সমানভাবে নিশ্চিত? | না। নির্দিষ্ট অংশের সময়ক্রম, ভূগোল, অন্য লেখা থেকে নেওয়া বিবরণ ও সহায়ক প্রমাণ আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হয়। |
| প্রায় ৭৫,০০০ মাইল কী বোঝায়? | বর্ণিত পথ পুনর্গঠনের একটি হিসাব; চতুর্দশ শতকে যন্ত্র দিয়ে মাপা দূরত্ব নয়। |
ভ্রমণের ঘটনা আর টিকে থাকা বিবরণ আলাদা করলে বইটির মূল্য ভালোভাবে বোঝা যায়। কেউ একটি কথোপকথন ঠিক মনে রেখে তারিখ ভুল করতে পারেন। একজন সম্পাদক স্থানীয় তথ্য সংরক্ষণ করার পাশাপাশি আগের সাহিত্য থেকে কিছু যোগ করতে পারেন। তাই পুরো বইকে এক কথায় বিশ্বাসযোগ্য বা অবিশ্বাস্য বলার বদলে নির্দিষ্ট বক্তব্য ও পথের অংশে আস্থার ভিত্তি খুঁজতে হয়।
কোনো শহরের নাম বইয়ে আছে কি না, লেখক সেখানে নিজে গিয়েছিলেন কি না এবং ঠিক কোন দিনে পৌঁছেছিলেন—এগুলো তিনটি আলাদা প্রশ্ন। প্রতিটির জন্য আলাদা ধরনের প্রমাণ দরকার। সব নামের মধ্যে একটি রেখা টেনে দেওয়া আধুনিক মানচিত্র এই পার্থক্য আড়াল করতে পারে।
হজের উদ্দেশ্য থেকে বিস্তৃত যাত্রাপথ
ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যযুগীয় উৎসসংকলনে H. A. R. Gibb-এর ১৯২৯ সালের অনুবাদ থেকে নির্বাচিত অংশ পাওয়া যায়। রিহলার শুরুতে তাঞ্জিয়ারের নাম ও ইসলামী বর্ষপঞ্জির তারিখ আছে। মা-বাবাকে ছেড়ে আসার কষ্ট এবং প্রথমে সঙ্গী না থাকার কথাও রয়েছে। তবে এই ব্যক্তিগত শুরু দিয়ে পরের সব ভ্রমণকে একাকী যাত্রা বলা যায় না। তিনি পরে অন্য যাত্রী, ব্যবসায়ী ও সরকারি দলের সঙ্গে চলেছেন।
প্রথম লক্ষ্য ছিল হজ; আধুনিক কয়েক ডজন দেশ দেখার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা নয়। সুযোগ, পরামর্শ, বিপদ, অসুস্থতা ও পৃষ্ঠপোষকতা বারবার পথ বদলেছে। মিসরের অংশে Aydhab থেকে লোহিত সাগর পার হওয়ার চেষ্টা সংঘাতের কারণে সম্ভব হয়নি। এরপর বর্ণনায় কায়রোর দিকে ফিরে সিরিয়া হয়ে হিজাজ যাওয়ার কথা আসে। তাঞ্জিয়ার থেকে মক্কায় শুধু একটি সরল রেখা টানলে পরিস্থিতির কারণে পথ পরিবর্তনের এই গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হারিয়ে যায়।
বর্ষপঞ্জি ও বয়সের হিসাবেও সতর্কতা দরকার। বর্ণনায় বয়স চান্দ্রবর্ষে দেওয়া হয়েছে; আধুনিক সৌরবর্ষে হিসাব করলে সংখ্যা আলাদা হয়। পরের তারিখগুলো রূপান্তরের ক্ষেত্রেও সমস্যা থাকতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট দিন নিয়ে সংস্করণ বা গবেষণায় পার্থক্য থাকলে মূল হিজরি তারিখ এবং ব্যবহৃত রূপান্তরপদ্ধতি উল্লেখ করা ভালো। একটি দিন বেছে নিয়ে সেটিকে নিশ্চিত নির্ভুলতা হিসেবে দেখানো উচিত নয়।
সময়রেখা ও নিশ্চয়তার বিভিন্ন স্তর
| সময় | প্রধান পর্যায় | কীভাবে পড়তে হবে |
|---|---|---|
| ১৩২৫–১৩২৬ | উত্তর আফ্রিকা, মিসর, সিরিয়া ও প্রথম মক্কা হজ | যাত্রার শুরুর তারিখ স্পষ্ট; বর্ণনায় বিলম্ব ও মিসরের পরিবর্তিত পথ আছে। |
| ১৩২৬–১৩২৭ | বাগদাদ ও তাবরিজসহ ইরাক ও পশ্চিম পারস্য, তারপর আবার হজ | সরকারি দলের সঙ্গে চলা এবং বাগদাদের হজ কাফেলার বিবরণ রয়েছে। |
| ১৩২০-এর দশকের শেষ থেকে ১৩৩০-এর দশকের শুরু | মক্কায় আরও অবস্থান এবং লোহিত সাগর, আরব ও পূর্ব আফ্রিকায় যাত্রা | একটি বিস্তৃত পর্যায় হিসেবে পড়ুন; প্রতিটি অংশের আধুনিক তারিখ নিয়ে ঐকমত্য আছে ধরে নেবেন না। |
| ১৩৩০-এর দশকের শুরু | আনাতোলিয়া, কৃষ্ণসাগর ও Golden Horde-এর যোগাযোগজাল হয়ে ভারতের দিকে যাত্রা | কিছু আলাদা সফর, বিশেষত Bulghar যাওয়া, বিতর্কিত। |
| ১৩৩৩–১৩৪১ বা ১৩৪২ | দিল্লি সুলতানিতে দীর্ঘ অবস্থান | গবেষণায় ১৩৩৩ সাল থেকে ভারতে থাকার কথা আছে; শেষ সময় নির্ভর করে ঘটনাক্রম পুনর্গঠনের ওপর। |
| ১৩৪০-এর দশক | মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কাসহ ভারত মহাসাগরের সফর এবং চীন পর্যন্ত বিস্তৃত বর্ণনা | বৃহত্তর সামুদ্রিক যোগাযোগ ও প্রতিটি দাবিকৃত ব্যক্তিগত সফরের প্রমাণ আলাদা বিষয়। |
| ১৩৪৯ সালের নভেম্বর থেকে ১৩৫৪ সালের শুরু | মরক্কোয় ফেরা, তারপর আল-আন্দালুস ও পশ্চিম সুদান অঞ্চল; ১৩৫২–১৩৫৩ সালে মালি | ঘরে ফেরা যাত্রার সমাপ্তি নয়। পশ্চিম সুদান ঐতিহাসিক অঞ্চলের নাম, বর্তমান সুদান রাষ্ট্র নয়। |
এই সময়রেখা বইয়ের বিভিন্ন পর্বে ছড়ানো ভ্রমণকে বড় পর্যায়ে সাজায়। এটি থেকে দৈনিক গতি হিসাব করা বা প্রতিটি শহরে পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট দিন স্থির করা যায় না। দীর্ঘ অবস্থান, দ্বিতীয়বার সফর, অসুস্থতায় বিরতি ও সম্পাদকের বিন্যাস সহজ তীরচিহ্নের ধারাকে বিভ্রান্তিকর করে তুলতে পারে।
১৩৪৯ সালের ফেরা আর ১৩৫৪ সালের সমাপ্তি মিশিয়ে ফেললে মালি সফর বাদ পড়ে বা ভুল সময়ে চলে যায়। দিল্লিতে কয়েক বছর থাকাও অল্প সময়ের এক সফরে পরিণত হয়। যাত্রার শুরু, অবস্থান, পুনরায় সফর ও প্রত্যাবর্তন আলাদা করে দেখালে বইয়ের ক্রমের সঙ্গে ইতিহাসবিদের পুনর্গঠিত সময়ক্রম তুলনা করা সহজ হয়।
কাফেলা, জাহাজ ও ভ্রমণকে সম্ভব করা মানুষ
মোট দূরত্বের চেয়ে ব্যবহারিক বিবরণ অনেক সময় বেশি তথ্য দেয়। মিসরের পথে থাকার ব্যবস্থা, রসদ ও সীমান্তে তল্লাশির কথা আছে। বাগদাদের অংশে একজন শাসকের দেওয়া পরিবহন ও সামগ্রীর উল্লেখ রয়েছে। ইবন বতুতা অসুস্থ হলে কাফেলার নেতা তাঁকে দেখাশোনা করেছিলেন বলেও বর্ণনা আছে। এসব মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় চলার বিবরণ; রাজনৈতিক সীমানা পার হওয়া সবার জন্য সহজ ছিল, এমন প্রমাণ নয়।
হজের ধর্মীয় উদ্দেশ্যের সঙ্গে পানি, পশু, খাদ্য, পাহারা, যাত্রার সময় ও নেতৃত্ব যুক্ত ছিল। মাহমাল ও সরকারি হজ কাফেলার নির্দেশিকা পৃষ্ঠপোষক শাসকের প্রতিনিধিত্বকারী আনুষ্ঠানিক পালকি ব্যাখ্যা করে। এই পটভূমি কাফেলার প্রতীকী দিককে রিহলায় বলা বাস্তব সহায়তা থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে। মাহমাল সাধারণ যাত্রীবাহী পরিবহন ছিল না; কোনো একটি মাহমাল ইবন বতুতার প্রতিটি সফরে ছিল, এমন দাবিও এই নির্দেশিকা প্রতিষ্ঠা করে না।
সমুদ্রযাত্রায় নির্ভরতার ধরন বদলাত। জাহাজের ছাড়ার সময়, আবহাওয়া ও যাত্রী হিসেবে জায়গা পাওয়া পরবর্তী গন্তব্য ঠিক করতে পারত। লোহিত সাগরের বর্ণনায় অপরিচিত নৌযান ও কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ দেখা যায়। তাই আধুনিক পথচিত্রে ফিরে যাওয়া, বিরতি এবং স্থলপথ থেকে জলপথে পরিবর্তন রাখা দরকার। শুধু ক্রমাগত পূর্বমুখী অগ্রগতি দেখালে এসব শর্ত বোঝা যায় না।
একটি ঘটনার সহায়তা সব কাফেলার সাধারণ নিয়ম নয়। অসুস্থ যাত্রীর যত্ন পাওয়ার গল্প থেকে প্রত্যেকে সমান নিরাপত্তা পেতেন বলা যায় না। কে সাহায্য করেছিলেন এবং কোন সম্পর্ক সেই সাহায্য সম্ভব করেছিল, তা দেখলে নির্দিষ্ট ঘটনাটির প্রমাণমূল্য বজায় থাকে।
শিক্ষা ও দরবারের কাজও যাত্রাপথের অংশ
ইবন বতুতা মুসলিম আলেম হিসেবে চলেছেন, জ্ঞানী ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের খুঁজেছেন এবং দরবারের কাজে যুক্ত হয়েছেন। এই পরিচয় আতিথ্য ও পরিচিতি পেতে সহায়তা করতে পারত। একই সঙ্গে তা তাঁকে বিশেষ সামাজিক পরিসরে রেখেছে। পৃষ্ঠপোষকের কাছে স্বাগত একজন আইনজ্ঞ শহরকে যেভাবে দেখেন, একজন মালবাহক, কৃষক, দাসত্বে থাকা ব্যক্তি বা স্থানীয় নারী সেভাবে দেখেন না।
The Cambridge Guide to Global Medieval Travel Writing-এ Christine Chism তাঁর বদলে যাওয়া ভূমিকাকে সামাজিক সীমা পেরিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর উপায় হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এটি আধুনিক গবেষকের পাঠ, মধ্যযুগের কোনো পাসপোর্ট নয়। এই ব্যাখ্যা থেকে প্রশ্ন করা যায়: কোন সম্পর্ক একটি সাক্ষাৎ সম্ভব করেছিল, আর কোন অভিজ্ঞতা বর্ণনাকারীর নাগালের বাইরে ছিল?
ইজাজা, শিক্ষাদানের অনুমতি ও জ্ঞানের পরম্পরার নির্দেশিকা আরেকটি দরকারি পার্থক্য দেয়। শিক্ষকের অনুমতি বিশেষ গ্রন্থ বা কাজের জন্য হতে পারত; তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছিল না। এর মাধ্যমে রিহলায় নাম থাকা শিক্ষক ও শিক্ষার যোগাযোগজালের গুরুত্ব বোঝা যায়। কিন্তু প্রতিটি সাক্ষাৎ থেকে সনদ তৈরি হয়েছিল বা সেই সনদ এখনো টিকে আছে, এমন কথা বলা যায় না।
দিল্লির দীর্ঘ অবস্থান পর্যটন ও কাজের পার্থক্য স্পষ্ট করে। Claudia Maria Tresso-এর গবেষণায় মুহাম্মদ ইবন তুঘলকের শাসনকালে ১৩৩৩ থেকে আনুমানিক ১৩৪১–১৩৪২ সাল পর্যন্ত তাঁর দিল্লি অবস্থান আলোচিত হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবেশে কয়েক বছর থাকা বিস্তারিত তথ্য দিতে পারে। তবে রাজদরবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তিনি কী জানেন, কী নিয়ে ভয় পান এবং কোন বিষয় বর্ণনা করতে বেছে নেন, সেগুলোকেও প্রভাবিত করে। বেশি তথ্য থাকা আর সব গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করা এক কথা নয়।
বাগদাদ ও মালি: পর্যটকের দৃষ্টিভঙ্গির সীমা
বাগদাদের বর্ণনায় ধ্বংস ও চলমান নগরজীবন পাশাপাশি আছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান বলার সঙ্গে সেতু, বাজার ও গোসলখানাও বর্ণিত হয়। উপহার ও রওনার ব্যবস্থার কথাও আসে। তাই এই অংশকে বিজয়ে অক্ষত সমৃদ্ধ শহর বা পরে জীবনহীন ধ্বংসস্তূপ—কোনো একটিতে নামিয়ে আনা ঠিক নয়। রাজনৈতিক কেন্দ্রীয়তা হারালেও একটি শহরে বাসিন্দা, প্রতিষ্ঠান ও যাত্রার যোগাযোগ টিকে থাকতে পারে।
বাগদাদ প্রতিষ্ঠা ও গোল নগরীর ইতিহাস প্রথম কেন্দ্রের সঙ্গে পরবর্তী মহানগরকে আলাদা করে এবং ১২৫৮ সালের পরেও নগরজীবনের ধারাবাহিকতা ব্যাখ্যা করে। এই পটভূমি রিহলার সব স্থানকে প্রতিষ্ঠাকালের একই বৃত্তে বসানো থেকে বিরত রাখে। তবে আধুনিক পুনর্গঠিত মানচিত্র বা নগর-ইতিহাস একা ইবন বতুতার কোনো ব্যক্তিগত সফর প্রমাণ করে না।
মালি সফরে অন্য ধরনের পর্যবেক্ষণ আছে: লবণ খনন ও বিনিময়, পথপ্রদর্শক, খাদ্য, আতিথ্য এবং মানসা সুলাইমানের দরবার। ইবন বতুতার তুলনায় কৌতূহল ও হতাশা দুটোই দেখা যায়। উপস্থিত থাকা মূল্যবান প্রমাণ, কিন্তু উপহার, শিষ্টাচার ও নারীদের আচরণ নিয়ে তাঁর বিচার নিজের প্রত্যাশায় প্রভাবিত। কোনো রীতির বিবরণ, নৈতিক মূল্যায়ন ও বাজারের বিনিময়সংক্রান্ত অনুমান একই ধরনের তথ্য নয়। তাঁর বিচারকে স্থানীয় মানুষের মত বা আধুনিক ইতিহাসবিদের সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়া যায় না।
মানসা মুসার ১৩২৪–১৩২৫ সালের হজ ও উৎসের নির্দেশিকা আগের রাজকীয় সফর পরীক্ষা করে। ইবন বতুতা মালি যান কয়েক দশক পরে, মুসার মৃত্যুর পর, ১৩৫২–১৩৫৩ সালে। তিনি কায়রোয় মুসার সোনা বিতরণের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না। মালি সফরের পর্যবেক্ষণ আর আগের হজের অন্য উৎসে থাকা বর্ণনা আলাদা রাখা জরুরি।
মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের ফুলবে জনগোষ্ঠীর হোদ্দু (hoddu) যন্ত্রের বিবরণে আল-উমারি ও ইবন বতুতার চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি সময়ের সংশ্লিষ্ট লিউটজাতীয় বাদ্যযন্ত্রের উল্লেখ আলোচিত হয়েছে। বস্তু ও তার গবেষণামূলক ব্যাখ্যা সংগীতের একটি ধারা বুঝতে সহায়তা করে। কিন্তু প্রদর্শিত যন্ত্রটি ইবন বতুতার ব্যক্তিগতভাবে বহন করা জিনিস বলা যায় না; তা পুরো যাত্রাপথও প্রমাণ করে না।
স্মৃতি থেকে রিহলার লিখিত রূপ
সফরগুলোর পরে সুলতান আবু ইনান বর্ণনা তৈরির নির্দেশ দেন এবং ইবন জুযাই লিখিত রূপ নিয়ে কাজ করেন। Tresso-এর আলোচনা ১৩৫৫ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্তি ও ১৩৫৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নথিবদ্ধ শেষ কাজকে আলাদা করে। এগুলো বই তৈরির তারিখ, বাড়তি কয়েক বছর ভ্রমণের তারিখ নয়। কথক ও সম্পাদকের কাজ ঠিক কোন অংশে কতখানি ছিল, তা পুরোপুরি ভাগ করা কঠিন।
পুরো শিরোনামটি সাধারণত ‘নগরের বিস্ময় ও ভ্রমণের আশ্চর্য নিয়ে ভাবেন যাঁরা, তাঁদের জন্য উপহার’ অর্থে অনূদিত হয়। সংক্ষিপ্ত ‘রিহলা’ শব্দের অর্থ যাত্রা বা ভ্রমণবৃত্তান্ত। এটি এমন সাহিত্যধারায় পড়ে যেখানে স্থানবর্ণনা, শিক্ষা, ধর্মীয় সফর, বিস্ময়কর ঘটনা ও স্মরণীয় সাক্ষাৎ এক বর্ণনায় থাকতে পারে। আধুনিক মাঠপর্যায়ের নোটবইয়ের মতো হওয়ার প্রত্যাশা করলে বইটির ধরন আড়াল হয়।
টিকে থাকা কাজ থেকে ভ্রমণের সময় ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নোটের সংগ্রহ পুনর্গঠন করা যায় না। কিন্তু তা থেকে তিনি কখনো নোট নেননি বলা চলে না। অজানা কাজের উপকরণ আর পাণ্ডুলিপি ও সংস্করণের মাধ্যমে টিকে থাকা পরবর্তী লিখিত বর্ণনা আলাদা করতে হয়। স্মৃতি, মৌখিক বর্ণনা, সম্পাদকের নির্বাচন ও অনুলিপি প্রত্যেকে ভিন্ন প্রশ্ন তৈরি করে।
কোনো বাক্য পরিপাটি হলেই সেটি ঘটনাস্থলে লেখা ছিল প্রমাণ হয় না। আবার সম্পাদনা হয়েছে বলে সব ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ মুছে গেছে, এমনও নয়। নির্দিষ্ট অংশে অভিজ্ঞতা, সাহিত্যিক বিন্যাস ও অন্য গ্রন্থের সম্পর্ক আলাদা করে দেখা দরকার।
পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণ প্রমাণের আলাদা স্তর
Charles Defrémery ও Beniamino Raffaello Sanguinetti-এর আরবি–ফরাসি সংস্করণ ১৮৫৩–১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। ফ্রান্সের জাতীয় গ্রন্থাগারের তালিকা ওই সংস্করণের ১৯৬৮ সালের প্রতিরূপ সংস্করণ নথিবদ্ধ করে। তাই প্রতিরূপের বছর ও মূল মুদ্রিত সংস্করণের বছর দুটোই জানাতে হবে। কোনোটি ইবন বতুতার যাত্রার শুরু বা বইয়ের প্রথম রচনার তারিখ নয়।
Tresso ওই সংস্করণের ইতিহাসে আলজেরিয়া থেকে সংগ্রহ করা পাঁচটি পাণ্ডুলিপি আলোচনা করেন। সংগ্রহের স্থান আর বর্তমান সংরক্ষণের স্থান এক কথা নয়। তিনি BnF Arabe 2291-এ ইবন জুযাইয়ের বলে মনে করা স্বাক্ষর এবং ১৩৫৬ সালের ফেব্রুয়ারির তারিখের উল্লেখ করেন। এখানে সেই গবেষণার আলোচনা ব্যবহার করা হয়েছে; মূল পাণ্ডুলিপি সরাসরি পরীক্ষা করা হয়েছে, এমন দাবি নয়।
সম্পাদকের সঙ্গে যুক্ত একটি পাঠসাক্ষ্য ও পরে তৈরি পূর্ণ অনুলিপির ভূমিকা আলাদা। প্রথমটি পাঠের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ; দ্বিতীয়টি অসম্পূর্ণ পুরোনো পাণ্ডুলিপিতে না থাকা অংশ বা ভিন্ন পাঠ সংরক্ষণ করতে পারে। শুধু পুরোনো পাণ্ডুলিপি আছে বলে প্রত্যেক বক্তব্যকে ভ্রমণের দিনের প্রত্যক্ষ নোট বলা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস গ্রন্থাগারের তালিকা আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগারের উপকরণ থেকে ডিজিটাল করা ১৯০৪ সালের আরবি মুদ্রিত সংস্করণ বর্ণনা করে। তালিকা সংস্করণ শনাক্ত করতে কাজে লাগে। ডিজিটাল প্রতিলিপি মূল পাণ্ডুলিপি নয়; এই নিবন্ধে শত শত আরবি পৃষ্ঠা সম্পূর্ণ মিলিয়ে দেখা হয়েছে বলাও হচ্ছে না। সংস্করণ তুলনা করার আগে ভাষা, অনুবাদক, নির্বাচিত অংশ, পৃষ্ঠাসংখ্যা ও সম্পাদকের টীকা লিখে রাখা দরকার। তবেই বোঝা যায় পার্থক্য মধ্যযুগীয় বিবরণে, অনুবাদে নাকি সম্পাদনায়।
ধার করা বিবরণ ও বিতর্কিত সফর আলাদাভাবে পরীক্ষা
Amikam Elad-এর গবেষণা যুক্তি দেয় যে ফিলিস্তিনের বিবরণের উল্লেখযোগ্য অংশ আগের পর্যটক al-Abdari-এর লেখা থেকে এসেছে। এটি নির্দিষ্ট পাঠগত সম্পর্কের যুক্তি। ফলে কোনো ভবন বা রীতির জন্য ওই বর্ণনাকে সব সময় দ্বিতীয় স্বাধীন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য বলা যায় না। কিন্তু এ থেকেই রিহলার সব সফর বা পর্যবেক্ষণ বানানো ছিল প্রমাণ হয় না।
ভলগা নদীর Bulghar সফরে অন্য ধরনের পরীক্ষা প্রযোজ্য। এই স্থান বর্তমান বুলগেরিয়া রাষ্ট্র নয়। Stephen Janicsek-এর ১৯২৯ সালের প্রবন্ধ বর্ণিত আলাদা সফরকে দূরত্ব, সময়, নদী পার হওয়া এবং প্রত্যাশিত বিবরণের অনুপস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে। তাঁর যুক্তি ওই সফরের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। অপরিচিত একটি নাম দেখেই সন্দেহ করার বদলে কয়েক ধরনের প্রমাণ একসঙ্গে ব্যবহার করার উদাহরণ এটি।
চীনের অংশ নিয়েও মতভেদ আছে। Elad-এর দৃশ্যমান টীকায় ভিন্ন গবেষকের অবস্থান উঠে আসে; একটিমাত্র নিষ্পত্তিকৃত সিদ্ধান্ত নয়। সামুদ্রিক যোগাযোগ ছিল কি না এবং লেখক দাবিকৃত প্রতিটি স্থানে নিজে পৌঁছেছিলেন কি না আলাদা প্রশ্ন। একটি আত্মবিশ্বাসী আধুনিক মানচিত্র কিংবা একটি অসংগত অংশ নির্দিষ্ট ঘটনা পরীক্ষার বিকল্প হতে পারে না।
| প্রমাণের ধরন | কী প্রতিষ্ঠা করতে পারে | একা কী প্রতিষ্ঠা করতে পারে না |
|---|---|---|
| বর্ণনায় থাকা যাত্রার তারিখ | শুরু সম্পর্কে বিবরণে স্পষ্টভাবে কী বলা হয়েছে | পরবর্তী সব তারিখের স্বাধীন নিশ্চয়তা |
| অন্য লেখা থেকে নেওয়া বর্ণনা | দুই লেখার সাহিত্যিক সম্পর্ক | ব্যক্তিগত ভ্রমণ একেবারেই হয়নি, এমন সিদ্ধান্ত |
| সম্ভাব্য জাহাজ বা কাফেলার পথ | যাত্রা কীভাবে ঘটতে পারত | এই যাত্রী প্রস্তাবিত প্রতিটি অংশ সত্যিই পেরিয়েছিলেন কি না |
| পাণ্ডুলিপির স্বাক্ষর বা শেষে লেখা বিবরণ | একটি নির্দিষ্ট পাঠসাক্ষ্যের ইতিহাস | আগের কয়েক দশকের সম্পূর্ণ ভ্রমণ-দিনলিপি |
এই সীমা নির্ধারণ বিতর্ক গোপন না করেও অন্য অংশের মূল্য বজায় রাখে। ধার করা লেখা পরীক্ষা করতে পাঠ তুলনা দরকার; চলার সময় পরীক্ষা করতে পথ ও ঘটনাক্রম তুলনা দরকার। প্রশ্নগুলো মিশিয়ে বইয়ের পুরো সত্য-মিথ্যা একবারে বিচার করলে বাস্তবে কোন প্রমাণ ব্যবহৃত হয়েছে বোঝা কঠিন হয়।
দূরত্ব ও আধুনিক দেশের সংখ্যা কীভাবে পড়বেন
প্রায় ৭৫,০০০ ইংরেজি মাইলের হিসাব Chism-এর অধ্যায়ের প্রকাশ্য সারাংশসহ আধুনিক গবেষণামূলক আলোচনায় আছে। এটি প্রায় ১,২০,০০০ কিলোমিটার এবং পুনর্গঠিত যাত্রার বিস্তার বোঝায়। মাপা গতিপথের নির্ভুলতা এতে নেই। বিতর্কিত সফর অন্তর্ভুক্ত করা, মধ্যযুগীয় স্থানের পরিচয় আলাদাভাবে নির্ধারণ করা বা পুনরাবৃত্ত যাত্রা ভিন্নভাবে গণনা করা মোট দূরত্ব বদলাতে পারে।
দেশ গণনায় আরও সমস্যা আসে। চতুর্দশ শতকের দরবার, নগর, অঞ্চল ও বাণিজ্যপথ আজকের সীমান্তের সঙ্গে মেলে না। তখনকার একটি রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক যোগাযোগজাল এখন কয়েকটি রাষ্ট্রে পড়তে পারে। ‘চল্লিশ দেশ ভ্রমণ করেছেন’ ধরনের হিসাব তুলনা করতে ব্যবহৃত মানচিত্র, গণনার নিয়ম ও বিতর্কিত স্থান কীভাবে নেওয়া হয়েছে জানাতে হবে। আধুনিক রাষ্ট্রের সংখ্যা তখনকার রাজনৈতিক এককের সংখ্যা নয়।
প্রমাণ যাচাই করা যায় এমন মানচিত্রে অপেক্ষাকৃত নিশ্চিত তারিখের স্থান, বিস্তৃতভাবে পুনর্গঠিত পথ ও বিতর্কিত সম্প্রসারণ চিহ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে আলাদা করা উচিত। বারবার সফর মুছে দেবেন না। মানচিত্র বইয়ের বর্ণনার ক্রম নাকি ইতিহাসবিদের সংশোধিত সময়ক্রম অনুসরণ করে, তা জানান। বাগদাদের মতো শহরে উত্তর দিকের চিহ্ন, নদী, স্কেল ও কোন যুগের এলাকা আঁকা হয়েছে সেটিও দেখুন। প্রথম গোল কেন্দ্রের সঙ্গে পরের মহল্লা একই সময়ের বলে দেখানো ঠিক নয়।
শ্রেণিকক্ষ বা লেখায় কোনো অংশ ব্যবহার করলে সংস্করণ ও পৃষ্ঠা উল্লেখ করুন। সেটি পর্যবেক্ষণ নাকি শোনা খবর, তা শনাক্ত করুন এবং কথকের মূল্যায়নকে ইতিহাসবিদের সিদ্ধান্ত থেকে আলাদা রাখুন। এতে রিহলা শুধু দূরত্বের রেকর্ড বা আশ্চর্য ঘটনার সংগ্রহে সীমিত থাকে না; কে, কোন পরিস্থিতিতে, কী বলেছেন—সেই প্রশ্ন নিয়ে পড়া যায়।
উৎস
নিচের উৎসগুলোর কাজ আলাদা। অনূদিত প্রাথমিক বিবরণ বইয়ে বলা অভিজ্ঞতা দেয়; গবেষণা বিশেষ অংশ পরীক্ষা করে; গ্রন্থাগার ও জাদুঘরের তালিকা সংস্করণ বা বস্তুর পরিচয় ও ব্যবহারের সীমা জানায়। কেমব্রিজের তিনটি গবেষণা প্রবন্ধ ও বইয়ের একটি অধ্যায় একই প্রকাশক থেকে এসেছে; এগুলোকে চারটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ধরে গণনা করা উচিত নয়।
- Ibn Battuta, Travels in Asia and Africa, 1325–1354, H. A. R. Gibb-এর অনুবাদ ও সম্পাদনা (১৯২৯), ফোর্ডহ্যামের মধ্যযুগীয় উৎসসংকলন: যাত্রার শুরু, পরিবর্তিত মিসরীয় পথ, বাগদাদ কাফেলার সহায়তা ও মালি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত প্রাথমিক বিবরণের নির্বাচিত অনুবাদ। এটি সম্পাদিত অনুবাদ, মধ্যস্থতাহীন মৌখিক বর্ণনার প্রতিলিপি নয়।
- Claudia Maria Tresso, “India's epidemics in the Riḥla of Ibn Baṭṭūṭa: plague, cholera or lexical muddle?”: ভূমিকা ও পাণ্ডুলিপির আলোচনা দিল্লির সময়কাল, বই তৈরির তারিখ এবং Arabe 2291 সম্পর্কে ব্যবহৃত হয়েছে। মূল গবেষণা মহামারিসংক্রান্ত শব্দের অর্থ নিয়ে; সব পথের যাচাই নিয়ে নয়।
- Amikam Elad, “The description of the travels of Ibn Baṭṭūṭa in Palestine: is it original?”: প্রকাশ্য অংশ al-Abdari থেকে নেওয়ার যুক্তি দেয়; দৃশ্যমান টীকা বিতর্কিত সফর নিয়ে ভিন্ন মত নথিবদ্ধ করে। অর্থের বিনিময়ে পাওয়া পুরো প্রবন্ধ পরীক্ষা করা হয়নি।
- Stephen Janicsek, “Ibn Battuta's Journey to Bulghar: Is it a Fabrication?” (১৯২৯), হাঙ্গেরীয় বিজ্ঞান একাডেমির গ্রন্থাগারের স্ক্যান: পুরো প্রবন্ধের দূরত্ব, সময় ও ভূগোলের যুক্তি এই নির্দিষ্ট সফর কেন বিতর্কিত তা ব্যাখ্যা করতে ব্যবহৃত হয়েছে। সিদ্ধান্ত পুরো বইয়ের ওপর আরোপ করা হয়নি।
- Christine Chism, “Ibn Battuta,” The Cambridge Guide to Global Medieval Travel Writing: প্রকাশ্য সারাংশ প্রায় ৭৫,০০০ মাইলের পুনর্গঠিত হিসাব ও বদলে যাওয়া সামাজিক পরিচয়ের ব্যাখ্যা দেয়। বইয়ের পুরো অধ্যায় পরীক্ষা করা হয়নি।
- ফ্রান্সের জাতীয় গ্রন্থাগার, Voyages d'Ibn Battûta তালিকা: ১৯৬৮ সালের প্রতিরূপ সংস্করণ ও ১৮৫৩–১৮৫৮ সালের আরবি–ফরাসি সংস্করণের সম্পর্ক শনাক্ত করে। গ্রন্থতালিকা মধ্যযুগীয় কোনো সফর স্বাধীনভাবে যাচাই করে না।
- কংগ্রেস গ্রন্থাগার, Ibn Battuta's Rihla: সরকারি তালিকা ১৯০৪ সালের আরবি মুদ্রিত সংস্করণ ও আলেকজান্দ্রিয়া গ্রন্থাগারের উৎস শনাক্ত করে। সাধারণ পৃষ্ঠা না খোলায় গ্রন্থাগারের সরকারি JSON মাধ্যমে তালিকা পড়া হয়েছে; পুরো আরবি বই মিলিয়ে দেখা হয়নি।
- মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট, “Hoddu (Xalam)”: বস্তুর ব্যাখ্যায় মধ্যযুগের সংশ্লিষ্ট লিউটজাতীয় যন্ত্রের উল্লেখ আলোচিত হয়েছে। বস্তুগত সংস্কৃতি তুলনার সীমা বোঝাতে ব্যবহৃত; প্রতিটি সফর বা ব্যক্তিগত মালিকানার প্রমাণ নয়।
- ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস, David Waines, The Odyssey of Ibn Battuta: প্রকাশকের পরিচিতি ও সূচি ভ্রমণ, আতিথ্য ও বর্ণনাকারীর বিশ্বদৃষ্টির আধুনিক গবেষণা পরিচয় করায়। আরও পড়ার নির্দেশিকা; এই নিবন্ধের জন্য পুরো বই পড়া হয়নি।